Tiger Shroff Mother: বাঙালি দত্ত বাড়ির মেয়ে টাইগারের মা, জ্যাকিকে বিয়ের পর অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেম, কীভাবে সন্তান মানুষ করেন তিনি?

Tiger Shroff Mother: বাঙালি দত্ত বাড়ির মেয়ে টাইগারের মা, জ্যাকিকে বিয়ের পর অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেম, কীভাবে সন্তান মানুষ করেন তিনি?

জ্যাকি শ্রফের সঙ্গে বিয়ে হয় এই বাঙালি মেয়ের৷ তাঁদের প্রেম এবং বিয়ের কাহিনি কোনও সিনেমার থেকে কম নয়৷

জ্যাকি শ্রফ ১৯৮৭ সালে আয়েশাকে বিয়ে করেন। বাঙালি দত্ত পরিবারের মেয়ে আয়েশা৷ তাঁর বাবা এয়ার ভাইস মার্শাল রঞ্জন দত্ত, যিনি একজন ভারতীয় বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা এবং বীর চক্র পুরস্কার বিজয়ী ছিলেন৷ বিয়ের আগে তাঁরা বেশ কয়েক বছর প্রেম করেছিলেন জ্যাকি ও আয়েশা৷ তবে তখন জ্যাকি নামী হিরো হয়ে ওঠেননি৷

সেই সময় আয়েশা ছিলেন মডেল৷ আয়েশা দত্ত ম্যানিলায় মিস ইয়ং ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন৷ ১৯৮৪-এ তিনি একটি ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন৷ তারপর আর সিনেমায় নয়, মডেলিং-এ নিজের কেরিয়ার তৈরি করেন জ্যাকি শ্রফের স্ত্রী৷

১৯৮৭ সালের ৫ জুন, নিজের জন্মদিনে তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক এবং বলিউড অভিনেতা জ্যাকি শ্রফকে বিয়ে করেন। এই বিয়েতে মত ছিল না আয়েশার পরিবারের৷ কারণ সেই সময় জ্যাকি থাকতেন মুম্বইয়ের চউলে৷ ফলে এয়ার ফোর্সের অফিসারের ঘরের মেয়ের বিয়ের পর এমন জায়গায় থাকবেন তা মানতে পারেননি বাবা-মা৷ তবে বিয়ের করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন দু’জনে এবং তাঁরা নিয়ম মেনে বিয়ে করেন৷

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে মেয়ে কৃষ্ণা শ্রফের সঙ্গে এক কথোপকথনে জ্যাকি প্রকাশ করেছেন যে, আয়েশার মা প্রথমে তাঁকে পছন্দ করেননি এবং এ কথাও স্বীকার করেছিলেন যে, তাকে দেখে এমন ছেলে বলে মনে হতো না যার সঙ্গে কোনো বাবা-মা তাদের মেয়ের বিয়ে দিতে চাইবে!

Tiger Shroff Mother: বাঙালি দত্ত বাড়ির মেয়ে টাইগারের মা, জ্যাকিকে বিয়ের পর অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেম, কীভাবে সন্তান মানুষ করেন তিনি?

জ্যাকি বিয়েটা ছিল একটি ফিল্মি প্রেমের গল্পের মতো, যেখানে আয়েশার পরিবার তাঁকে প্রথম দেখাতেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। জ্যাকি বলেন, “আমার মনে আছে, যখন আমি প্রথম প্রেম করছিলাম, আমি গেট দিয়ে ঢুকছিলাম আর আমার পরনে ছিল একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট বা সোয়েটার, যাতে অনেক ছেঁড়াফাটা ছিল। তখন আমার লম্বা হিপ্পি চুল, গোঁফ আর কালো প্যান্ট ছিল। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল, কোনো মা-ই এই ছেলেটিকে মেনে নেবে না।”

ধীরেধীরে জ্যাকি নিজেকে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ জ্যাকি শ্রফ এবং তাঁর স্ত্রী আয়েশা শ্রফ সেইসব দম্পতিদের মধ্যে অন্যতম, যারা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের সম্পর্ককে বাস্তব, সরল এবং মজবুত রেখেছেন। জাঁকজমক ও খ্যাতির অনেক আগেই, তাদের ছিল বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার উপর ভিত্তি করে গড়া এক প্রেমের গল্প।

তাদের পথচলা লোকদেখানো ছিল না, বরং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে—সংগ্রাম, সাফল্য এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুতে—একে অপরের পাশে থাকার গল্প। জ্যাকি যখন পর্দায় আলো ছড়িয়েছেন, আয়েশা সবসময়ই এক দৃঢ় অবলম্বন হয়ে নেপথ্যে থেকে সবকিছু সামলেছেন। তাঁরা দু’জনে একটি ঘনিষ্ঠ পরিবারও গড়ে তুলেছেন এবং খ্যাতি ও পরিচিতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সত্ত্বেও তাদের সন্তানদের বাস্তবসম্মত মূল্যবোধ দিয়ে বড় করে তুলেছেন।

তবে এত নায়িকার সঙ্গে কাজ করেও জ্যাকির মন তাঁর স্ত্রীর থেকে কখনও ওড়েনি৷ উল্টে তাঁর স্ত্রী পরকীয়া করে স্বামীকে ঠকিয়েছেন৷

সাহিল ও জ্যাকি শ্রফের স্ত্রী ২০০৯ সালে অংশীদারিত্বে একটি প্রযোজনা সংস্থা শুরু করেন, কিন্তু এই দুই ব্যবসায়িক অংশীদারের জন্য পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাহিল ও আয়েশাকে একসঙ্গে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। কখনও কখনও সঙ্গে জ্যাকিও থাকতেন! তখন ট্যাবলয়েডগুলো লিখত, “বয়স্ক নারী ও তাঁর সঙ্গী”, কারণ সাহিল তাঁর চেয়ে ১৭ বছরের ছোট ছিলেন।

এই সাহিলের সঙ্গেই জ্যাকির স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন৷ এই খবর ছড়াতে থাকে৷ একসময় জ্যাকির থেকে আলাদাও থাকতে শুরু করেন তিনি৷ পরে তাঁর ব্যবসায়ীক সমস্যা শুরু হতে সাহিলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় আয়েশার এবং এই সমস্যা থেকে জ্যাকিই তাঁকে উদ্ধার করেন৷

আয়েশা শ্রফ সাহিল খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে বলা হয় তিনি ৮ কোটি টাকা ফেরত দেননি। আয়েশার স্বামী জ্যাকি শ্রফও তাদের সুনাম নষ্ট করা এবং গণমাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর জন্য সাহিল ও তার বোন শাইস্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মামলা করেছিলেন। আয়েশার স্পষ্ট বলেন যে সাহিল সমকামী ফলে তাঁর সঙ্গে প্রেম সম্ভবই নয়৷

তবে এত কিছুর মধ্যেও টাইগার ও তার দিদিকে কঠিন হাতে মানুষ করেছেন জ্যাকি ও তাঁর স্ত্রী৷

(Feed Source: news18.com)