)
CJP Protrest in Delhi: ট্রেন বাতিল, ক্যাব উধাও, ফোনে নেট নেই! সিজেপি বিক্ষোভে সাধারণ মানুষের ওপর নেমে এল চরম খাঁড়া।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পকেটে স্মার্টফোন আছে, কিন্তু স্ক্রিনে জ্বলছে ‘নো ইন্টারনেট’। কিউআর কোড স্ক্যান করেও মিলছে না খাবার, বাতিল অ্যাপ-ক্যাব– সিজেপির বিক্ষোভ রুখতে প্রশাসনের নজিরবিহীন পদক্ষেপে শনিবার সকাল থেকেই নারকীয় দৃশ্যের সাক্ষী হল নিউদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন (NDLS)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা আন্দোলন থামাতে রাজধানী জুড়ে যে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে, তার তীব্র মাসুল গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ দূরপাল্লার যাত্রীদের। একদিকে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় সম্পূর্ণ অচল অনলাইন পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI), অন্যদিকে শয়ে শয়ে ট্রেন বাতিল ও মেট্রো চলাচলে রাশ টানায় স্টেশনের মেঝেতেই রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন বয়স্ক থেকে শুরু করে কোলের শিশুরা। রেলওয়ে স্টেশন (NDLS) ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব বিশৃঙ্খলা। মেট্রো চলাচলে রাশ টানায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার দূরপাল্লার যাত্রী।
কাজ করছে না UPI, ক্যাব বা খাবার না পেয়ে নাকাল যাত্রীরা
সেন্ট্রাল দিল্লি ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি থাকায় সবথেকে বড় বিপর্যয় ঘটেছে ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) পরিষেবায়। স্টেশনে নেমে অনলাইন ট্যাক্সি বুক করতে পারছেন না যাত্রীরা। অ্যাপ কাজ না করায় ওলা বা উবের তো দূর, সাধারণ অটোচালকদের সঙ্গেও নগদ টাকার অভাবে বচসা বাঁধছে।
স্টেশনের ফুড স্টল, জলের বুথ কিংবা টিকিট কাউন্টারে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়া যাচ্ছে না। এটিএমগুলিতেও ক্যাশ শেষ অথবা সার্ভার ডাউনের কারণে দীর্ঘ লাইন। সাধারণ মানুষ, যাঁদের পকেটে নগদ টাকা রাখার অভ্যাস প্রায় চলেই গিয়েছে, তাঁরা স্টেশন চত্বরে এক বোতল জল বা সামান্য খাবারের জন্যও অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ট্রেন বাতিল ও স্টেশনে আটকে পড়া পরিবার
বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে ঢোকা আটকাতে রেল কর্তৃপক্ষ শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করে দিয়েছে। বহু ট্রেনকে দিল্লির প্রবেশদ্বারের আগেই মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বয়স্ক মানুষ, মহিলা ও শিশুদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের। প্ল্যাটফর্মে পা ফেলার জায়গা নেই, অথচ বিকল্প কোনও ট্রেন কখন মিলবে তা নিয়ে হেল্পডেস্কেও স্পষ্ট কোনও উত্তর মিলছে না।
মেট্রো বন্ধ, ট্যাক্সিচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া হাঁকা
দিল্লি মেট্রোর (DMRC) ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করে দেওয়ায় স্টেশন থেকে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেনা রুট সম্পূর্ণ স্তব্ধ। এই সুযোগ নিয়ে কিছু স্থানীয় ট্যাক্সি ও অটোচালক সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি নগদ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ। যাত্রীদের অনেকের ক্ষোভ– ‘প্রতিবাদকারীদের রুখতে গিয়ে সাধারণ করদাতাদের জীবন এভাবে থমকে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।’
জনজীবন বিপর্যস্ত
দিল্লি পুলিসের দাবি, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। তবে এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও ট্রানজিট ব্লকেড আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেয়েও বেশি শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যযাত্রী ও ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য। উৎসবের মরশুমে রাজধানীর হৃদপিণ্ডে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
