)
জল্পনার অবসান! এবার হেড কোচের হটসিটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। চলে এল বিরাট আপডেট। যে খবরে নড়ে গেল ভারতীয় ক্রিকেট
জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জল্পনাই সত্যি হয়ে গেল। দেশের সর্কালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেই দিল্লি ক্যাপিটালস হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ করল!আইপিএল ২০২৭ সালে ফের ভারতীয় ক্রিকেটে ‘দাদাগিরি’। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি ও অধুনা সিএবি প্রেসিডেন্টকেই যে, দিল্লি গুরুদায়িত্ব দিতে চলেছে, তা নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই জল্পনা চলছিল। মিডিয়ায় লেখালিখি চলছিল। ৬ অক্টোবর মঙ্গল দুপুরে দেশের রাজধানীর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সৌরভেই সিলমোহর দিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করে দিল্লি এই গ্র্যান্ড ঘোষণা করেছে। সৌরভকে ভিডিয়োতে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘এমন এক সময় আসে যখন মনে হয়, অনেক কিছু করা হয়েছে, অনেক দেখা হয়েছে, অনেক অর্জন করা হয়েছে। তখন মনে হয় একটু সরে সাইডলাইন থেকে দেখা, পথ দেখানো বা বিশ্বাস রাখাই যথেষ্ট। অন্তত আমি সেটাই ভাবতাম। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটে যা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় কেন আপনি এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। আমার ক্ষেত্রে এই দলটাই সেই উপলক্ষ হয়ে এসেছে। দিল্লি তার সময়ের অপেক্ষায় ছিল। এখন দিল্লির সময়।’ অতীতে সৌরভ দিল্লির ডিরেক্টর অফ ক্রিকেটের পদ অলঙ্কৃত করেছেন। আর এবার হটসিটেই তিনি। হেমাং বাদানির কোচিং প্যানেল সরে দাঁড়ানোর পরই সৌরভ এই দায়িত্ব নিলেন। রিকি পন্টিং যখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হেড কোচ ছিলেন, তখন সৌরভ ডিসি-র কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন।জিএমআর স্পোর্টস যখন দিল্লি ক্যাপিটালসের পুরুষ দল পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন সৌরভ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। গত কয়েক বছর ধরে যৌথ মালিকানাধীন মডেলেই চলে দিল্লি। জিএমআর স্পোর্টস এবং জেএসডব্লিউ স্পোর্টস পালা পালা করে দিল্লি চালায়। জেএসডব্লিউ ফিরতেই সৌরভ ফিরলেন।
কী বলছে দিল্লি এবং জেএসডব্লিউ
দিল্লি ক্যাপিটালসের চেয়ারম্যান ও সহ-মালিক শিল্পপতি পার্থ জিন্দাল। তাঁর সঙ্গে সৌরভের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সৌরভের নিয়োগের প্রসঙ্গে বলেন, ‘দাদা সবসময়ই দিল্লি ক্যাপিটালস পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অত্যন্ত গর্ব ও সম্মানের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ভারতের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ও প্রশাসক এখন দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে কোচিংয়ের জগতে পা রাখছেন। তাঁকে এই ভূমিকায় দেখার জন্য আমি খুবই উচ্ছ্বসিত এবং নিশ্চিত যে, তাঁর নির্দেশনা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে সেরা প্রস্তুতি নিয়ে নামবে। আমাদের খেলোয়াড় ও কর্মীরা দাদার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখবে, এই মুহূর্তের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব ডিসিকে মাঠে খেলতে দেখার অপেক্ষায় আছি।’ সৌরভ এই দায়িত্ব পেয়ে বললেন, ‘আইপিএলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছি। দিল্লি ক্যাপিটালস আমার হৃদয়ের খুব কাছের এক ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বছরের পর বছর ধরে এদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মালিকপক্ষ, ম্য়ানেজমেন্ট, সাপোর্ট স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমি ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করেছি, যা এই দায়িত্বকে আমার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমাদের দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ভালো মানের ক্রিকেট খেলেছি। আমি এই স্কোয়াডের সঙ্গে কাজ করতে, নতুন মরসুম শুরু করতে এবং এক শক্তিশালী ও নির্ভীক দল গড়ে তুলতে উন্মুখ।’
দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং স্টাফে কারা ?
সৌরভের সাপোর্ট টিম যেমন তারকাখচিত তেমনই হাইপ্রোফাইল। ভারতের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং হয়েছেন ব্যাটিং কোচ। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন তারকা পেসার চামিন্ডা ভাস হচ্ছেন ফাস্ট বোলিং কোচ এবং আইপিএলের অভিজ্ঞ নক্ষত্র অমিত মিশ্রকে পাওয়া যাবে স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে। এছাড়াও এই আইপিএল দিল্লির ঘরের ছেলে ঋষভ পন্থও দলে ফিরছেন। যিনি অতীতে দিল্লিতে আবার সৌরভের সঙ্গে কাজ করেছেন। লখনউ সুপার জায়ান্টসের কয়েক মরসুম কাটিয়ে ফিরছেন পন্থ। নতুন কোচিং প্যানেল চূড়ান্ত হওয়ার পর সৌরভের প্রধান কাজ হবে খেলোয়াড় ধরে রাখা এবং আসন্ন আইপিএল নিলামের জন্য লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করা। অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেলের মতো মূল খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করে দল পুনর্গঠন, দলের প্রধান ভারতীয় প্রতিভাদের দক্ষতা আরও শানিত করা এবং বিদেশি ও দেশি কোটায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ শূন্যস্থানগুলি পূরণ করা—এসবই নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।সম্প্রতি SA20 দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হয়ে কোচিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সৌরভ। কৌশলগত গভীর বোঝাপড়া ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে তাঁর। যার মধ্যে রয়েছে বিসিসিআই সভাপতিত্ব এবং সিএবি-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। দলের মূল খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর পূর্বপরিচিতি এবং একজন আক্রমণাত্মক নেতা হিসেবে তাঁর খ্যাতি—এই বিষয়গুলি ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে তাদের প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কারণ ২০০৮ সালে টি-টোয়েন্টি লিগের উদ্বোধনী আসরের পর থেকে তারা আর কোনও সাফল্যের মুখ দেখেনি
