
কর্মী জানান, কোম্পানি থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল অন্য ডেভেলপারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বা কেটি (KT) দেওয়া, যা গুগল মিটের মাধ্যমে অনলাইনেই সম্পন্ন হয়।
কলকাতা: চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়া এমনিতেই একটি চাপের অভিজ্ঞতা হতে পারে। কিন্তু এক কর্মীর ক্ষেত্রে নোটিস পিরিয়ড চলাকালীন তাঁকে অফিসে ফিরে আসতে বলা হলে পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে। ওই কর্মী প্রশ্ন তোলেন, যখন তাঁর বর্তমান দায়িত্ব মূলত অন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তখন আদৌ কর্মস্থলে গিয়ে রিপোর্ট করার প্রয়োজন আছে কি না।
“I got laid off serving notice period, don’t wanna go office anymore, should I negotiate WFH further if HR say no?” শিরোনামে একটি Reddit পোস্টে ওই ব্যক্তি HR-এর সঙ্গে তাঁর চ্যাট শেয়ার করেন। কথোপকথনের শুরুতে এইচআর কর্মীকে অফিস থেকে কাজ শুরু করতে বলেন, যাতে KT (Knowledge Transfer Session) প্রক্রিয়াটি আরও সহজ হয়।
তবে কর্মী এর বিরোধিতা করে জানান, KT সেশন ইতিমধ্যেই গুগল মিটের মাধ্যমে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিন্তু ম্যাম, KT তো আমি এমনিতেই গুগল মিটে দিই, অফিসে এসেও তাই দেব। তাই আমি অনুরোধ করতে চেয়েছিলাম, আমার শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত যদি আমি WFH চালিয়ে যেতে পারি।”
এর জবাবে এইচআর সরাসরি বলেন, ‘না’:
কর্মী বিষয়টি সেখানেই মেনে নেননি। বরং তিনি HR-কে জানান যে, তিনি যেহেতু ইতিমধ্যেই নোটিস পিরিয়ডে রয়েছেন এবং তাঁর একমাত্র দায়িত্ব KT (Knowledge Transfer) দেওয়া, তাই তাঁর শারীরিকভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, “অফিসে আমার শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকার কোনও অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা আমি দেখছি না। KT গুগল মিটের মাধ্যমে হচ্ছে এবং আমি অফিসের কোনও জিনিসপত্র ব্যবহার করছি না।”
ইন্টারনেটের পরামর্শ, কর্মীকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার:
ওই পোস্টটি অফিসের সংস্কৃতি নিয়ে একটি আলোচনার সূত্রপাত করেছে। কেউ কেউ প্রশ্ন করেছেন, যদি ওই কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়ে থাকে, তাহলে তাঁকে কেন নোটিস পিরিয়ডে কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ তাঁকে কেটি (KT)-র জন্য পারিশ্রমিক দাবি করার অথবা অফিস থেকে কাজ করার নির্দেশটি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন।
একজন ইউজার বলেন, “ছাঁটাই হওয়ার পর কাউকে নোটিস পিরিয়ড সার্ভ করতে দেখিনি।”
আর একজন লেখেন, “আমার কোম্পানিতে কেউ পদত্যাগ করার পরই নোটিস পিরিয়ড চলাকালীন অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। বেশি হলে কী-ই বা করবে? কোনও একটা অজুহাত বানিয়ে নিন।”
এক ব্যক্তি পরামর্শ দেন, “তাদের KT সেশনের জন্য টাকা দিতে বলুন। আমার মনে হয় তারা আপনাকে ৩ মাসের নোটিসের সুযোগ দেয়নি, অথচ আপনি এসব করছেন। আপনি যদি আমার বন্ধু হতেন, তাহলে আমি সোজাসুজি আপনাকে বলতাম, যেটা বেশিরভাগ দিল্লির মানুষ একে অপরকে বলে।”
অন্য একজন নিজের মতামত জানিয়ে বলেন, ‘‘বোঝান যে এই সময়টা আপনার পরবর্তী চাকরি খোঁজার জন্য সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা দরকার, বিশেষ করে এই মুহূর্তে চাকরির বাজারের পরিস্থিতি কতটা কঠিন, তা বিবেচনা করে। আপনাকে কিছুটা সমঝোতা করতে হতে পারে। আপোস হিসেবে আপনি প্রতিদিন অফিসে আসার পরিবর্তে সপ্তাহে ২-৩ দিন অফিসে আসার প্রস্তাব দিতে পারেন।’’
(Feed Source: news18.com)
