India-Russia Relations : “ভারতের যত তেল প্রয়োজন আমরা দিতে প্রস্তুত”, আমেরিকার ‘শুল্ক-চাপের’ তোয়াক্কাই করল না এই ‘বন্ধু রাষ্ট্র’

India-Russia Relations : “ভারতের যত তেল প্রয়োজন আমরা দিতে প্রস্তুত”, আমেরিকার ‘শুল্ক-চাপের’ তোয়াক্কাই করল না এই ‘বন্ধু রাষ্ট্র’

 

নয়াদিল্লি : বরাবর ভারতের ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র। ‘প্রতিকূল’ পরিস্থিতিতে বারবার ভারতের পাশে থেকেছে। আমেরিকার শুল্ক-চাপের মুখেও ভারতের তেলের চাহিদা মেটানোর কথা বলেছে রাশিয়া। এবার দিল্লিতে রাশিয়ার দূত ডেনিস আলিপভ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ভারতের “যত তেল প্রয়োজন” ততটাই দিতে প্রস্তুত রাশিয়া।

নয়াদিল্লি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনায় শুল্ক-হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প-প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় রাশিয়ার দূত আমেরিকার “চাপ দেওয়ার কৌশলের” নিন্দা করেছেন। পাশাপাশি এও জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতকে তেল বিক্রি করতে প্রস্তুত রাশিয়া।

তাঁর কথায়, “ভারতের যতটা তেল প্রয়োজন আমরা ততটাই দিতে প্রস্তুত। দুর্ভাগ্যবশত, যারা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করে, তারা আন্তরিক সহযোগিতার পরিবর্তে চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে; আর এর ফলেই ওই দেশগুলির পক্ষে তেলের ক্ষেত্রে ভারতের কাছে আমাদের চেয়ে ভাল কোনও প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

ইউক্রেন যুদ্ধে ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার তেল বিক্রি বন্ধ করার জন্যও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ তেল কেনার জন্য আমেরিকা সাময়িক ছাড় দিলেও, সেনেটে একটি বিল পেশ করা হয়েছে যার আওতায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনপুষ্ট এই বিলটি পাস হলে ট্রাম্প অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া এই বিলের প্রভাব ভারত, চিন ও তুরস্কের মতো দেশগুলির ওপরও পড়বে।

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কারণে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তারমধ্যেই দিনকয়েক আগে ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা নিরসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৫ সালে কিছুটা কমে যাওয়ার পর এ বছর আবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে । তিনি জানান যে, রাশিয়া ভারতে সার সরবরাহ বাড়াচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইআরআইজিসি-টিইসি (IRIGC-TEC) বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এর মধ্যে বিষয় কেবল জ্বালানি নয়- অবশ্যই সার সরবরাহও… ভারতীয় কৃষক ও কৃষিখাতের স্বার্থে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা এই সরবরাহ বৃদ্ধি করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।”