
পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম…। চলতি বছরে ভোট হওয়া এই ৪ রাজ্য় ও ১ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল, পুদুচেরির নির্বাচনে, বিজেপি মোট খরচ করেছে ৫২৯ কোটি টাকা। যার মধ্য়ে প্রায় ২৮৭ কোটি টাকা খরচ করেছে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই! সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে এই তথ্য় জমা দিয়েছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই খরচের নিরিখে অন্য়ান্য় দলের চেয়ে অনেক ওপরে রয়েছে পদ্ম শিবির! পরিসংখ্য়ান বলছে, এই টাকার মধ্য়ে শুধু প্রচার খাতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি খরচ করেছে ২১৭ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা। তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য় হল, এর মধ্য়ে একটা বড় অঙ্ক খরচ করা হয়েছে সোশ্য়াল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা নেটপ্রভাবীদের পিছনে!
নেটপ্রভাবীদের টাকা দিয়ে প্রচার বিজেপির? কী বলছে বিরোধীরা?
এই বিষয়ে কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘একটা জিনিস স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে কিছু লোককে টাকা দিয়ে একটা ম্য়ানুফ্য়াকচার্ড ন্য়ারেটিভ তৈরি করতে চেয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ম্য়ানুফ্য়াকচার্ড ন্য়ারেটিভ অর্থাৎ ওরা পয়সা দিয়ে কিছু ইউটিউবার বা সোশাল মিডিয়াকে প্রভাবিত করবে, তার পিছনে থাকবে টাকার খেলা, সেখানে এমন কিছু কনটেন্ট তৈরি হবে।’ পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে মুখপাত্র ঋজু দত্ত বলেছেন,’যদি ন্য়ারেটিভ বিল্ড করা, ইউটিউবারদের টাকা দিয়ে নিজেদের ইলেকশনে ফায়দা করিয়ে দেওয়া খারাপ হয় তাহলে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মানে প্রাক্তন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস যার নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং সেনাপতির নাম অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় তারাও ধোওয়া তুলসীপাতা নয়।’
নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া বিজেপির তথ্য়ে নাম রয়েছে সায়ক চক্রবর্তীর। সোশাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে তিনি পরিচিতি। বিধানসভা ভোটের ২ মাস আগে, তাঁর এই ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়! জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে সায়ক অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তিনি মাটন স্টেক অর্ডা করেছিলেন কিন্তু না বলে তাঁকে বিফ স্টেক সার্ভ করা হয়। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘সায়ক চক্রবর্তী আড়াই লাখ! সায়ক চক্রবর্তী মানে অলিপাবে নাটক করল। কেন আমায় এই মাংস দেওয়া হয়েছে! আমি ব্রাহ্মণ সন্তান। একটা গরিব ওয়েটার, চাকরি করে, তাঁকে গ্রেফতার করিয়ে দিল। সেই লোকটা আড়াই লাখ পেয়েছে বিজেপির অ্য়াকাউন্ট থেকে! শমীক অধিকারী, ১৩ লাখ। প্রিয়বন্ধু মিডিয়া, শুদ্ধশীল ঘোষ, ৫১ লাখ টাকা! কী করলেন ভাই! ৫১ লাখ টাকা! কী করলেন! ৫১ লাখ টাকা বিজেপির কাছ থেকে নিলেন, কী করলেন!’
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া বিজেপির তথ্য় নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল নেটপ্রভাবী সায়ক চক্রবর্তী এবং শমীক অধিকারীর সঙ্গে। কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুদ্ধশীল ঘোষকে মেসেজ করা হলে তিনি জানান, তিনি শহরে নেই। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া বিজেপির তথ্য় অনুযায়ী, ২৮৭ কোটি টাকা তারা শুধু খরচ করেছে পশ্চিমবঙ্গে! টাকা খরচের লড়াইতে তুলনায় বহু পিছিয়ে ছিল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪২ কোটি ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিলন রাহুল গাঁধীরা। ৮ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ করে সিপিএম। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলছেন, ‘এটা যেটা বলছে ২৬৭ কোটি না কী, এটা কো একটা পি-নাট, মানে বাদামভাজা। অনেক অনেক কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে বিজেপি পার্টি। ক্ষমতায় আসার পর সব থেকে বেশি ইলেক্টোরাল বন্ডে টাকা তুলেছে।’ তবে, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কত অর্থ ব্যয় করেছিল সেই সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের কাছে এখনও জমা পড়েনি।
(Feed Source: abplive.com)
