
জিওর আইপিওর প্রতি বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহের বিষয়টি এমন একটা সময় এল, যখন ভারতের শেয়ার বাজারে লিস্টিং করানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কোম্পানি। কোম্পানির এই উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগকারীরা এতে শেয়ার কেনার সুযোগ পাবেন। জিও আসলে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী সংস্থা, টেলি যোগাযোগ ছাড়াও বহু ধরনের ডিজিটাল পরিষেবা দিয়ে থাকে এই কোম্পানি।
যারা জিওর এই আইপিওতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের মধ্য়ে নাম রয়েছে লাইফ ইনস্যুওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC), SBI মিউচুয়াল ফান্ড, HDFC মিউচুয়াল ফান্ডের । এ ছাড়াও বিশ্বের নামকরা বিনিয়োগকারী সংস্থা ফিডিলিটি ইনভেস্টমেন্ট, ক্য়াপিটাল গ্রুপ, ব্ল্যাকরক এখানে শেয়ার কেনার জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্তত, তেমনই বলা হয়েছে রিপোর্টে।
এই আইপিওতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে গ্লোবাল সভেরন ফান্ড ছাড়াও অ্যাসেট ম্যানেজাররা। এরমধ্য়ে নাম রয়েছে সিঙ্গাপুরের (GIC), নরওয়ের নরজেস ব্যাঙ্ক ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (ADIA) ছাড়াও কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (QIA)।
রিপোর্টে যাদের উদ্ধৃত করা হয়েছে, তাদের তথ্য় বলছে- বিদেশের ‘লং অনলি ফান্ডস’ ছাড়াও ভারতের ১০টি বড় মিউচুয়াল ফান্ড কোম্পানি এই আইপিওতে শেয়ার নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে । পিছিয়ে থাকেনি ইনস্যুওরেন্স কোম্পানিগুলিও। ভারতের ৫টি বড় ইনস্যুওরেন্স কোম্পানি এখানে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এখানে প্রচলিত ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টারদের বাইরেও প্রযুক্তি ভিত্তিক গ্লোবাল ইনভেস্টার ছাড়াও এই আইপিওতে আগ্রহ প্রকাশের তালিকায় রয়েছে বড় ফ্য়ামিলি অফিসের নাম। যারা এখানে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে থেকে এই আইপিওর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দর্শায় যে, আলাদা-আলাদা বিনিয়োগকারী স্ট্র্যাটেজিস্ট ভৌগলিক সীমা অতিক্রম করে এখানে ইনভেস্টমেন্টের জন্য ইন্টারেস্ট দেখিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বাজারে লিস্টিংয়ের আগেই জিও আইপিওর প্রতি বিনিয়োগকারীরা কতটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বর্তমানে জিও তার ব্যাবসার পরিধি সম্প্রসারণ করেছে। টেলি যোগাযোগ থেকে মোবাইল কানেক্টিভিটির মধ্য়েই আর নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেনি কোম্পানি। এখন বৃহত্তর ডিজিটাল সার্ভিসেসে জোর দিয়েছে কোম্পানি। জিওর ব্যবসা মধ্য়ে এখন রয়েছে ব্রডব্য়ান্ড, ক্লাউড সার্ভিস, বিনোদন ও এন্টারপ্রাইস সলিউশন। কোম্পানির বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোম্পানির সবদিকে এই বিরাট উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে একটা বড় বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
কবে আসছে IPO, কত দাম পড়বে ?
এই ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের সম্ভাব্য প্রাইস ব্যান্ড বা মূল্য সীমা ১০৬৫-১১১৯ টাকা রাখা হয়েছে। জিও আইপিও ২১ অক্টোবর থেকে খুলবে। বন্ধ হবে ২৩ অক্টোবর। এখানে বিনিয়োগ করতে আপনাকে ৩দিনের সাবক্রিপশন উইন্ডো দেওয়া হবে।
নতুন এই প্রস্তাবিত অফারের মাধ্যমে জিও আলাদা স্বতন্ত্র কোম্পানি হিসেবে ভারতের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হবে। এরফলে খুচরো ও ইনস্টিটিউশনাল বিনিয়োগকারীরা এখানে ইনভেস্টমেন্টের একটা বড় সুযোগ পাবেন।
আইপিও আসার আগেই এতে ২.৫ লাখ কোটি টাকার যে আগ্রহ বিনিয়োগকারীরা দেখিয়েছেন, তাতেই আইপিওর প্রতি ইনভেস্টারদের উৎসাহ বোঝা যাচ্ছে। পরবর্তীকালে আইপিওতে চূড়ান্ত সাবসক্রিপশনের সংখ্যা, শেয়ার বরাদ্দের বিবরণ, লিস্টিয়ের পরবর্তী পারফরমেন্সের বিষয় দেখে ইনভেস্টারদের আগ্রহের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
(Feed Source: abplive.com)
