রেললাইনের পাশে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন? তা হলে নির্মাণকাজ শুরু করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
রেলের জমি থেকে কত দূরে বাড়ি তৈরি করা উচিত? (Representative/File Photo)
কলকাতা: নিজের বাড়ি তৈরি করার স্বপ্ন অধিকাংশ মানুষেরই থাকে। এর জন্য কেউ শহরে জমি কেনেন, আবার কেউ গ্রামের বংশপরম্পরায় পাওয়া জমিতে বাড়ি তৈরি করেন। তবে কেনা জমি যদি রেললাইনের কাছাকাছি হয়, তা হলে নির্মাণকাজ শুরু করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এই নিয়মগুলি উপেক্ষা করলে রেলের কাছ থেকে NOC পেতে সমস্যা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নির্মাণের অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে।
রেললাইনের কাছাকাছি ভবন নির্মাণের বিষয়ে ভারতীয় রেলের ওয়ার্কস ম্যানুয়ালে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই ম্যানুয়ালের ৮২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রেলের জমির সীমানা এবং নিকটবর্তী ভবনের প্রান্তের মধ্যে প্রায় ৩০ মিটার ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়মের উল্লেখ রয়েছে। তবে এই দূরত্বের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি এলাকায় একই নিয়ম কার্যকর হবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, এই ৩০ মিটার দূরত্ব রেললাইনের মাঝখান থেকে মাপা হয় না। বরং রেলের জমির প্রকৃত সীমানা থেকে এই দূরত্ব মাপা হয়। তাই রেললাইনের পাশে জমি কেনা ব্যক্তিদের প্রথমেই জেনে নিতে হবে, ওই এলাকায় রেলের জমি ঠিক কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
রেলের জমির সীমানা থেকে ৩০ মিটারের মধ্যে কোনও ভবন নির্মাণ করতে চাইলে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এনওসি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, এই সীমার মধ্যে সমস্ত ধরনের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শহর ও নগরাঞ্চলে জমির দাম বেশি হওয়ায় প্রতিটি জমির মালিককে ৩০ মিটার পর্যন্ত জমি সম্পূর্ণ ফাঁকা রাখতে বলা বাস্তবসম্মত নয় বলে ভারতীয় রেলের ওয়ার্কস ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপযুক্ত ফাঁকা জায়গা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা, বৃষ্টির জল নিষ্কাশন এবং নিকাশি ব্যবস্থার জন্য যাতে রেলের জমি ব্যবহার করার প্রয়োজন না হয়, সে বিষয়ে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই ধরনের প্রয়োজন মেটাতে রেলের জমির উপর নির্ভর করলে ভবিষ্যতে জমির ব্যবহার নিয়ে বিবাদ দেখা দিতে পারে। তাই নির্মাণের সময়ই নিজের জমির মধ্যে অথবা অনুমোদিত এলাকায় এই সুবিধাগুলির ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ।
রেললাইনের কাছাকাছি জমি রয়েছে যাঁদের, তাঁদের প্রথমে রেলের জমির সীমানা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট রেল ডিভিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এনওসি প্রয়োজন কি না, তা জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি পুরসভা, পৌরনিগম অথবা স্থানীয় উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নির্মাণবিধিও খতিয়ে দেখা উচিত।
মনে রাখবেন: জমির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে মানেই সেখানে ইচ্ছেমতো যে কোনও নির্মাণকাজ করা যাবে, এমন নয়। রেলের নিয়ম এবং স্থানীয় নির্মাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়ার পরেই কাজ শুরু করা উচিত।
(Feed Source: news18.com)