তীব্র ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড চারিদিক, পর পর ৮০টি আফটার শক, সুনামি সতর্কতা জারি পানামায়

তীব্র ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড চারিদিক, পর পর ৮০টি আফটার শক, সুনামি সতর্কতা জারি পানামায়

 

নয়াদিল্লি: তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পানামা। আতঙ্ক ছড়াল রাজধানী পানামা সিটিতে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে সেখানে। মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপকূল অঞ্চল থেকে। খালি করা হচ্ছে উপকূল সংলগ্ন বাড়িঘর। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। (Panama Earthquake)

US Geological Survey জানিয়েছে, শুক্রবার তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পানামা। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৭.৬।  ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিসল পিতালোজ়া আরিবা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। প্রথমে কম্পনের তীব্রতা ৮ বলে মনে করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়। ভূগর্ভের বেশি গভীরে নয়, বরং ১২ কিলোমিটার গভীরতা থেকেই কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ প্রভাব গুরুতর হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই পানামা সিটি থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছে। (Tsunami Warning)

প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ওই ভূমিকম্পকে ‘গুরুতর বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। জানিয়েছেন, কম্পনের উৎসস্থলের কাছে রাস্তাঘাট ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসাবশেষের নীচে একেবারে চিঁড়েচ্যাপ্টা হয়ে রয়েছে গাড়ি। National Civil Protection System-এর দাবি, প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষজন কম্পন অনুভব করেছেন। এক মিনিট ধরে কম্পন অনুভূত হয়। এর পর কমপক্ষে ৮০টি আফটারশকও অনুভব করেন সকলে। একটি আফটারশকের তীব্রতাই ছিল ৬.০।

সলোমোন আন্দিয়ন নামের এক ব্যক্তি AFP-কে বলেন, “আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তীব্র কম্পন অনুভব করিষ ড্রেসিং ডেবিল থেকে রান্নাঘরের জিনিসপত্র, বিছানা, সব কাঁপছিল।” ১৫ তলা একটি বিল্ডিংয়ে বাস সলোমনের। পর পর আফটারশকের পর খালি করে দেওয়া হয়েছে ওই বিল্ডিং। একটি ভিডিও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যাতে ২০ তলা বিল্ডিংয়ের উপর থেকে জল আছড়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। বিল্ডিংয়ের ছাদে সুইমিং পুল ছিল। ভূমিকম্পের দরুণ সেই সুইমিং পুল থেকেই জল নীচে আছড়ে পড়ে বলে জানা যাচ্ছে। 

 

আমেরিকার সুনামি সতর্কতা বিভাগ জানিয়েছে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, মেক্সিকো থেকে পেরু পর্যন্ত সুনামি আছড়ে পড়তে পারে। আগামী তিন ঘণ্টার মধ্যেই সুনামি আছড়ে পড়ে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে। মানুষজন, বাড়িঘর ভেসে যেতে পারে, ধ্বংসাবশেষের নীচেও চাপা পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দেশের শিক্ষামন্ত্রকের তরফে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আপাতত। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কা করে ডেভলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অফ লাতিন আমেরিকা অ্যান্ড ক্যারিবিয়ানের তরফে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। আলাদা ভাবে অনুদান দেওয়া হয়েছে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলার। 

চলতি বছরে এই নিয়ে অন্তত চতুর্থবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল লাতিন আমেরিকা। তীব্রতাও ৭.০ মাত্রা ছাড়াল। এর আগে, জুন মাসে ভেনিজুয়েলা এবং অগাস্ট মাসে কলম্বিয়া তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে।

(Feed Source: abplive.com)