
রাজা চট্টোপাধ্য়ায়, জলপাইগুড়ি: জঙ্গলের রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল একটি স্ত্রী চিতাবাঘের। রবিবার রাতে নাগরাকাটার ডায়না সেতুর কাছে ডায়না জঙ্গলের লাগোয়া ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটনাটি ঘটে। রাস্তার ওপর চিতাবাঘের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ পথচারীদের নজরে আসে চিতাবাঘটির দেহ।
ডায়না সেতুর দিকে ওঠার মুখে জাতীয় সড়কের ওপর যা পড়েছিল, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মীরা। পরে মৃত চিতাবাঘটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জার সাম্য রায় জানান, মৃত চিতাবাঘটি স্ত্রী প্রজাতির ও বয়স আনুমানিক পাঁচ বছর। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, রাস্তা পারাপারের সময় কোনও একটি গাড়ির ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে, ধাক্কা দেওয়ার পর গাড়িটি ঘটনাস্থলে না থেমেই চলে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গাড়িটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এর আগে কয়েকদিন আগে ফালাকাটার খাউচাঁদপাড়া এলাকার সুপ্রিয় চা বাগান থেকে খাঁচাবন্দি করা হয়েছিল একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘকে। গভীর রাতে বন দফতরের পাতা খাঁচায় ধরা পড়ে বাঘটি। সকালে খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় স্বস্তি ফেরে, পাশাপাশি চিতাবাঘটিকে দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই সুপ্রিয় চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘটির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। চিতাবাঘের উপস্থিতিতে আতঙ্কে ছিলেন চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রায় তিন দিন আগে জলদাপাড়া বন দফতরের পক্ষ থেকে বাগানের ভেতরে একটি লোহার খাঁচা বসানো হয়। খাঁচার ভিতরে রাখা হয়েছিল ছাগলকে টোপ হিসেবে। রাতে টোপের সন্ধানে খাঁচায় ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় খাঁচার দরজা। পরের দিন সকালে চা বাগান সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পান ও বন দফতরে খবর দেন।
এর আগে জলপাইগুড়িতে মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচেছিল এক হস্তিশাবক। সূত্রের খবর, তিস্তায় ভেসে যাচ্ছিল হস্তিশাবক, যা নৌকা ছুটিয়ে উদ্ধার করল মৎস্যজীবীরা। এমনই ঘটনা ঘটেছে মালবাজারে তিস্তা নদীতে। সেই নদীর জলে ভেসে যাচ্ছিল একটি হস্তিশাবক। নদীতে থাকা মৎস্যজীবীদের নজরে আসে ঘটনাটি, এরপর কোনওরকম দেরি না করে নৌকা নিয়ে হস্তিশাবকের কাছে ছুটে যান তাঁরা। শেষ পর্যন্ত শাবকটিকে নৌকায় তুলে নিরাপদে পাড়ে নিয়ে এসে উদ্ধার করা হয়।
(Feed Source: abplive.com)
