
Siliguri News: একদিকে জীবিকার তাগিদে আইসক্রিম বিক্রি, অন্যদিকে গলায় গান—শিলিগুড়ির রাস্তায় এমনই এক অন্যরকম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ২৫ বছরের কৃষ্ণ রায়। আর্থিক অনটন তাঁর পড়াশোনার পথ থামিয়ে দিলেও থামাতে পারেনি গানের প্রতি ভালোবাসা। প্রতিদিন আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়েন তিনি। আর সেই গাড়িই হয়ে ওঠে তাঁর স্বপ্নপূরণের ছোট্ট মঞ্চ।
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: একদিকে জীবিকার তাগিদে আইসক্রিম বিক্রি, অন্যদিকে দরাজ গলায় গান, শিলিগুড়ির রাস্তায় এমনই এক অন্যরকম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ২৫ বছরের কৃষ্ণ রায়। আর্থিক অনটন তাঁর পড়াশোনার পথ থামিয়ে দিলেও থামাতে পারেনি গানের প্রতি ভালোবাসা। প্রতিদিন আইসক্রিমের গাড়ি নিয়ে পথে বেরিয়ে পড়েন কৃষ্ণ। আর সেই গাড়িই হয়ে ওঠে তাঁর স্বপ্নপূরণের ছোট্ট মঞ্চ।
ময়নাগুড়ির বাসিন্দা কৃষ্ণের পরিবারে রয়েছেন মা-বাবা ও ভাই। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে অষ্টম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। সংসারের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন কাজ, পরে শিলিগুড়ির একটি আইসক্রিম কারখানায় কাজের সুযোগ পান কৃষ্ণ। তবে কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও ছোটবেলা থেকে ভালোবাসা গানকে কখনও নিজের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেননি।
কাজ করতে করতেই একদিন নিজের মনের ইচ্ছের কথা কারখানার মালিককে জানান কৃষ্ণ। আইসক্রিম বিক্রির পাশাপাশি গান গেয়ে মানুষের মনোরঞ্জন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কৃষ্ণের সেই স্বপ্নের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়ান মালিক। একটি বক্স ও মাইক তুলে দেন তাঁর হাতে, এরপর থেকেই আইসক্রিমের গাড়িতে মাইক নিয়ে শিলিগুড়ির বিভিন্ন রাস্তায় গান গেয়ে চলেছেন কৃষ্ণ।
কৃষ্ণ রায়ের কথায়, “ছোটবেলা থেকেই গান গাইতে খুব ভালোবাসি। আর্থিক সমস্যার কারণে গান শেখা বা নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আইসক্রিম বিক্রি করার পাশাপাশি গান গাই। মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাকে আরও এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেয়। ভবিষ্যতে গানকেই নিজের পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”
শিলিগুড়ির রাস্তায় আইসক্রিম বিক্রি করতে করতে যখন কৃষ্ণ গান ধরেন, তখন অনেক পথচারী ও ক্রেতাই দাঁড়িয়ে তাঁর গান শোনেন। কারও কাছে তিনি আইসক্রিম বিক্রেতা, আবার কারও কাছে স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে লড়াই করে চলা এক তরুণ শিল্পী। অভাবের কাছে হার না মেনে জীবিকার পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার কৃষ্ণের এই লড়াই যেন প্রমাণ করে—সুযোগ না থাকলেও ইচ্ছেটা বেঁচে থাকলে স্বপ্নের পথ কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না।
(Feed Source: news18.com)
