
SRFTI-তে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত এবং পড়ুয়াদের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “একটার পর একটা ক্যাম্পাসে ঢুকে বিজেপি এভাবে আক্রমণ করবে এবং পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। ছাত্রদের নিরাপত্তার দিকটি দেখতে হবে কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য সরকারকে।” SRFTI কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনও বিবৃতি দেননি। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই মুখ খুলেছেন অনুরাগ। (Anurag Kashyap)
রবিবারের ঘটনায় SRFTI স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফে জারি করা বিবৃতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পেজে তুলে ধরেন অনুরাগ। তাতে তিনি লেখেন, ‘এই কারণেই বাংলায় ভোট চুরি করেছে ওরা। এটা এবং আরও অনেক কিছু’। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ যদিও IANS-কে বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু মানুষের সামনে ছবি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এরা নকশাল। ওরা শুধু দেশকে টুকরো করার কথা বলে না, পুলিশ এবং জওয়ানদের উপর গুলি চালানো, হামলা চালানো…কিষেনজীর মতো লোকেদের জয়জয়কার করে। ওরা হিংসা এবং মৃত্যুর পক্ষে। দেশের ক্ষতি হয় যাতে…আমাদের পরম্পরা, সংস্কৃতিকে ধসিয়ে দেওয়ার কথাই সর্বক্ষণ ভাবে ওরা। ওরা পড়ুয়া হতে পারে না। দেখিয়ে দিল ওরা কতটা বিপজ্জনক।” গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, কাউকে ছাড়া হবে না।
রবিবার ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় বাইপাসের ধারে SRFTI-তে। পড়ুয়াদের মারধর, ছুরি দিয়ে হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল কলেজের ছাত্র সংগঠন। পাল্টা পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অডিটোরিয়ামে ঢুকে গন্ডগোল, মারধর, পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ তুলেছে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত। জানা গিয়েছে, রবিবার নিজেদের কর্মসূচির জন্য অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়েছিল অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত। তাদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবাসিক পড়ুয়ারা বাইরে জমায়েত করেন। তাঁদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এর পরই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ।
এদিন ক্যাম্পাসের গেটের ভিতর অবস্থানে বসে পড়েন পড়ুয়ারা। SRFTI-এর ছাত্র সংগঠনের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার আগে ছাত্র সংসদ বা পড়ুয়াদের কিছু জানানো হয়নি। সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলে অডিটোরিয়ামে পোস্টার লাগাতে যান পড়ুয়ারা। তাতে ABGP-র সদস্যরা তাঁদের মারধর শুরু করেন। ঘুষি, লাথি, ইট, পাথর ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় মহিলা পড়ুয়াদেরও। পড়ুয়াদের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মারধর করা হয় লাইব্রেরিয়ানকেও। কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন পড়ুয়ারা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে টাকার বিনিময়ে কোনও সংগঠনের ‘প্রাইভেট’ অনুষ্ঠান হয় কী করে, প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এদিন সন্ধেতেও দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় ক্যাম্পাসে।
সন্ধেতেও দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় SRFTI ক্যাম্পাসে। গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত SRFTI কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
