তাঁর কাউন্টডাউনে কান রেখে চন্দ্রযানের চাঁদ ছোঁয়া দেখেছিল আসমুদ্রহিমাচল, চলে গেলেন সেই বিজ্ঞানী

তাঁর কাউন্টডাউনে কান রেখে চন্দ্রযানের চাঁদ ছোঁয়া দেখেছিল আসমুদ্রহিমাচল, চলে গেলেন সেই বিজ্ঞানী
চেন্নাই:  ভারত তখন চন্দ্রজয়ের স্বপ্ন দেখছে। তিন,দুই,এক করে ক্রমে মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে এগোচ্ছে ইসরো (Indian Space and Research Organisation)। চন্দ্রযানের সাফল্য কামনায় তখন টেলিভিশন সেটের সামনে তখন কোটি কোটি ভারতীয়। সকলের কানে বাজছে সেই কণ্ঠ। অনেকেই জানেন না, সেই কণ্ঠস্বর ছিল ইররোর বিজ্ঞানী এন ভালরমাথির (ISRO scientist N Valarmathi)। ইসরোর বড় রকেট লঞ্চ মানেই তাঁর কণ্ঠস্বর ! চন্দ্রযান চাঁদের মাটি ছুঁয়েছিল যখন, তখনও শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠ।  কিন্তু আর কোনওদিনও শোনা যাবে না N Valarmathi র কাউন্টডাউন।

X প্ল্যাটফর্মে এই দুঃসংবাদ জানিয়েছেন, ISRO-র প্রাক্তন Director ড. পি ভি ভেঙ্কিটাকৃষ্ণনন। তিনি লেখেন, ” শ্রীহরিকোটা থেকে ISRO-এর ভবিষ্যত মিশনের কাউন্টডাউনগুলির সময় আর শোনা যাবে না ভালরমাথি ম্যাডামের কণ্ঠস্বর৷ চন্দ্রায়ন ৩-এ শেষবার তাঁর গলায় ফাইনাল কাউন্টডাউন শোনা গিয়েছিল। একটি অপ্রত্যাশিত মৃত্যু। খুব খারাপ লাগছে। প্রণাম!”

জানা গিয়েছে, শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। বিজ্ঞানী ভালরমাথি, তামিলনাড়ুর আরিয়ালুরের বাসিন্দা। ২৯৫৯ সালের ৩১ জুলাই তাঁর জন্ম। কোয়েম্বত্তুর থেকে তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হয়েছিলেন। স্কুল শিক্ষা নির্মলা গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে। ১৯৮৪ সালে তিনি ইসরোয় কাজে যোগ দেন। এরপর মহাকাশ গবেষণার অনেক বড় বড় মিশনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতের প্রথম Radar Imaging Satellite (RIS), RISAT-1 তৈরির সময় তিনি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ছিলেন।

২০১৫ সালে তিনিই প্রথম আব্দুল কালাম সম্মানে ভূষিত হন। হঠাৎ করে বিজ্ঞানীর এমন চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে উপচে পড়ছে শোকবার্তা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি লিখেছেন, ”ভালারমাথি ম্যাডামের মৃত্যুর কথা শুনে আমি খুবই দুঃখিত। তিনি অনেকের কাছে সত্যিকারের অনুপ্রেরণা ছিলেন এবং প্রতিটি লঞ্চের সময় তার ভয়েস মিস করব। ওম শান্তি।”

অন্য একজন মন্তব্য করেন, ”আমি #AdityaL1 লঞ্চের সময় তার অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। আমি ভেবেছিলাম তিনি অফিসের বাইরে থাকতে পারেন। কিন্তু আমি এই দুঃখজনক খবর আশা করিনি। আমি সত্যিই তাকে মিস করব. ওম শান্তি।”

আরও একজন লিখেছেন, ‘এটা শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমরা গত বছর আমাদের বিক্রম-এস লঞ্চের জন্য তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি, সে সময় তিনি লঞ্চ কাউন্টডাউন করেছিলেন।”

চতুর্থ একজন লিখেছেন, ”তাঁর কণ্ঠ দেশের জন্য অসাধারণ ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেছিল। ভারতীয় মহাকাশ কৃতিত্বের আইকনিক মুহূর্তে তাঁকে সর্বদা স্মরণ করা হবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক এবং ঈশ্বর তাঁর পরিবারকে শক্তি দিন।”

(Feed Source: abplive.com)