
এক সময় রান্নাঘর ছিল নিতান্ত অবহেলিত, তেল-কালি মাখা, গরম, স্যাঁতস্যাঁতে। অথচ, এই রান্নাঘরই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক রান্নাঘরে অবশ্য সমস্ত স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়।
রান্নার সময় যে পরিমাণ ধোঁয়া ও বাষ্প চিমনি টেনে নিয়ে বের করে দিতে পারে, তা রান্নাঘরে আটকে থাকা স্বাস্থ্যকর নয়। সেই কারণেই এখন রান্নাঘরে চিমনি রাখতে চান প্রায় সকলেই। কিন্তু, ভারতীয় রান্নাঘরে ঠিক কেমন চিমনি লাগানো উচিত, তা অনেকেই জানেন না। আসলে চিমনি দু’রকমের হতে পারে— ডাক্টেড বা ডাক্টলেস।
অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতার কারণে নিজের রান্নাঘরে ভুল চিমনি ইনস্টল করে ফেলেন। তার ফলে আখেরে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। রান্নাঘর অনুযায়ী সঠিক চিমনি না লাগালে তা থেকে বাষ্প এবং ধোঁয়া বের হয় না। বরং তা রান্নাঘরেই থেকে যায়, দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারতীয় রান্নাঘরের জন্য সেরা চিমনি হওয়া উচিত কেমন, দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
বাঙালিরা তো বটেই, গোটা ভারতবর্ষের মানুষেরই খাদ্যাভ্যাস অন্য দেশের নাগরিকদের তুলনায় একেবারে আলাদা। এখানে কোনও রান্নাই তেল ছাড়া তৈরি করা হয় না। কোথাও কোথাও ঘি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া শাক-সবজি তো রয়েছেই, রয়েছে মাছ, মাংস। সবই তেল, মশলা দিয়ে রান্না করা হয়। তাই রান্নার সময় ধোঁয়াও বেশি তৈরি হয়। তাই ইউরোপীও রান্নাঘরের সঙ্গে একটা পার্থক্য যে রয়েছে তা বেশ বোঝা যায়। ভারতীয় রান্নাঘরে ডাক্টেড চিমনি বসালে সমস্যা হতে পারে। বরং ডাক্টলেস চিমনি খুব সহজেই বেশি ধোঁয়া বের করে দিতে পারে।
ডাক্টেড চিমনি যেভাবে কাজ করে—
ডাক্টেড বা নালীযুক্ত চিমনিতে ধোঁয়া বের করার জন্য একটি নালী বা পাইপ দেওয়া থাকে। এই চিমনিগুলি এমন জায়গায় ইনস্টল করা হয়, যেখানে চিমনি পাইপটি বের করার জায়গা নেই। এর ফলে ধোঁয়া বের করতে অনেক সমস্যা হয়। তাই ভারতীয় রান্নাঘরে এই ধরনের চিমনির সাফল্য কম হয়ে থাকে।
ডাক্টলেস চিমনি—
ডাক্টলেস চিমনি বরং ভারতীয় রান্নাঘরের জন্য ভাল কাজ করতে পারে। এই চিমনিটি এমন জায়গায় ইনস্টল করা হয় যেখানে রান্নাঘরের একটি জানালা বা যে কোনও দিক খোলা থাকে। রান্নাঘরে খাবার রান্না করার ফলে যে ধোঁয়া ও বাষ্প উৎপন্ন হয় তা নালীবিহীন চিমনি থেকে সহজেই বেরিয়ে যায়।
