
বেশ কিছুদিন ধরেই একটা ব্যাপার নিয়ে ভাবছি। বই হারিয়ে যাচ্ছে বলে নয়। বই এখনও বিক্রি হয়, বইয়ের দোকানও আছে, e-reader জনপ্রিয় হয়েছে, আর সত্যি বলতে কী, আজ আমাদের সামনে পড়ার জিনিসের অভাব নেই। বরং আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। তার পরেও মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা কি আস্তে আস্তে পড়ার ধৈর্যটাই হারিয়ে ফেলছি?
এখানে একটা কথা প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো। আমি নিজে কোনওদিনই খুব একটা বই পড়তাম না। পড়ার অভ্যেসটা তৈরি হয়েছে খুব বেশি হলে দেড় বছর আগে। এখন অবশ্য হাতের সামনে যা ভালো লাগে, সেটাই পড়ার চেষ্টা করি। আর এখন মাঝে মাঝে সত্যিই মনে হয়, এতগুলো বছর বই না পড়ে নষ্ট করলাম কেন!
চারপাশে তাকালেই বোঝা যায়, আজ বইয়ের প্রতিযোগী কত! খবর এখন ছোট ভিডিও। কোনও gadget-এর review একটা Reel। রান্নার recipe এক মিনিটের ভিডিও। Travel story মানে সুন্দর কিছু shot, সঙ্গে music। যে বিষয়টা আগে হয়তো একটা article পড়ে জানতাম, এখন সেটাই কেউ camera-র সামনে দাঁড়িয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে।
এর সুবিধেটাও বুঝি। Video সহজ। Play করলাম, দেখতে থাকলাম। পড়তে গেলে একটু চেষ্টা করতে হয়। মন দিতে হয়, নিজের মতো করে কল্পনা করতে হয়। আর এখন তো কয়েক মিনিট অন্তর ফোনটা দেখার ইচ্ছেটাকেও সামলাতে হয়। আমি নিজেও এর বাইরে নই। এমন অনেক সন্ধ্যা গেছে যখন কুড়ি মিনিট দিব্যি short video scroll করেছি, কিন্তু দশ পাতা বই পড়ার সময় নেই বলে মনে হয়েছে।
কোনও মানে হয়? জানি, হয় না। কিন্তু scrolling করতে সময় যাচ্ছে বলে somehow মনে হয় না। বই পড়তে বসলেই সময়ের হিসাবটা মাথায় আসে। আমাদের ফোন সম্ভবত আর একটা জিনিস বদলে দিয়েছে। আমরা এখন খুব তাড়াতাড়ি কিছু interesting হয়ে ওঠার অপেক্ষা করি। কয়েক সেকেন্ড ভালো না লাগল? Swipe। সঙ্গে সঙ্গে আর একটা কিছু সামনে এসে গেল।
বই এভাবে চলে না। কোনও চরিত্রকে চিনতেই হয়তো কুড়ি পাতা লেগে গেল। গল্প জমতে সময় লাগল। কয়েকটা পাতা হয়তো তেমন কিছুই ঘটল না। তবু পড়ে যেতে হয়। আর সেটাই হয়তো আমাদের কাছে একটু একটু করে কঠিন হয়ে উঠছে।
Short-form content কি আমাদের মনোযোগে প্রভাব ফেলছে? এই জায়গাটাই আমার কৌতূহল বাড়িয়েছিল। আমাদের generation-এর পক্ষে আজকের ছেলেমেয়েদের সারাক্ষণ ফোনে মুখ গুঁজে থাকতে দেখে বলা খুব সহজ, “এদের attention span বলে আর কিছু নেই।”
আমাদের আগের generation-ও নিশ্চয়ই আমাদের নিয়ে এরকম কিছু বলত! কিন্তু এখন short-form video এবং attention নিয়ে কিছু গবেষণাও হচ্ছে, আর সেগুলোর ফল অন্তত একবার দেখা দরকার। Psychological Bulletin-এ প্রকাশিত একটি বড় analysis-এ ৭১টি study এবং ৯৮,০০০-এরও বেশি মানুষের data দেখা হয়েছিল। সেখানে বেশি short-form video ব্যবহারের সঙ্গে attention এবং inhibitory control-এর দুর্বলতার একটা সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সহজ করে বললে, কোনও একটা বিষয়ে মন ধরে রাখা এবং বারবার অন্যদিকে চলে যাওয়ার ইচ্ছেটাকে আটকানো। তবে তার মানে এই নয় যে এক ঘণ্টা Reels বা YouTube Shorts দেখলেই আমাদের brain নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। Research সেটা বলছে না, আমিও বলছি না।
যাঁদের এমনিতেই মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাঁরা হয়তো short video বেশি পছন্দ করেন। আবার খুব বেশি short-form content দেখলেও হয়তো দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। সম্ভবত দুটোই কিছুটা সত্যি। এখনও অনেক কিছু জানার বাকি।
২০২৬ সালে JAMA Network Open-এ প্রকাশিত আর একটি study-তে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৭৯ জনের smartphone use দেখা হয়েছিল। School-এর সময় তারা গড়ে প্রায় ২.২ ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করছিল এবং প্রায় ৬৪ বার ফোন check করছিল। যারা বেশি ঘনঘন ফোন দেখছিল, তাদের cognitive control তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
আবারও বলি, study-টি এটা প্রমাণ করেনি যে ফোনই তার কারণ। কিন্তু school-এর মধ্যে ৬৪ বার ফোন দেখা বেশ অনেকটাই। যদিও teenagers-দের নিয়ে বেশি কিছু বলার আগে আমার নিজের সংখ্যাটা কত, সেটা বোধহয় না জানাই ভালো!
আর এখানেই আমার মনে হয় বিষয়টা শুধু বইয়ের মধ্যে আটকে নেই। প্রতি কয়েক সেকেন্ডে নতুন কিছু দেখার অভ্যাস হয়ে গেলে, জীবনের যে কাজগুলো এভাবে চলে না সেগুলোর কী হবে?
Classroom এভাবে চলে না। লম্বা meeting তো একেবারেই নয়। কঠিন কিছু শেখাও নয়। এমনকি অন্য কারও সঙ্গে বসে কথা বলার সময়ও কোনও skip button থাকে না। Reading নিয়ে উল্টো দিকের কিছু research-ও বেশ interesting।
Cambridge, Warwick এবং Fudan University-র researchers আমেরিকার ১০,০০০-এরও বেশি young adolescent-এর data দেখেছিলেন। যে সব শিশু তুলনামূলকভাবে ছোটবেলা থেকে আনন্দের জন্য পড়তে শুরু করেছিল, তারা পরে cognitive test এবং academics-এ ভালো করার প্রবণতা দেখিয়েছিল। তাদের attention-ও ভালো ছিল এবং behavioural ও mental-health problems তুলনামূলকভাবে কম দেখা গিয়েছিল।
এখানেও ব্যাপারটা এত সহজ নয় যে একটা বাচ্চার সামনে দশটা বই রেখে দিলাম আর সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল। আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তবে reading এবং attention-এর মধ্যে সম্পর্কটা অন্তত ভাবার মতো। আমি নিজে অবশ্য এসব বেশ দেরিতেই আবিষ্কার করছি।
আমার পড়ার মধ্যে কোনও বিশেষ pattern নেই। সম্ভবত সেই কারণেই ব্যাপারটা এত উপভোগ করছি। কখনও একটা ছোট কবিতা, কখনও Mirza Ghalib-এর কয়েকটা লাইন, কখনও Jim Corbett-এর Omnibus, Arthur Hailey-র Airport, Dandy Smith-এর The Wrong Daughter, Shiva: Ultimate Outlaw অথবা Toshikazu Kawaguchi-র Before the Coffee Gets Cold series। এর বাইরে আরও অনেক কিছু। যেটা ভালো লাগে, সেটাই পড়ি।
আমার মনে হয় reading নিয়ে আমরা এখানেই মাঝে মাঝে ভুল করি। পড়া মানেই যে একটা ৫০০ পাতার গুরুগম্ভীর classic হাতে নিয়ে বসতে হবে, তা তো নয়। অন্য কেউ বলেছে বইটা অবশ্যই পড়তে হবে বলে আমারও পড়তে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। যা পড়তে ভালো লাগে, সেটাই পড়ুন।
পড়ার আর একটা ব্যাপার আমার ভালো লাগে। এখানে নিজের মাথাকেও একটু কাজ করতে হয়। জায়গাটা কেমন, মানুষটা দেখতে কেমন, তার গলার আওয়াজ কেমন – এগুলো অনেকটাই আমি নিজের মতো করে তৈরি করি। চাইলে থামতে পারি, আগের পাতায় ফিরে যেতে পারি, কোনও একটা লাইন নিয়ে একটু ভাবতে পারি।
বইয়ের কোনও তাড়া নেই। তার মানে video খারাপ, এমন একেবারেই নয়। অনেক কিছু দেখে শেখা অনেক সহজ। YouTube থেকে আমিও প্রচুর জিনিস শিখেছি। কোনও complicated জিনিস repair করতে হলে তিন পাতা instruction পড়ার বদলে পাঁচ মিনিটের একটা ভালো video দেখতেই আমি পছন্দ করব।
আমার চিন্তা video নিয়ে নয়। আমার প্রশ্নটা হল, যখন প্রায় সব কিছুই short video হয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের অভ্যাসে কী বদল হচ্ছে? খুব অল্প সময়ে, ছোট ছোট অংশে information পেতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে interesting না লাগলে এগিয়ে যাচ্ছি।
আর এটা শুধু বাচ্চাদের ব্যাপার নয়। আমরা বড়রাও একই কাজ করছি। পুরো article না পড়ে headline পড়ছি। পুরো interview-এর বদলে clip দেখছি। Original story-র বদলে WhatsApp forward পড়ছি। বড় কিছু পড়ার বদলে summary চাইছি।
কিছুদিন পরে বোধহয় summary-রও summary লাগবে! আমার মনে হয়, আমরা হয়তো কোনও একটা জিনিস নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার অভ্যাসটা হারাচ্ছি। এমনকী আমি যখন ভালো কোনও বই পড়ছি, তখনও মাঝে মাঝে কোনও কারণ ছাড়াই ফোনটা check করতে ইচ্ছে করে।
Phone আরও একটা জিনিস প্রায় শেষ করে দিয়েছে – boredom। কারও জন্য অপেক্ষা করছি? Phone। Cab-এ বসে আছি? Phone।Meeting শুরু হতে পাঁচ মিনিট বাকি? Phone। সব সময় এটা ভালো কি না, জানি না। মাঝে মাঝে কিছু না করে বসে থাকাটাও সম্ভবত এত খারাপ ছিল না। হয়তো reading-কে আমরা একটু বেশি serious করে ফেলেছি।
“বই পড়া ভালো” বলে বাচ্চাদের জোর করে বই পড়ানোর মধ্যে আমি খুব একটা সমাধান দেখি না। শুনলেই সেই ছোটবেলার “সবজি খাও, শরীরের জন্য ভালো” কথাটা মনে পড়ে! তার চেয়ে তারা কী পড়তে ভালোবাসে, সেটা খুঁজে দেওয়া হয়তো বেশি কাজের।
আর সেটা novel-ই হতে হবে কেন? আমি এখনও comics পড়ি – Tintin, Asterix, Amar Chitra Katha। এগুলো আমার ভিতরের বাচ্চাটাকে আবার জাগিয়ে তোলে। এবং তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই। একটা comic যদি কাউকে পড়ার আনন্দটা বুঝিয়ে দেয়, আমার কাছে সেটাই যথেষ্ট।
Screen-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করারও কোনও দরকার নেই। Technology reading-এর শত্রু নয়। একটা phone-এ শত শত বই রাখা যায়। E-reader-এ একটা গোটা library সঙ্গে নিয়ে ঘোরা যায়। Audiobook এমন অনেক মানুষকেও বইয়ের কাছে নিয়ে এসেছে, যাঁদের হয়তো বসে পড়ার সময় বা ইচ্ছে নেই।
সমস্যাটা হল competition। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা একটা বইকে এখন এমন একটা device-এর সঙ্গে লড়তে হচ্ছে যেখানে films, music, games, messages, news, social media এবং পৃথিবীর প্রায় সমস্ত distraction একসঙ্গে রয়েছে।
লড়াইটা খুব একটা fair নয়! হয়তো আমাদের আবার reading-এর জন্য একটু জায়গা তৈরি করতে হবে। দশ পাতা বই। কুড়িটা headline-এর বদলে একটা পুরো article। একটা কবিতা। একটা comic। Crime, history, fiction, biography – যা ভালো লাগে। কী পড়ছি, তার থেকে পড়ার সময়টা উপভোগ করছি কি না, সেটাই হয়তো বেশি জরুরি।
কিন্তু এখন পড়তে শুরু করে বুঝতে পারছি, এতগুলো বছর কী কী miss করেছি। আমার মনে হয় না বই কোথাও চলে যাচ্ছে। আমার প্রশ্নটা বরং অন্য। বই পড়ার ধৈর্যটা কি আমাদের ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে? আর হ্যাঁ, মাঝে মাঝে সেই reading-এর নাম Tintin হলেও আমার কোনও আপত্তি নেই।
(Feed Source: news18.com)
