Visva Bharati: চাকরির ক্ষেত্রে বড় সুবিধা, কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি পেতে উদ্যোগী বিশ্বভারতীর দুই ঐতিহ্যবাহী স্কুল।
বোর্ড পরিচয়ের জটিলতা কাটছে
বীরভূম, সৌভিক রায়: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে গড়া বিশ্বভারতীর দুই ঐতিহ্যবাহী স্কুল পাঠভবন এবং শিক্ষাসত্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তাড়া করে বেরাচ্ছিল এক মারাত্মক সমস্যা ‘বোর্ড’ পরিচয়! অবশেষে সেই জটিলতা কাটাতে উদ্যোগী হল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনা হচ্ছে বিশ্বভারতীর এই দুই ঐতিহাসিক স্কুলকে। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্কুলশিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়েছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র।
কেন্দ্রীয় অনুমোদন মিললে চাকরির ক্ষেত্রে দুই স্কুলের প্রাক্তনীরা যে বড়সড় সুবিধা পাবেন, তা বলা বাহুল্য। তবে কী ছিল মূল সমস্যা? এতদিন পাঠভবন ও শিক্ষাসত্র সিবিএসই (CBSE) বা পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মতো কোনও প্রচলিত কেন্দ্রীয় বা রাজ্য বোর্ডের অধীনে ছিল না। বিশ্বভারতীর নিজস্ব ‘জয়েন্ট ইনস্টিটিউট বোর্ড’-এর মাধ্যমেই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া হতো। ফলে সমস্যা তৈরি হতো কর্মক্ষেত্রে। ব্যাঙ্ক, রেল, ডাকবিভাগ-সহ নানা সরকারি চাকরির আবেদনের সময় বোর্ডের নাম নিয়ে চরম বিভ্রাটে পড়তেন প্রাক্তনীরা।
এমনকী ইন্টারভিউয়ের টেবিলে এসেও বাতিল হতে হয়েছে অনেককে। এ নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও কম হয়নি। এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ জানান, “দুই স্কুলের সমস্যা মেটাতে বিশ্ববিদ্যালয় সবরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনেই গোটা প্রক্রিয়া এগচ্ছে এবং নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।” দুই স্কুলের পরিকাঠামো এবং শিক্ষকদের পদমর্যাদা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কিছু আপত্তি ছিল। উপাচার্য জানান, এবার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের তর্জেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা কর্মসমিতির বৈঠকেও পাশ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, দুই স্কুলে স্থায়ী শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতেও বড় খবর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে এখানে প্রায় ৪৫ জন অতিথি শিক্ষক রয়েছেন, যাঁদের বেতন সম্প্রতি মন্ত্রকের নির্দেশে কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগামী দিনে দুই স্কুল মিলিয়ে ৭৩ জন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতিমধ্যেই পাঠভবন ও শিক্ষাসত্রে কার্যকর করা হয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020)। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে একাদশ ও দ্বাদশে চালু হয়েছে সেমেস্টার পদ্ধতি। চলতি বছর প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া দ্বাদশের প্রথম সেমেস্টার পরীক্ষাও দিয়েছে। পাশাপাশি নবম ও দশম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী পাঠ্যক্রম সাজানোর কাজ জোরকদমে চলছে।১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে শুরু হয়েছিল পাঠভবনের যাত্রা, আর ১৯২৪-এ তৈরি হয় শিক্ষাসত্র। শতবর্ষ প্রাচীন এই দুটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের দীর্ঘদিনের বোর্ড-সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে চলায় আশার আলো দেখছেন বর্তমান পড়ুয়া, প্রাক্তনী থেকে শুরু করে অভিভাবক মহল।
(Feed Source: news18.com)