)
দিল্লির কালকাজি মন্দিরে জন্মদিনে পুজো দিতে গিয়ে পরে আস্তা কুঞ্জ পার্কে গিয়েছিল ১৭ বছরের এক কিশোরী। পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, সেখানে তিন যুবক নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে তাকে ও তার বন্ধুকে ভয় দেখায়। অস্ত্র দেখিয়ে বন্ধুকে আলাদা করার পর তিন জনের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তিন অভিযুক্তই গ্রেফতার হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জন্মদিনটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। ১৭ বছরের কিশোরী গিয়েছিল কালকাজি মন্দিরে পুজো দিতে। পরে ইস্কন মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু মন্দির থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ দিল্লির আস্তা কুঞ্জ পার্কে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে পুলিসের কাছে দেওয়া বয়ানে অভিযোগ করেছে কিশোরী। অভিযোগকারিনীর বয়ানে, ২১ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনে বিকেল ৫টার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কিশোরী। তার সঙ্গে ছিল ১৭ বছরের এক বন্ধু। প্রায় ৫টা ৪৫ মিনিটে তারা কালকাজি মন্দিরে পৌঁছয় এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেখানে ছিল। এরপর দু’জনে চিপস ও জল কিনে আস্তা কুঞ্জ পার্কে ঢোকে। পুলিসকে কিশোরী জানিয়েছে, ইস্কন মন্দিরে যাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পার্কে বসে খাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তাঁরা গেট নম্বর ৭ দিয়ে পার্কে ঢোকে।
কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী, পার্কে বসার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিন যুবক তাঁদের কাছে আসে। তাঁদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে সে। অভিযোগ, ওই তিন জন প্রথমে তার বন্ধুকে ধরে চড় মারে। তাঁরা কারা জানতে চাইলে নিজেদের পুলিসকর্মী বলে পরিচয় দেয় এবং পার্কে কেন এসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করে। কিশোরীর দাবি, এরপর তাঁকে ও তাঁর বন্ধুকে আলাদা করে দেওয়া হয় এবং তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়।
অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ
পুলিসের কাছে দেওয়া বয়ানে কিশোরী দাবি করেছে, এক অভিযুক্ত অন্য এক জনকে বন্দুক বার করতে বলে। এরপর কালো রঙের একটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয় বলে অভিযোগ। পরে ছুরি দেখিয়ে তাঁকে পার্কের অপেক্ষাকৃত নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে বয়ানে উল্লেখ রয়েছে। কিশোরীর অভিযোগ, সেখানে তিন জনই পরপর তাঁকে যৌন নির্যাতন করে। তাঁকে চুপ থাকার জন্য ভয় দেখানো হয় বলেও পুলিশের কাছে দাবি করেছে সে।
ঘটনার পর কী হয়?
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্তরা কিশোরীকে পোশাক পরতে বলে এবং তার বন্ধুকে ফের তার কাছে নিয়ে আসে। দু’জনের মোবাইল ফোনও ফেরত দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের দ্রুত পার্ক থেকে চলে যেতে বলা হয় এবং কাউকে কিছু জানালে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে কিশোরী পুলিসকে জানিয়েছে। পার্ক থেকে বেরিয়ে কিশোরী তার বন্ধুকে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর ওই বন্ধু পুলিস কন্ট্রোল রুমে ফোন করে। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং তদন্ত শুরু করে।
তিন অভিযুক্তই গ্রেফতার
এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন জন—আসিফ, হেমন্ত এবং মুকেশকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিস। এর মধ্যে আসিফকে ধরতে গিয়ে পুলিসের সঙ্গে গুলির লড়াই হয়েছিল বলে জানিয়েছে। ওই ঘটনায় আসিফের পায়ে গুলি লাগে। পরে অন্য দুই অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় POCSO আইনের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা হয়েছে। পুলিস CCTV ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
