বিমান হাইজ্যাক রুখতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত, এখন কেমন আছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার?

বিমান হাইজ্যাক রুখতে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত, এখন কেমন আছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার?

 

নয়াদিল্লি: ক্ষতবিক্ষত শরীরে মরিয়া লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। রুখে দিয়েছেন বিমান আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা। FlyDubai বিমানের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। (Smit Machchhar of FlyBubai Plane)

রিয়াধে ভারতীয় দূতাবাস, জেড্ডায় ভারতীয় কনস্যুলেট স্মিতের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখেছে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘রিয়াধে আমাদের দবতাবাস এবং জেড্ডার কনস্যুলেট সাহসী ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখেছে। তাবুক শহরের হাসপাতালে ভর্তি তিনি। উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাবাদী আমরা। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষা চলছে। সবরকম সহযোগিতা করা হবে’। (FlyDubai Plane Hijack Fears)

ভারতীয় দূতাবাসের তরফে স্মিতের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসায় কোনও ত্রুটি হবে না বলে জানিয়েছে তারা। রবিবার বিমানে যখন কো-পাইলটের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলছে স্মিতের, সেই সময় অভিযুক্ত কো-পাইলট ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে তাঁকে। সেই সময় দন্ত চিকিৎসক এক বিমানযাত্রী প্রাথমিক ভাবে স্মিতের চিকিৎসা করেন। তিনিও সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। 

ওই দন্ত চিকিৎসক ইজ়রায়েলি নাগরিক। তাঁর নাম মুসায়েভ শোটা। তিনি জানিয়েছেন, যে চার যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান, তিনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। হামলাকারী পাইলটকে কাবু করে ফেলার পর স্মিতকে প্রাথমিক ভাবে তিনিই সামলান। তাঁর কথায়, “বিমানে আমিই একমাত্র চিকিৎসক ছিলাম। রক্তপাত বন্ধ করতে সফল হই আমি। অবতরণের কিছু ক্ষণ স্থিতিশীল ছিলেন ওই পাইলট। কিন্তু এর পর পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে।”

আমেরিকার CNN-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুসায়েভ স্মিতের চোট নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “ওঁর মাথা এবং হাত একেবারে ফালা ফালা হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় ছিল সেই সময়। ওঁর অবস্থা গুরুতর ছিল। রক্তপাত হয়েই চলেছিল”। তবে চারিদিক রক্তে যখন ভেসে যাচ্ছে, সেই অবস্থাতেও স্মিতর জ্ঞান ছিল এবং বিমানের মেঝেতে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। মুসায়েভের কথায়, “পাইলট কথা বলছিলেন আমাদের সঙ্গে। জানান, ওঁর হয়স ৩৯ বছর। দুই সন্তান রয়েছে। হামলাকারী ওঁকে কোপায়, গালিগালাজও করে। জখম অবস্থায় প্রার্থনা করছিলেন উনি। আমি কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছিলাম, যাতে জ্ঞান না হারান।” মুসায়েভ জানিয়েছেন, বিমান অবতরণের পর সৌদির মেডিক্যাল টিম স্মিতকে নিয়ে যান।  স্মিত এখন বিপন্মুক্ত বলেও খবর পেয়েছেন তিনি।

রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ইজ়রায়েলের তেল আভিভ যাচ্ছিল FlyDubai সংস্থার বোয়িং বিমানটি। বিমানে সওয়ার ছিলেন প্রায় ১৮০ জন যাত্রী। সেই সময় ককপিট থেকে পর পর দু’বার জরুরি সঙ্কেত পৌঁছয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলসে। বিমান হাইজ্যাক হয়েছে, এমন বার্তাও পৌঁছয়, যাতে শোরগোল পড়ে যায়। পরে জানা যায়, বিমান হাইজ্যাক হয়নি। বরং এক পাইলট যাত্রীসমেত বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হতে যাচ্ছিল। ভারতীয় পাইলট স্মিত হাবভাব দেখে বুঝে যান বিষয়টি। তিনি বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তি, মারামারি শুরু হয়। সেই সময় স্মিতকে কোপায় অভিযুক্ত পাইলট। তার পরও মরিয়া লড়াই চালিয়ে যান স্মিত। ধাক্কাধাক্কিতে ককপিটের দরজা খুলে যায়। তাতেই অন্য যাত্রীরা ছুটে যান। বিমানে সওয়ার দুই ব্যক্তি, যাঁরা পেশায় পাইলট, তাঁরাই শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে মাটিতে নামান।