
#কলকাতা: রাজ্যে প্রথম বার সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হল শিশুদের যৌন প্রতিরোধ আটকাতে সচেতনতার পাঠ। সপ্তম শ্রেণির স্বাস্থ্য ও শারীর শিক্ষা বইতে এই অংশ নথিভুক্ত করা হল। এর আগে সাধারণত ছড়া হিসাবেই তা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।এবার এই প্রথম বিভিন্ন আইনের সংস্থানকে উল্লেখ করে সিলেবাসে তা বিশদে অন্তর্ভুক্ত করা হল।
মূলত “যৌন অপরাধ বিরোধী শিশু সুরক্ষা আইন ২০১২”-র একাধিক অংশকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সপ্তম শ্রেণি র এই বইতে ছবি সহ আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হেনস্থার শিকার হলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে, কোন কোন বিষয়কে যৌন হেনস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যৌন হেনস্থা প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, অভিভাবকদের এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সচেতনতা প্রয়োজন, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে শিশুদের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, গোটা বিষয়টি সিলেবাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোট চার পাতা জুড়ে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান অভীক মজুমদার বলেন, ‘শিশুদের জন্য যেটা প্রয়োজন মনে করা হয়েছে, সেটাই সিলেবাসে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুদের কথা ভেবেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
২০১৭ সালে সিলেবাসে নিয়ে আসা হয়েছিল ‘গুড টাচ, ব্য়াড টাচ’। তবে সিলেবাসে যৌন হেনস্থা প্রতিরোধে শিশুদের সচেতনতা পাঠ দেওয়া হলেও শিক্ষকরা কীভাবে তা পড়াবেন তা নিয়ে অবশ্য সিলেবাস কমিটির অন্দরে রয়েছে প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যদিও অন্যান্য রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সিলেবাসে। সাম্প্রতিক সময় রাজ্যের কয়েকটি স্কুলের যৌন হেনস্থার ঘটনাও ঘটেছে। মনে করা হচ্ছে, এই বিষয়গুলি নিয়ে শিশুরা পড়তে শুরু করলে তাদের মধ্যে যৌন হেনস্থা নিয়ে সচেতনতা আরও বাড়বে। তবে শুধু যৌন সচেতনতায় প্রতিরোধের পাঠ নয়, এবারে সিলেবাসে ‘গুড টাচ, ব্য়াড টাচ কে আরও বিস্তৃত আকারে নিয়ে আসা হয়েছে।’
