)
Nepal flood compensation: নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, “আমি নিজে, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রক কিংবা নেপাল সরকারের কোনও প্রতিনিধি ভারত, চিন ও আমেরিকার মতো অন্য কোনও দেশের কাছে কোনও ক্ষতিপূরণ দাবি করিনি।”
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে বিধ্বংসী বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ভারতের কাছে কোনও ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়নি ভারতের কাছে। স্পষ্ট জানালেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বন্যার কারণে জলবায়ুগত পরিবর্তনজনিত ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে ভারত-সহ ৩ দেশের কাছে। বৃহস্পতিবার এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। যে খবর সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাঠমান্ডুর পক্ষ থেকে ভারত, চিন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- কোনও দেশের কাছেই কোনও প্রকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়নি।
সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, “আমি নিজে, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রক কিংবা নেপাল সরকারের কোনও প্রতিনিধি ভারত, চিন ও আমেরিকার মতো অন্য কোনও দেশের কাছে কোনও ক্ষতিপূরণ দাবি করিনি।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, নেপাল সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হল এই ভয়াবহ বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের ছোট ছোট দেশগুলো যেভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও অনিয়মিত আবহাওয়ার ফলে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেদিকেই বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছে কাঠমান্ডু।
বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত, চিন ও নেপাল একই হিমালয় ইকো সিস্টেমের অংশীদার। বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই তিনটি দেশই সমানভাবে চরম পরিবেশগত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। তাই কোনও প্রকার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে না গিয়ে, বিপদের হাত থেকে যৌথভাবে মানব সভ্যতাকে রক্ষা করতে হবে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ভারত, চিন ও নেপাল-সহ গোটা বিশ্কে একজোট হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি দুর্যোগের পর মুহূর্ত থেকেই দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি উদ্ধারসামগ্রী পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিশির খানাল। তিনি বলেন, দুর্যোগের পর পরই ভারত নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়। ২৬ অগাস্ট-ই ভারতের প্রথম ত্রাণবাহী বিমান ১০ টন জরুরি আশ্রয়সামগ্রী, কম্বল ও ওষুধ নিয়ে নেপালে পৌঁছায়। এর পর ২৭ আগস্ট আরও ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী-সহ দ্বিতীয় বিমান পাঠানো হয়। পরবর্তীতে একাধিক দফায় মোট পাঁচটি বিমানে জেনারেটর, সোলার ল্যাম্প, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ওয়াটার পাম্প, ওষুধ এবং ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দলও পাঠিয়েছে ভারত।
প্রসঙ্গত, নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১,২৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ ৪০০০-এরও বেশি মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এখনও জোরকদমে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও পুনর্বাসন অভিযান চলছে। বিপর্যয়ের ৯ দিন পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ২ জন শ্রমিক। যা মিরাক্যল-ই বটে। তবে এই উদ্ধার অভিযান-ই এখন আশার আলো দেখাচ্ছে বিপর্যস্ত বিধ্বস্ত নেপালে।
(Feed Source: zeenews.com)
