এয়ারটেল বিজনেস চালু করল IQ Gateway – নিরাপদ এন্টারপ্রাইজ মেসেজিংয়ের জন্য টেলিকম-গ্রেড নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স-সহ দেশের প্রথম ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম

এয়ারটেল বিজনেস চালু করল IQ Gateway – নিরাপদ এন্টারপ্রাইজ মেসেজিংয়ের জন্য টেলিকম-গ্রেড নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স-সহ দেশের প্রথম ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম

 

এয়ারটেল আইকিউ গেটওয়ে (Airtel IQ Gateway) ব্যবহার করলে সংস্থাগুলিকে আর আলাদা আলাদা পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে পৃথকভাবে যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম পরিচালনা করতে হবে না। ডিপিডিপি (DPDP) বিধি মেনে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, আরসিএস (RCS), ভয়েস কমিউনিকেশন এবং নম্বর যাচাইকরণ (সাইলেন্ট অথেনটিকেশন)—সবকিছুই এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে সংস্থাগুলি সহজেই বৃহৎ পরিসরে নিজেদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ পরিচালনা করতে পারবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখা এবং প্রতিটি গ্রাহক সংক্রান্ত কথোপকথনে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়াও সম্ভব হবে।

বর্তমানে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলিকে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর জন্য একাধিক পরিষেবা প্রদানকারী এবং বিভিন্ন টুলের মাধ্যমে যোগাযোগের বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো পরিচালনা করতে হয়। অথচ বার্তা প্রকৃতপক্ষে পৌঁছেছে কি না, সে সম্পর্কে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। এই পরিস্থিতিতে এয়ারটেল বিজনেসের এই পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় বার্তা পৌঁছয়নি, অথচ সেগুলিকে সফলভাবে পৌঁছে গিয়েছে বলে দেখানো হয়। অন্যদিকে, BOT-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ওটিপি (OTP) পাম্পিংয়ের ফলে বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি, আগে থেকে অনুমোদিত মেসেজ টেমপ্লেটগুলি পরিচালনা করার কাজও ম্যানুয়ালি করতে হয়, যার ফলে প্রায়শই ভুল হয়। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, আর্থিক পরিষেবা ও বিমা (BFSI), সরকারি পরিষেবা, ই-কমার্স এবং লজিস্টিকসের মতো ক্ষেত্রের সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলি গ্রাহকদের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, গ্রাহকদের আস্থায় আঘাত করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এয়ারটেল আইকিউ গেটওয়ে ব্যবসায়িক যোগাযোগের জন্য একটি একক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র তৈরি করে এই সমস্যার সমাধান করে। এতে একত্রিত করা হয়েছে এয়ারটেলের জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা, নেটিভ মেসেজ টেমপ্লেট সিস্টেমের (DLT) অটোমেটিক সংযুক্তিকরণ, বিকল্প পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যুইচ করার ব্যবস্থা এবং এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ, আরসিএস ও ভয়েসের মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত রাউটিং ব্যবস্থা।

ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির ব্যবহারের জন্য এয়ারটেলের অন্তর্নির্মিত নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে এয়ারটেল আইকিউ গেটওয়ে সংস্থাগুলিকে জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা করে। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি প্রতিরোধের জন্য আইকিউ ভেরিফাই (IQ Verify) এবং সিম-ভিত্তিক লগইনের জন্য সাইলেন্ট অথেনটিকেশন (Silent Authentication)। পাশাপাশি, জাল অ্যাকাউন্ট তৈরি, অ্যাকাউন্ট দখল এবং কৃত্রিমভাবে ট্র্যাফিক বৃদ্ধির মতো বিষয় শনাক্ত করার ক্ষমতাও রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে। এর ফলে শিল্পক্ষেত্রজুড়ে এসএমএস পাম্পিংয়ের কারণে তৈরি হওয়া জালিয়াতিজনিত আর্থিক ক্ষতি এবং বিলের আকস্মিক বৃদ্ধি থেকে সংস্থাগুলিকে সুরক্ষা দেয় এয়ারটেল আইকিউ গেটওয়ে।

নির্বাচিত কয়েকটি ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের সহযোগিতায় সফলভাবে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর আজ দেশজুড়ে এই প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হল। এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য জালিয়াতি প্রতিরোধে এয়ারটেলের প্রমাণিত দক্ষতা এবার ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হচ্ছে। এর ফলে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পারবে সংস্থাগুলি।

এয়ারটেল বিজনেসের সিইও শরৎ সিনহা বলেন, “ভারত যখন একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তখন প্রতিটি ডিজিটাল আদান-প্রদানের ভিত্তি হয়ে উঠতে হবে আস্থা। নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি গ্রাহক সংযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে এমন একটি ভিত্তি, যার উপর নির্ভর করে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের প্রসার ঘটাতে পারে। এয়ারটেলে আমরা ইতিমধ্যেই আমাদের মোবাইল ও ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে সুরক্ষিত রাখতে নেটওয়ার্ক-স্তরের জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছি। আইকিউ গেটওয়ের মাধ্যমে আমরা সেই প্রমাণিত দক্ষতা ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও প্রসারিত করছি। এর ফলে প্রতিটি গ্রাহকের সঙ্গে কথোপকথন নিরাপদ, প্রমাণীকৃত এবং নির্ভরযোগ্য রাখা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংস্থাগুলি নিজেদের ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা গড়ে তুলতে পারবে। নেটওয়ার্ক স্তরেই আস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের, বিশেষ করে ব্যাঙ্ক, সরকারি দফতর এবং লজিস্টিকস সংস্থাগুলিকে সাইবার অপরাধজনিত ক্ষতি কমাতে এবং গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিটি যোগাযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছি। এটি ভারতের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ, যেখানে নাগরিক এবং ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি সমান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লেনদেন ও যোগাযোগ করতে পারবে।”

এয়ারটেল আইকিউ গেটওয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

– নমনীয়ভাবে স্থাপনের সুবিধা:  পরিষেবা প্রদানকারীদের পরিকাঠামোর সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মকে সংযুক্ত করা যায়। গ্রাহকের পছন্দ এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে এটি ব্যবসায়িক সংস্থার নিজস্ব পরিকাঠামোয় ইনস্টল করা যেতে পারে অথবা SaaS (সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস) হিসেবে এয়ারটেলের ক্লাউডে হোস্ট করা যেতে পারে।

– সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ-সহ একটি প্ল্যাটফর্ম: একটি মাত্র ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলি গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের সমস্ত যোগাযোগ পরিচালনা করতে পারবে। এর পাশাপাশি থাকবে রিয়েল-টাইম অ্যানালিটিক্স এবং বার্তা পৌঁছনোর বিষয়ে স্বচ্ছ রিপোর্টিং ব্যবস্থা।

– আর্থিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা: শিল্পক্ষেত্রে প্রচলিত জালিয়াতিমূলক এসএমএস পাম্পিংয়ের কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতি এবং বিলের আকস্মিক বৃদ্ধি থেকে সংস্থাগুলিকে সুরক্ষা দেবে এই প্ল্যাটফর্ম।

– নেটওয়ার্ক-গ্রেডের বুদ্ধিদীপ্ত বৈশিষ্ট্য: এয়ারটেলের শিল্পক্ষেত্রে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে নেটিভ ডিএলটি (DLT) ইন্টিগ্রেশন, পরিষেবা প্রদানকারী ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় স্যুইচ করার সুবিধা এবং একাধিক যোগাযোগমাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত রাউটিং ব্যবস্থা। এর ফলে প্ল্যাটফর্মে অন্তর্নির্মিতভাবেই আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

– এয়ারটেল আইকিউ ভেরিফাই (Airtel IQ Verify): নেটওয়ার্ক-প্রথম জালিয়াতি মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে এটি নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ব্যবহার-সংক্রান্ত বিভিন্ন সঙ্কেত বিশ্লেষণ করে। এর মাধ্যমে জালিয়াতিমূলক অ্যাকাউন্ট তৈরি ও নথিভুক্ত হওয়া প্রতিরোধ করা যায় এবং প্রকৃত গ্রাহকদের প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

– বার্তা পৌঁছনোর স্বচ্ছতা: নেটওয়ার্ক-স্তরের ডেলিভারি রিপোর্টের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছনোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়।

– সাইলেন্ট অথেনটিকেশন (Silent Authentication): নেটওয়ার্ক-প্রথম লগইন ও সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থা হিসেবে এটি লগইন এবং সিম-বাইন্ডিং প্রক্রিয়ায় ওটিপি-ভিত্তিক এসএমএসের পরিবর্তে কাজ করে। এন্টার করা মোবাইল নম্বরটি ডিভাইসে সক্রিয় সিমের নম্বরের সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করে এই ব্যবস্থা। এর ফলে সিম-সোয়াপ এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো যায়।

(Feed Source: news18.com)