হারতে বসলেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ে না, নিজ-গুণে ‘জঙ্গলের রাজা’ সিংহ

হারতে বসলেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ে না, নিজ-গুণে ‘জঙ্গলের রাজা’ সিংহ
কলকাতা : রাজকীয় তার উপস্থিতি ! জঙ্গলের অন্য জীব-জন্তুরাও সমঝে চলে । প্রাণের ভয় বলে কথা। শুধু কি তাই ! লড়াইয়ের ময়দানে সুবিধাজনক জায়গায় না থাকলেও, পিছু হটতে জানে না সিংহ ! বরঞ্চ, বীরের মতো প্রাণ দিতে দু’দণ্ড ভাবে না ! ঠিক যেন, বাঘের উল্টো। মনে করা হয়, শক্তির নিরিখে এগিয়ে বাঘ। কিন্তু, ‘মান-সম্মানের’ প্রশ্নে এগিয়ে সিংহ-ই। তাই ‘সিংহের মতো লড়াই’ উপমার প্রচলন। এহেন ‘জঙ্গলের রাজা’ সিংহ আজ সংকটে।

সভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে কমছে বনভূমি। একের পর এক জঙ্গল কেটে সাফ করে দেওয়া হচ্ছে। গড়ে উঠছে বসতি। যার জেরে বাসস্থান হারাচ্ছে বন্যপ্রাণী। এর উপর রয়েছে চোরা শিকারিদের উপদ্রব। তাদের লোভ-লালসার কোপে পড়ছে বন্য জীবজন্তুরা। জলবায়ুর পরিবর্তন, শিকারেরব অভাব…ইত্যাদি কারণে আজ ‘জঙ্গলের রাজা’র অস্তিত্ব সংকটে। সেকথা মাথায় রেখেই সিংহের সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার জন্য ফি বছর পালন করা হয় World Lion Day বা বিশ্ব সিংহ দিবস। বিশ্বজুড়ে মানুষকে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে। গোটা দুনিয়ায় সিংহকুল যেভাবে বিপন্ন হতে বসেছে তা নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে এই দিনটি জুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। রাজকীয় চালের বৃহৎ বিড়াল পরিবারের অন্যতম এই সদস্যদের বাস্তুতন্ত্রে কী তাৎপর্য তা নিয়ে মানুষকে অবগত করার মধ্যেও রয়েছে এই দিনটির বিশেষত্ব।

World Lion Day-র ইতিহাস-

ফি বছর ১০ অগাস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে এই দিনটির উদযাপন শুরু হয়। সিংহদের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম স্বীকৃত অভয়ারণ্য Big Cat Rescue-র হাত ধরে। যার প্রতিষ্ঠাতা স্বামী-স্ত্রী ডেরেক ও বেভারলি জুবার্ট। যাঁরা সিংহের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা নিয়ে মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। জঙ্গলের রাজার প্রজাতি যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা মানুষকে জানানোর তাগিদ অনুভব করেন তাঁরা। সেই লক্ষ্যে ২০০৯ সালে তাঁরা National Geographic-এর দ্বারস্থ হন। তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপে Big Cat Initiative শুরু করেন। পরে ২০১৩ সালে আর একধাপ এগিয়ে জুবার্ট দম্পতি  National Geographic ও Big Cat Initiative-কে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসেন। যাতে দুনিয়াজুড়ে জঙ্গলে জঙ্গলে যে ক’টি সিংহ অবশিষ্ট রয়েছে, তাদের রক্ষা করা যায়। আর এভাবেই শুরু হয়ে যায় বিশ্ব সিংহ দিবস।

দিনটির তাৎপর্য-

জঙ্গলের অন্যতম আকর্ষণ এই বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে দিনটির বিশেষত্ব। এই প্রাণীগুলির সংরক্ষণের দ্রুত প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই কারণেই, বিশেষ এই দিনটিতে বাস্তুতন্ত্রে সিংহের গুরুত্ব বুঝিয়ে মানুষকে এব্যাপারে অবগত করা হয়।

উদযাপন-

বিশেষ এই দিনটি বিভিন্নভাবে উদযাপন করা হয়। যেমন- কোনও শিল্পকলা, ফটোগ্রাফি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিংহ এবং তার গুণগুলি তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দল, চিড়িয়াখানা এবং ব্যক্তিবিশেষে বিভিন্ন কার্যকলাপ এবং কর্মসূচিতে সামিল হন এই দিনটিতে। অথবা, সিংহের সংরক্ষণ প্রকল্পের তহবিলে টাকা তোলার কাজে লাগায় দিনটিকে। ওয়ার্কশপ, সেমিনার, ওয়েবিনার ও জনগণের সঙ্গে আলোচনারও ব্যবস্থা করা হয় বিশ্ব সিংহ দিবসে। এখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও এনিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। হ্যাশট্যাগ, পোস্ট ও ভিডিও শেয়ার করা হয় মানুষকে সচেতন করতে। মানুষ ও এই বন্যপ্রাণীর যাতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হয়, সেবিষয়ে নাগাড়ে প্রচার চলে।

(Feed Source: abplive.com)