
Delhi Building Collapse: তবে এফআইআরে করা অভিযোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল এবং দুর্ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী।
দিল্লি: দিল্লির সত্য নিকেতনে বহুতল ভবন ভেঙে পড়ে একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এফআইআরে। পুলিশের দাবি, ভবনটির কয়েক দশক পুরনো ভিত্তি অতিরিক্ত ভার বহন করার মতো অবস্থায় ছিল না—এ কথা মালিকপক্ষ জানত। তা সত্ত্বেও ভাড়া থেকে আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভবনটিতে অতিরিক্ত চারটি তলা নির্মাণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
News18-এর হাতে আসা এফআইআর অনুযায়ী, ভবনের মালিক হরি রাম বনসাল ওরফে গুপ্তা এবং তাঁর ভাই পুরনো ভিত্তির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তারপরও তাঁরা ভবনের উপর আরও চারটি তলা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ পুলিশের। অতিরিক্ত নির্মাণের ফলে ভবনের কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে—এমনটা জানা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চালানো হয়েছিল বলে এফআইআরে উল্লেখ রয়েছে। পুলিশের দাবি, ভবনটির অতিরিক্ত তলাগুলি মূলত ভাড়া দিয়ে আয় করার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। পরে ওই ভবনে ‘HostelDaze’ নামে একটি পেইং গেস্ট পরিষেবা চালানো হচ্ছিল। গ্রাউন্ড ফ্লোরের পাশাপাশি চারটি উপরের তলা নিয়ে তৈরি ভবনটিতে বহু ছাত্রছাত্রী এবং অন্যান্য আবাসিক থাকতেন। আচমকাই ভবনটি ভেঙে পড়ে।
এফআইআরে অভিযোগ করা হয়েছে, মালিক জানতেন যে পুরনো ভিত্তি অতিরিক্ত ওজন বহন করতে সক্ষম নয়। অতিরিক্ত ভারের কারণে ভবনটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে—এই আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত থাকার পরও অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। ঘটনায় FIR নম্বর 153/2026 দায়ের হয়েছে। রবিবার রাতে দক্ষিণ ক্যাম্পাস থানায় ASI প্রফুল্ল টোপ্পোর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ২৯০ এবং ১২৫(এ) ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১০৫ ধারা অনিচ্ছাকৃতভাবে হত্যার পর্যায়ে না-পড়া দোষযোগ্য নরহত্যা, ২৯০ ধারা ভবন নির্মাণ বা মেরামতে গাফিলতি এবং ১২৫(এ) ধারা জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার মতো কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ই এফআইআর সামনে আসার পরই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ভবনটির পুরনো ভিত্তি যদি অতিরিক্ত ভার বহনের উপযুক্ত না-ই হয়ে থাকে, তাহলে কীভাবে সেখানে চারটি অতিরিক্ত তলা নির্মাণের অনুমতি মিলল? নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও সরকারি অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, কোনও কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনও আধিকারিক এই নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন কি না—এখন তদন্তে সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখবে পুলিশ। এদিকে, ঘটনার পর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক ভবন নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সত্য নিকেতন এলাকায় ভবন ধসের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
(Feed Source: news18.com)
