
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে গাড়িতে চেপে খুজদার থেকে কলাত যাচ্ছিলেন মহম্মদ। সেই সময় কিছু সশস্ত্র লোকজন তাঁর উপর চড়াও হয়। হাইওয়ে থেকেই তাঁকে অপহরণ করা হয়। কোয়েট্টার পুলিশ জানিয়েছে, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে অপহরণ করা হয় মহম্মদ এবং তাঁর তিন সশস্ত্র দেহরক্ষীকে। (Baloch Prince Kidnapped)
কলাত বালুচিস্তানের একটি ঐতিহাসিক শহর। সেখানে ১৫০০ বছর পুরনো প্রাচীন কলাত কালী মন্দিরও রয়েছে। ওই মন্দিরে রয়েছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কালীমূর্তি। পাহাড়ে স্থিত দুর্গকে ফারসিতে কলাত বলা হয়। সেই কলাত শহরের শাসককে খান বলা হতো। ব্রাহুইদের দ্বারা চালিত হতো কলাত।
বর্তমানে কলাত শহরের খান সুলেমান দাউদ। তিনি ব্রিটেন এবং ওয়েলসে থাকেন মূলত। বালুচিস্তানের সর্বত্র সমাদৃত তাঁরা। রাজনৈতিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখা, বালুচিস্তানের স্বতন্ত্র এবং সার্বভৌম পরিচিতি তুলে ধরায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে তাঁর পরিবারের।
কোয়েট্টা পুলিশ থেকে পাকিস্তানের তদন্তকারী সংস্থাগুলি মহম্মদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। চেষ্টা চলছে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনার। তবে তিনি কোথায় আছেন, কে বা কারা তাঁকে অপহরণ করল, এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে বরাবরই সংঘাত কলাতের খান পরিবারের। ১৯৪৭ সালের অগাস্ট মাসে বালুচিস্তান থেকে ইংরেজরা সরে গেলে, তদানীন্তন খান, মির আহমেদ ইয়ার খান কলাতকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার তার তীব্র বিরোধিতা করে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয় পাক সরকার। পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হতে চাপ সৃষ্টি করা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। কিন্তু নতিস্বীকার না করে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাঁরা। মির আহমেদ এবং তাঁর ভাই, যুবরাজ আব্দুল করিমই প্রথম বালুচিস্তানে পাক সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা করেন।
১৯৫৮ সালে সার্বভৌম কলাতের স্বীকৃতি চেয়ে চাপ বাড়াতে শুরু করেন মির আহমেদ। তাতে পাকিস্তানি সেনা প্রাসাদে ঢুকে তাঁকে গ্রেফতার করে। সাময়িক ভাবে তাঁর উপাধিও কেড়ে নেওয়া হয়। মির আহমেদের পৌত্র সুলেমান। ২০০৬ সালে পাকিস্তান সরকার এবং পাক সেনার সঙ্গে খানদের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। বালুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা আকবর বুগতিকে হত্যা করে পাক সেনা। জবাবে, পরিষদ বসিয়ে ১৯৪৮ সালে পাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করেন সুলেমান।
সেই সময় সুলেমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তোলে পাক সরকার। রাজনৈতিক ভাবে চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি, নিত্যদিন হুমকি-হুঁশিয়ারি দেওয়া শুরু হয়। সেই আবহে ২০০৭ সালে ইউরোপ পালিয়ে যান সুলেমান। সেই থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন তিনি। বিদেশে থেকে আজও বালুচিস্তানের উপর পাকিস্তানের দখলদারির বিরোধিতা করে চলেছেন। সেই থেকে গত দু’দশকে পাক সরকারের তরফে তাঁকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা হলেও, রাজি হননি সুলেমান। আন্তর্জাতিক মহল থেকে বালুচিস্তানের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ফিরতে নারাজ তিনি। তবে সুলেমান বিদেশে থাকলেও, তাঁর ছেলে যুবরাজ মহম্মদ এবং পরিবারের অনেকেই বালুচিস্তানেই থেকে গিয়েছেন। অস্থির পরিবেশ, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। লাগাতার হুমকিও পেতে হয় তাঁদের। আর সেই আবহেই অপহরণ করা হল যুবরাজ মহম্মদকে।
(Feed Source: abplive.com)
