
হেফাজতে যাওয়ার আগে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে গিয়েছিলেন বলেই দাবি। সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার অনুপস্থিতিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব অজিঙ্ক্য শিন্ডের কাঁধে তুলে দেন অভিজিৎ দীপকে।
তাতেই রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন অজিঙ্ক্য। তিনি কে, রাজনীতি, আন্দোলনে কী অভিজ্ঞতা, জানতে উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন সকলে। তবে লুটিয়েন্স দিল্লিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অজিঙ্ক্য হঠাৎ করে CJP-র মুখ হয়ে উঠলেও, রাজনীতির পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

আদতে মহারাষ্ট্রের আলিবাগের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সি অজিঙ্ক্য। তিনি আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কর্মী। ২০১৬ সালে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে দলের জন্য খেটেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রেও আম আদমি পার্টির হয়ে জন্য কাজ করেন।

কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি রয়েছে অজিঙ্ক্যের। পুণের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বেশ কিছু বছর চাকরিও করেছেন। বেশ মোটা অঙ্কের বেতনই পেতেন সেখানে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নামলে, রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন। যোগ দেন আম আদমি পার্টিতে। তাঁর যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র সিস্টেমের সমালোচনা করলেই হবে না। বড় পরিবর্তন আনতে হলে মাঠে নামতে হবে। সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত তিনি।

একেবারে সূচনাপর্ব থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির অংশ অজিঙ্ক্য। জুন-জুলাইয়ে দিল্লির বুকে NEET প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে শামিল হন। সেই থেকে ককরোচ জনতা পার্টির ‘কোর টিমে’র অংশ তিনি। অজিঙ্ক্যর বাবা শিক্ষকতা করতেন। অবসর গ্রহণের পর এখন বাড়ির কাজকর্ম নিয়েই ব্যস্ত।

অভিজিৎ তাঁর কাঁধে আন্দোলনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে পর্যন্ত জাতীয় স্তরে ককরোচ জনতা পার্টির সাংগঠনিক অধ্যক্ষের ভূমিকা পালন করছিলেন অজিঙ্ক্য। তবে নতুন দায়িত্ব পেয়ে একেবারেই হতচকিত হয়ে যাননি তিনি। বরং আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।

অভিজিতের ভিডিও বার্তার পরই মুখ খোলেন অজিঙ্ক্য। ভিডিও বার্তা পোস্ট করে বলেন, “আপনারা জানেন, দিল্লিতে নামতেই স্বৈরাচারী মোদি-শাহের সরকার CJP-র তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার দেশের মানুষের ঐক্য দেখে আভারও ভয় পেয়েছে। স্মরণ করুন, গতবার যন্তরমন্তরে গোটা দেশ যখন একত্রিত হয়, সেই সময় মোদি-শাহের অহঙ্কার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলাম আমরা।”

অজিঙ্ক্য আরও বলেন, “তাই যন্তরমন্তরে মানুষের যাওয়া আটকাতে ট্রেন বন্ধ করে দিয়েছে, বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। যে প্রান্ত থেকেই আসুন না কেন, মানুষজনকে আচক করা হচ্ছে। মোদি-শাহ যে ভয় পেয়েছেন, তা স্পষ্ট। আর এতেই স্পষ্ট যে অর্ধেক যুদ্ধ জিতে গিয়েছি আমরা। এটা নতুন লড়াইয়ের সূচনা।”

গতকাল দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন করার কথা ছিল ককরোচ জনতা পার্টির। SIR-এ অনিয়মের অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরাল করার দাবি তুলতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ব্যাপক ধরপাকড়, দেদার আটকের জেরে কর্মী-সমর্থকরা তো দূর, অভিজিৎরাও যন্তরমন্তরে পৌঁছতে পারেননি। পৌঁছতে পারেননি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীও। বাড়ি থেকেই আটক করা হয় তাঁকে।

রবিবার শেষ পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন তাঁরা। তবে আন্দোলন থেকে সরার প্রশ্ন নেই বলেই জানিয়েছেন অভিজিৎরা। যতদিন পর্যন্ত না জ্ঞানেশ পদত্যাগ করছেন, তত দিন আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন।
(Feed Source: abplive.com)
