বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হাতের লেখা কার জানেন…? পাতায় পাতায় ছড়ানো ‘মুক্তোদানা’, লেখা তো নয়, যেন ‘প্রিন্ট’

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হাতের লেখা কার জানেন…? পাতায় পাতায় ছড়ানো ‘মুক্তোদানা’, লেখা তো নয়, যেন ‘প্রিন্ট’

Most Beautiful Handwriting: কথায় বলে ‘মুক্তোর মতো হাতের লেখা’! আসলে হাতের লেখা ভালো হলে পরীক্ষার খাতা হোক বা প্রেমপত্র, কদর বেড়ে যায় এক লহমায়। কিন্তু আজকাল এই কম্পিউটার আর রোবোটিক্স-এর যুগে যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সুন্দর হাতের লেখা করার ঝোঁক! কিন্তু এমন হাতের লেখাও আছে যা দেখছে চোখ কপালে ওঠে। এমনই আলপনার মতো সুন্দর হ্যান্ড-রাইটিংয়ের মালকিন কে জানেন? চলুন চিনে নেওয়া যাক সেই কন্যাকে!

আমরা এখন এমন একটা সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যে হাতে লেখা প্রায় ভুলতে বসছেন সবাই। এমনকি স্কুল পড়ুয়া শিশু থেকে কিশোর, সবাই আজকাল কিবোর্ডে টাইপ করে এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেই বড় হচ্ছে। এক প্রম্প্ট মুহূর্তে তৈরি করে দিচ্ছে গোটা এক্সেল সিট। তাই হাতে, কাগজ পেনে লেখা প্রায় ভুলতে বসেছে আট থেকে আশি।

কিন্তু জানেন কী নেপালের প্রকৃতি মল্লা মাত্র ১৪ বছর বয়সে তাঁর অসাধারণ পরিচ্ছন্ন মুক্তোর মতো হাতের লেখা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল গোটা পৃথিবীতে। মাত্র একপাতা হাতের লেখা দিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সেই চতুদ্দশী কন্যা।

প্রকৃতির লেখা অক্ষরগুলো এতটাই সুষম ব্যবধান সঠিক আকারে লেখা ছিল এবং প্রতিটি লাইন এতটাই নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল যে, অনেকেই তাঁর সেই লেখাকে কম্পিউটার-প্রিন্ট ফন্ট বলে ভুল করতেন। এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল যে এমন নিখুঁত লেখা একজন অল্পবয়সী স্কুলছাত্রীর হাত থেকে এসেছে।

উইকিপিডিয়া তথ্য অনুসারে, মল্লার বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর এবং বীরেন্দ্র সৈনিক আবাসিক মহাবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন। আর সেই সময়ই প্রকৃতির হাতের লেখা বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে নেয়, ঝড় তোলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং ভাইরাল হয়ে যায়।

কী ভাবে সবার নজরে পরে প্রকৃতির লেখা?
স্কুলের একটি সাধারণ প্রজেক্ট হিসেবেই আসলে সূত্রপাত। প্রকৃতির অসাধারণ হাতের লেখা নেপালের‌ই এক ভদ্রলোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তিনি মুগ্ধ হয়ে সেই লেখাটির ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। আর ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। অল্প সময়েই অনলাইনে আলোড়ন সৃষ্টি করে প্রকৃতির লেখা এবং সে সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়।

মল্লার লেখা একটি ইংরেজি পাতা তার ক্লাসরুমের গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই দাবানলের মতো ভাইরাল হয়ে যায় ছবিগুলো। ছবির সেই অক্ষরগুলিকে প্রায় ছাপার অক্ষরের মতো দেখাচ্ছিল আর তাতেই অচেনা মানুষও সেই লেখার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে যান।

ন্দর ছবির মতো হাতের লেখার জন্য প্রকৃতি মল্লা ২০১৬ সালেই নেপালে জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তার হাতের লেখা আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা তার এই অসাধারণ প্রতিভাকে আরও বৃহত্তর দর্শকের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে। ক্রমশ সবাই তাঁকে চিনতে শুরু করে তাঁর হাতের লেখার জন্য!

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ‘হস্তাক্ষর’
‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর হস্তাক্ষর’ এই ক্যাপশনটি মাত্র অল্প সময়েই প্রকৃতির নামের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায়। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে নেপালি কন্যার হস্তাক্ষর এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায় যে ঝড়ের মতো বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের মানুষের নজরে আসে ম্যাজিকের মতো।

প্রকৃতির হাতের লেখা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তার প্রত্যেকটি লেখার মাঝখানের ফাঁকা জায়গা গুলো প্রত্যেকটি সমান। তার লেখা প্রায় নিখুঁত বলা যায়। আর তাই তার এই লেখা শুধু নেপাল নয় সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ৫১তম ‘স্পিরিট অফ দ্য ইউনিয়ন’ উদযাপন উপলক্ষে দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি চিঠি লেখার পর প্রকৃতির হাতের লেখা আবারও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। সে দেশের দূতাবাসে লেখাটি জমা দিতেই দূতাবাসের তরফে প্রকাশ্যে তার এই অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং প্রকৃতিকে বিশ্বের সেরা হস্তাক্ষরের অধিকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

সম্প্রতি এই রোবোটিক্সের যুগে ফের একবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে প্রকৃতির হাতের লেখা। আর আবারও সেই লেখার তারিফ করে চলেছেন নেটিজেনরা। লেখা দেখে কেউ কেউ তো মন্তব্য করেছেন এই হাতের লেখা দেখলে মনে হয় যেন কম্পিউটারে টাইপ করা। আবার কখনও কখনও প্রকৃতির হাতের লেখা এত বেশি সুন্দর হয় যা কম্পিউটারের এমএস ওয়ার্ড এর চেয়েও বেশি সুন্দর দেখায় তাঁর লেখা শব্দগুলো।

(Feed Source: news18.com)