পহেলগাঁও নিয়ে বাড়ছে উত্তাপ, পাল্টা ঘোষণায় আকাশসীমা বন্ধ করল পাকিস্তান, স্থগিত করল শিমলা চুক্তি

পহেলগাঁও নিয়ে বাড়ছে উত্তাপ, পাল্টা ঘোষণায় আকাশসীমা বন্ধ করল পাকিস্তান, স্থগিত করল শিমলা চুক্তি

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় সংঘাত আরও বাড়ল। একদিন আগে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল থেকে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল এবং ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। এবার তার পাল্টা হিসেবে ভারতের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করল পাকিস্তান। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নিল প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার। সেই সঙ্গে ভারত যে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে ‘যুদ্ধঘোষণা’র সমান বলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে তারা।  (India-Pakistan Relations)

বুধবার একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করে ভারত। দিল্লিতে পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকে আধিকারিকদেরও চলে যেতে বলা হয়। ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের বেরিয়ে যেতে বলা হয় অবিলম্বে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার শেহবাজের নেতৃত্বে পাকিস্তান সিকিওরিটি কমিটির বৈঠক। সেখান থেকে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়। (Pahalgam Terror Attack)

ওই বৈঠকের পর যে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়, তা হল—

    • ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৯৭৩ সালের শিমলা চুক্তি স্থগিত।
    • ভারতীয়দের আর SAARC ভিসা দেবে না পাকিস্তান। অন্য সব ভিসাও বাতিল। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের সদস্য সংখ্যা তারাও কমিয়ে ৩০ করার কথা জানিয়েছে।
    • পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকতে পারবে না ভারতের বিমান। ভারতীয় সংস্থার মালিকানাধীন এবং ভারতীয় সংস্থা দ্বারা পরিচালিত বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ। এখন থেকেই কার্যকর সিদ্ধান্ত। 
    • ভারতের সঙ্গে সবরকমের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। কোনও তৃতীয় দেশ মারফতও হবে না ব্যবসা-বাণিজ্য। 
    • ভারত যে সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করেছে, সেই নিয়েও এদিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। শেহবাজ শরিফের দফতর বলে, “সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার যে ঘোষণা করেছে ভারত, তা প্রত্যাখ্যান করছে পাকিস্তান। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ওই আন্তর্জাতিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, যা সকলে মেনে চলতে বাধ্য। এভাবে একতরফা স্থগিতাদেশের কোনও বিধান এক্ষেত্রে নেই।”
    • শেহবাজের দফতর আরও বলে, “পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে জল, দেশের ২৪ কোটি মানুষের লাইফলাইন। যে কোনও অবস্থায় জল সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই হবে। জল আটকানো বা স্রোতের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়া বা নদীর নীচের দিকের অঞ্চলের অধিকার হরণের যে কোনও চেষ্টাকে যুদ্ধঘোষণা হিসেবে ধরা হবে এবং পূর্ণ শক্তির সঙ্গে এর জবাব দেওয়া হবে।”

এর মধ্যে শিমলা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল ভারত সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করেছিল। তারই পাল্টা হিসেবে পাকিস্তান শিমলা চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা করল পাকিস্তান, যা নিয়ে সিঁদুর মেঘ দেখছেন কূটনীতিকরা এতে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়বে বলে মত তাঁদের। 

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায়, লাইন অফ কন্ট্রোল অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অস্ত্রবিরতি বজায় রাখার বিধি রয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার দুই তরফে দুই দেশের সেনা মোতায়েন থাকে। ফলে ওই চুক্তি স্থগিত করায় আগামী দিনে পাকিস্তান নিন্ত্রণরেখার অস্তিত্ব মানবে কি না, সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এতে উপত্যকায় নাশকতা আরও বাড়বে, কমবে না বলে মত কূটনীতিকদের।

(Feed Source: abplive.com)