)
100% Tariffs on India: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন-যুদ্ধে রাশিয়ার রাজস্ব আদায়ের পথ বন্ধ করে দেওয়া। এবং এই রাস্তায় রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করা। রাশিয়া তো বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করে তার যুদ্ধের টাকা তোলে। আমেরিকার সংশ্লিষ্ট বিলের মূল লক্ষ্য তাই ছিল, রাশিয়ার বড় বড় ক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার প্রক্রিয়া ছিল। কিন্তু তা থেকে তিনি নিজেই কি সরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? এ কথা উঠছে কেননা, নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই বদলালেন ট্রাম্প। লিন্ডসে ও গ্রাহাম আইনের অধীনে রাশিয়া ও ইরানের উপরে যে নিষেধাজ্ঞা তিনি চাপিয়েছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিলেন। এর জেরে ভারতের উপরেও ১০০ শতাংশ শুল্কের যে খাড়া ছিল, তা উঠে গেল। গতকাল, শুক্রবার বিকেলের দিকে এগজিকিউটিভ অর্ডার জারি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি গ্রাহাম আইনে নির্ধারিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্কের প্রয়োগ মকুব করে দিচ্ছি! কেন? তিনি যুক্তি দেন যে, মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৪০ কোটি মানুষের জন্য
গত মাসে মার্কিন কংগ্রেস রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিলটি পাস করার পরে ভারত জানিয়েছিল, নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার জন্য প্রয়োজন এমন সব রকম পদক্ষেপ তারা করবে। বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, ভারত তার ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাজার-পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে ভারত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
মার্কিন কংগ্রেসে পাস
আমেরিকার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার রাজস্ব আদায়ের পথ বন্ধ করা এবং মস্কোকে অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করা। রাশিয়া বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি করে যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ সংগ্রহ করে। আমেরিকার সংশ্লিষ্ট বিলের মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার সেই প্রধান ক্রেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা। গত মাসে বিলটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থনে মার্কিন কংগ্রেসে বিপুল ভোটে পাস হয়।
ট্রাম্পের আদেশনামা
শুক্রবার গভীর রাতে জারি করা এক আদেশে ট্রাম্প বলেন, আমি গ্র্যাহাম অ্যাক্টে উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্ক আরোপ মকুব করছি। আমি কংগ্রেসে একটি পত্র জমা দিয়েছি এই মর্মে যে, এই মুহূর্তে এই ধরনের ছাড় দেওয়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
শুল্ক-চাপের মুখে
ওই বিলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকায় ভারত ও চিন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যের উপরেও মারাত্মক মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। ভারত এবং চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক-চাপের মুখে পড়লে বিশ্ব জুড়ে রফতানির বাজারে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর ট্রাম্প এই আদেশনামা এমন সময় জারি করলেন যখন রাশিয়ার প্রতি তাঁর অবস্থান নরম হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
