ওজন কমাতে হলুদ খান? আপনার শরীরে আদৌ সহ্য হবে কিনা জানুন

ওজন কমাতে হলুদ খান? আপনার শরীরে আদৌ সহ্য হবে কিনা জানুন

#কলকাতা: হলুদ। শুধু রান্নায় নয়, আয়ুর্বেদে একে প্রায় মহৌষধের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে হোক কিংবা ত্বকের যত্নে পেস্ট, হলুদের গুণ গুণে শেষ করা যাবে না। হলুদ ওজন কমাতেও অব্যর্থ। কিন্তু শরীরে বেশি হলুদ গেলে উল্টো ফল হতে পারে জানা আছে কি? দেখে নেওয়া যাক সেগুলো।

অতিরিক্ত হলুদ: অতিরিক্ত হলুদ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অন্যান্য সমস্ত মশলা এবং ভেষজগুলির মতো, হলুদ সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। বা এভাবেও বলা যায়, হলুদ তখনই শরীরের জন্য উপযোগী যখন যখন এটা শরীরকে নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রদান করা হয়। খাবারেও হলুদ গুঁড়ো কমই ব্যবহার করা হয়। এক চামচের বেশি নৈব নৈব চ।

দিনে কতটা হলুদ খাওয়া উচিৎ: বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুসারে, একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হলুদ খেতে পারেন। এর বেশি ১ থেকে ৩ গ্রাম পর্যন্ত খাওয়া যায়। কিন্তু তার বেশি হলে সেটা ঝুঁকির। তবে একজন ব্যক্তি কতটা হলুদ খেতে পারেন সেটা তাঁর স্বাস্থ্য অবস্থার উপরেও নির্ভর করে।

অতিরিক্ত হলুদ খেলে কী হয়: বেশি হলুদ খেয়ে ফেললে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। অবস্থা কতটা জটিল সেটা নির্ভর করে একজন ব্যক্তি কতটা হলুদ খেয়েছেন তার উপরে। হলুদ অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে পেট খারাপ, ডায়রিয়া, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, মাথা ঘোরা এবং মাথা ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রচুর পরিমাণে হলুদ খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এটা প্রস্রাবের অক্সালেটের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তবে ত্বকে লাগালে এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। কিন্তু ত্বকের রঙ হলুদ হয়ে যায়। এ জন্য ফেস প্যাকগুলিতে খুব কম পরিমাণে হলুদ ব্যবহার করা হয়।

কারা হলুদ ব্যবহার করবেন না: যাঁদের পিত্তথলির সমস্যা, রক্তপাতের সমস্যা, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিসঅর্ডার রয়েছে তাঁদের যতটা সম্ভব কম হলুদ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ডায়াবেটিস রোগীদেরও সতর্কতার সঙ্গে হলুদ খাওয়া উচিত। কারণ হলুদে থাকা কারকিউমিন রক্তে শর্করার মাত্রা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। যাঁদের আয়রনের ঘাটতি রয়েছে তাঁদের হলুদ খাওয়া এড়িয়ে যাওয়াই উচিত। কারণ হলুদ আয়রন শোষণের হারকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

হলুদ কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে: মনে করা হয়, হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন উপাদান ফ্যাট টিস্যুর বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। ওজন এবং বডি মাস ইনডেক্স কমাতে হলুদের প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা রয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, কারকিউমিন ১১-বিটা-হাইড্রোক্সিস্টেরয়েড ডিহাইড্রোজেনেজ এনজাইমকে দমন করতে পারে যা কর্টিসোলকে সক্রিয় করে। এটা উচ্চ স্তরের অ্যাডিপোসাইটগুলিতে (চর্বি কোষ যা শক্তি সঞ্চয় করে) স্থূলতা বাড়ায়।

Published by:Raima Chakraborty

(Source: news18.com)