ভয়ঙ্কর ঘটনা ! চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছুড়ে এলোপাথাড়ি মার কুস্তিগীরকে, রাস্তাতেই মৃত্যু

ভয়ঙ্কর ঘটনা ! চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছুড়ে এলোপাথাড়ি মার কুস্তিগীরকে, রাস্তাতেই মৃত্যু

 

উত্তরপ্রদেশে ভয়ঙ্কর ঘটনা। প্রতিহিংসার বলি হলেন কুস্তিগীর। অভিযোগ, রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে খুন হয়ে গেলেন  ৩৫ বছর বয়সী কুস্তিগীর। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। অভিযুক্ত ধৃত অভিমন্যু যাদব, অজয় ​​যাদব, রামস্বরূপ যাদব, সঞ্জয় যাদব এবং রাকেশ যাদব, সকলেই ভক্তান গোসাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে খবর , গত মঙ্গলবার কুস্তিগীর ব্রহ্মানন্দ যাদব নিজের মোটরসাইকেলে চেপে গিধিনি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ওই কুস্তিগীর। তখনই একদল ছেলে তাঁকে রাস্তায় আটকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রাকেশ যাদবের বাড়ির কাছে আটকানো হয় ব্রহ্মানন্দকে। তিনি গাড়ি থামাতেই চোখে লাল লঙ্কার গুঁড়ো ছুঁড়ে মারা হয়। তারপর  বাঁশ  ও কুড়ুল দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করে বাকিরা। রক্তাক্ত আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে কাতরাতে থাকেন তিনি। পথচারীরা তাঁকে দেখতে পেয়ে  ব্রহ্মানন্দকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।  চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন । পুলিশ জানিয়েছে,অভিযুক্তদের কাছ থেকে ব্যবহৃত চারটি বাঁশের লাঠি, একটি লোহার কোদাল ও লাল লঙ্কার গুঁড়ো উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার সন্দীপ কুমার মীনা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে পুরনো শত্রুতা ছিল। তারা ব্রহ্মানন্দকে হত্যা করে আসন্ন গ্রাম প্রধান নির্বাচনে তার ভাই রামাকান্ত যাদবকে হারানোর পরিকল্পনা করেছিল।

কুস্তিগীর ব্রহ্মানন্দ যাদবের হত্যাকাণ্ডের পর, তাঁর আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবিতে পথে নামেন। দেহের ময়নাতদন্ত করাতেও রাজি হননি তাঁরা।  কুস্তিগীরের আত্মীয়রা দাবি করেন, অভিযুক্ত গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে না। এরপর আত্মীয়রা মরদেহ নিয়ে খলিলাবাদ বাইপাসে যান। সেখানে তারা মরদেহটি রাস্তার ওপর রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবি জানান। এরফলে এলাকায় প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে এএসপি সুশীল কুমার সিং, খলিলাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রিয়ম রাজশেখর পান্ডে, কোতোয়ালি থানার ইনচার্জ জয় প্রকাশ দুবে পুলিশ ফোর্স সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।এএসপি সুশীল কুমার সিং প্রায় ২০ মিনিট ধরে আত্মীয়দের সঙ্গে কথাবার্তা  বলেন। তিনি অভিযুক্তের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন। তারপর তাঁরা দেহের ময়নাতদন্তের জন্য সম্মতি দেন। মরদেহটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।