
অবশেষে দ্রৌণাচার্য পুরস্কার পাচ্ছে ভারতীয় কোচ আর্মান্দো কোলাসো। গোয়ানিজ এই কোচ ভারতীয় ফুটবলমহলে অত্যন্ত চেনা। জাতীয় দলে না হলেও আইলিগের সময় তিনি দীর্ঘদিন সাফল্য দিয়েছেন গোয়ার ক্লাবকে। পরপর আইলিগ জিততেন। তাঁর ফুটবল দর্শনের সুবাদেই ভারতীয় ফুটবলে ব্যাপক উন্নতি হয় গোয়ার ফুটবলের। ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইতিহাসে কোচদের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার দ্রোণাচার্য।
একটা সময় আইলিগে একচ্ছত্র আধিপত্যই ছিল আর্মান্দো কোলাসোর ডেম্পোর। গোয়ার এই দলে বেটো, রন্টি মার্টিনস থেকে শুরু করে মহেশ গাওলি, সমির নায়েক, অ্যান্তনি পেরেইরা, দেবব্রত রায়দের নিয়ে শক্তিশালী দল বানিয়ে বারবার কলকাতায় এসে বড় দলগুলোকে নাস্তানাবুদ করে জেতেন আর্মান্দো কোলাসো। সেই তিনিই এবার দ্রোণাচার্য পুরস্কার পাচ্ছেন।
HT বাংলার পক্ষ থেকে কথা বলা হয় আর্মান্দো কোলাসোর সঙ্গে। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, ‘এই সম্মান পাওয়ার জন্য আমি অত্যন্ত খুশি, ভাষায় আমি ব্যখ্যা করতে পারব না এর আনন্দ। যারা আমায় সাহায্য করেছে এই সম্মান পেতে তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আজ নয় কাল আমি এই সম্মান পেতাম, আরও আগেই পেতে পারতাম। দেরিতে হলেও এই সম্মান পেয়ে আমি আপ্লুত ’।
এই পুরস্কার কাকে উৎসর্গ করতে চান? কোলাসো হাসি মুখে বললেন, ‘যে সমস্ত উঠতি তরুণ কোচরা আছে, তাঁদের সবাইকেই এই পুরস্কার উৎসর্গ করব। যে আমি যদি পারি তাহলে তোমরাও পারবে। আর তোমাদের পারতেই হবে ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে। তাই ওদেরই ডেডিকেট করব ’।ভারতীয় ফুটবলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে? কেন দল গত বছরে একটা ম্যাচও জিততে পারল না। কোলাসো বলছেন, ‘সমস্যা হচ্ছে ডেডিকেশন আর কমিটমেন্টের অভাব। এখন এত টাকা চলে আসায়, খেলার থেকে বেশি ক্লাব আর টাকার কথাই ফুটবলাররা ভাবছে। আগের মতো দায়বদ্ধতা আর নেই, যেমন আগেরকার ফুটবলারদের দেখা যেত’।
সুনীলের পরবর্তী স্ট্রাইকার খুঁজতে নাজেহাল অবস্থা ভারতীয় কোচ, কর্তাদের। ভবিষ্যৎ কি? কোলাসো বলছেন, ‘সুনীলকে একদিন থামতেই হত। ও সেটা করেছে। কিন্তু সমস্যাটা আরও গভীরে। যখন চারজন বিদেশি খেতালে পারছে, তখন ভারতীয় ফুটবলের উচিত একটা নিয়ম করে দেওয়া যে এশিয়ান ফুটবলারের মতো একজন ভারতীয় স্ট্রাইকারও খেলাতে হবে দলগুলকো। নাহলে কীভাবে স্ট্রাইকার উঠে আসবে ’।
ক্লাবগুলো এখন শর্ট টার্ম প্ল্যানিং করছে। সবাই আইএসএল নিয়ে ভাবছে। কীভাবে তাহলে জাতীয় দলে সাফল্য হবে? জাতীয় দলের স্বার্থেও কাজ করতে। আর কোচদেরও ১ বছর ২ বছর সময় দিলে হবে না। আরও সময় দরকার, দলকে চেনার বোঝার। আমায় যখন ডেম্পো এনেছিল, তখন কোনও বিষয়ে ওরা ঢোকেনি। আমায় আমার মতো কাজ করতে দিয়েছিল, সেটাই করতে দিতে হবে জাতীয় দলের কোচকে। এর জন্য সময় লাগে।কারণ সুনীল ছেত্রীর থেকে নতুন প্লেয়ারের ট্রানসফরমেশনটা ভালো হয়নি। এখন তাঁর পরিবর্ত খোঁজা খুবই কঠিন কাজ।
কম সময়ের জন্য হলেও তিনি কোচিং করিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল দলের হয়েও। তবে সিনিয়র দলে কলকাতায় তেমন সাফল্য পাননি তিনি। একপর নিজের রাজ্যে ফিরে ফের যুব ফুটবলার তুলে আনার কাজই করতেন আর্মান্দো। তাঁর দ্রোণাচার্য পাওয়ার খবর শুনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্তও। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘প্রথম গোয়ানিজ হিসেবে দ্রোণাচার্য পুরস্কার পাওয়ার জন্য আর্মান্দো কোলাসোকে অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। এই স্বীকৃতি তাঁর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ফুটবলার তুলে আনার অবদানকে স্যালুট জানায়। গোয়া তাঁর কৃতিত্বে গর্বি। আগামী দিনেও তাঁর সফলতা কামনা করি ’।
(Feed Source: hindustantimes.com)
