
IND vs PAK: নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের জনপ্রিয় বহুদেশীয় টুর্নামেন্টগুলো পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় আইসিসি। সেখানে সাক্ষাৎ হতে পারে ভারত-পাকিস্তানের।
রাজনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে ২২ গজে ফের ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিতে চলেছে আইসিসি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে মুখোমুখি করতে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, বরং একটি ত্রিদেশীয় বা চতুর্দেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। আগামী ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে আয়োজিত আইসিসির বিশেষ সেমিনারে ২০২৭-২০৩১ সালের ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনার সময়েই এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
আইসিসির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজের চেয়ে বহুদেশীয় বা মাল্টি-নেশন টুর্নামেন্টগুলি বাণিজ্যিক দিক থেকে অনেক বেশি লাভজনক। নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০-এর দশকের শুরুতে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টগুলি দর্শকদের মধ্যে প্রচণ্ড জনপ্রিয় ছিল। আইসিসির বিশ্বাস, ভারত ও পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিদেশীয় বা চতুর্দেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা গেলে সেখান থেকে সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ বাবদ বিপুল পরিমাণ আয় অর্জন সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই দেশ শেষবার ২০১৩ সালে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল এবং ২০০৮ সালের পর কোনো বহুদেশীয় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে অংশ নেয়নি। বর্তমানে কেবল বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো টুর্নামেন্টেই তাদের সাক্ষাৎ হয়। তাই বিসিসিআই ও ভারত সরকারের অবস্থানকে সম্মান জানিয়েই এই বিকল্প পথের কথা ভাবছে আইসিসি।
ভারত ও পাকিস্তানের ভৌগোলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ম্যাচগুলি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি, ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়াকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে। বিসিসিআই ও পিসিবি-র চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ কেবল নিরপেক্ষ ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই একে অপরের মুখোমুখি হতে সম্মত রয়েছে, তাই এই বিকল্প স্থানগুলিকেই উপযুক্ত মনে করা হচ্ছে।
তবে আইসিসির এই প্রস্তাবে বিসিসিআই এবং ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ এশিয়া কাপে ঘটে যাওয়া চরম অনভিপ্রেত ঘটনার পর দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের পারদ আরও নিম্নমুখী হয়েছে। সেই টুর্নামেন্টে জয়ী ভারতীয় দল পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করায় ট্রফি বাজেয়াপ্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছিল এবং দু’দলের খেলোয়াড়দের হ্যান্ডশেক করার ঐতিহ্যও বন্ধ হয়ে যায়।
ভারত সরকার বরাবরই আইসিসি বা এসিসি-র মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার অনুমতি দিলেও কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সুযোগ রাখেনি। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রিদেশীয় বা চতুর্দেশীয় টুর্নামেন্টকে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান মনে করা হলেও, নয়াদিল্লির সবুজ সংকেত ছাড়া যে এটি বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
(Feed Source: news18.com)
