)
Anaya Bangar: পেশাদার ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাওয়ার পর অনয়া বাঙ্গার জানিয়েছেন যে, তাঁর একাকী লড়াই কী কঠিনই না ছিল! ব্রিটেনে টিকে থাকার তাগিদেই পরের পর পদক্ষেপ
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া উইমেন’স বিগ ব্যাশ লিগে খেলার জন্য অনয়া বাঙ্গারের যোগ্যতা অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। তাঁর পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন আবারও নতুন করে জ্বালানি পেয়েছে। ভারতের প্রাক্তন ব্যাটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়া জানিয়েছেন যে, একসময় তিনি পেশাদার ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে আশেপাশের মানুষের সমর্থন ও তাঁকে যেভাবে সবাই আপন করে নিয়েছে, তা তাঁকে সেই বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সাহায্য় করেছে, যে তিনিও পারেন। নিজের কেরিয়ারের নতুন অধ্যায় শুরুর আগে অনয়া ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। অনয়া চান ভবিষ্যতে ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে। এই একটা স্বপ্নই তাঁর ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে অনয়ার বার্তা
বিসিসিআইয়ের থেকে তাঁর অনেক প্রত্যাশা। অয়না আশা করেন, বোর্ড এমনই সব নীতিমালা প্রণয়ন করবে যা তাঁর মতো ক্রীড়াবিদদের নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে। সব ভারতীয় ক্রিকেটারের মতো তিনিও দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অয়না বলেন, ‘আমি শুধু আশা করি বিসিসিআই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং এমনই এক নীতিমালা তৈরি করবে যা মেয়েদের খেলাধুলোর ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও সম্মানজনক হবে। আমি একদিন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চাই—এটাই আমার লক্ষ্য। দেশের জন্য বড় কোনও সাফল্য অর্জন করাই আমার স্বপ্ন। এই যাত্রাপথ অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমাকে কেবল সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই নয়, বরং পরিবারের ভিতর থেকেও নানা ধরনের বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। আমি নামমাত্র সাহায্য পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু পুরো যাত্রাপথ জুড়েই কখনও মনে হয়নি যে আমি পুরোপুরি সমর্থন বা সহযোগিতা পাচ্ছি।’
ড্রেসিংরুমই তাঁকে বাঁচিয়েছে একটা সময়ে
বেঁচে থাকার জন্য অনয়াকে ব্রিটেনের বিভিন্ন ক্রিকেট ড্রেসিংরুমে থাকতে হয়েছিল। এরপর তিনি নিজের রূপান্তরের প্রক্রিয়ার খরচ জোগাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হওয়ার এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রসঙ্গে অনয়া বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন শুধু টিকে থাকার জন্য আমাকে ব্রিটেনের ড্রেসিংরুমগুলিতে থাকতে হয়েছে এবং নিজের খরচ নিজেই চালিয়েছি। প্রায় পাঁচ মাস আমাকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর নিজের ভরণপোষণ ও অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার সিদ্ধান্ত নিই। আমি সেটাই করলাম—বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলাম। সেই সময়েই আমার প্রথম কয়েকটি অস্ত্রোপচার এবং লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধাপগুলিও সম্পন্ন করলাম। সত্যি বলতে এই পুরো যাত্রা পথ ছিল অত্যন্ত নাটকীয় ও কঠিন। একাকীত্ব ও কঠোর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে, তবে এই নির্জনতাই আমাকে অনেক সাহায্য় করেছে। আর এর ফলেই আমি আজ এত আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছি।’ অয়না বুঝিয়েই দিলেন যে, একাকীত্বই তাঁকে লড়াইয়ে সব রসদ দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
