Fake Dentist: টেকনিশিয়ানরাই করছেন রুট ক্যানাল! ভুয়ো দন্ত চিকিৎসকের প্রতারণায় নাজেহাল অসংখ্য রোগী…

Fake Dentist: টেকনিশিয়ানরাই করছেন রুট ক্যানাল! ভুয়ো দন্ত চিকিৎসকের প্রতারণায় নাজেহাল অসংখ্য রোগী…

সেলিম রেজা, ঢাকা: রাজধানী ঢাকায় ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের (Fake Dentist) ছড়াছড়ি এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চকচকে সাইন বোর্ড সাঁটিয়ে নিরীহ রোগীদের প্রতারিত করে আসছেন তারা। তাদের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে রোগীদের জীবন। ভুয়ো দন্ত চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ঢাকার সিভিল সার্জন বরাবরে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের (Bangladesh) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদনের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০১০ ধারা ২৮ (১) এবং বাংলাদেশের হাইকোর্টের রায় মোতাবেক বিডিএস ডিগ্রী এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কেউ নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় বা দন্ত চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করতে পারবেন না। কেউ করলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপকার্য হবে একটি অপরাধ এবং এর জন্য তিনি ৩ বৎসর কারাদণ্ড- অথবা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড- অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। তারা আরও উল্লেখ করেন, এই আইন লঙ্ঘন করে কিছু সংখ্যক ভুয়া দন্ত চিকিৎসক অবৈধভাবে রাজধানী ঢাকায় ডেন্টাল ক্লিনিক খুলে চিকিৎসা সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। এমনকি নিজেদের নামের আগে ডাক্তার বা ডেন্টিস্টসহ বেআইনি পদবি যুক্ত করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত চিকিৎসক ভেবে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়ো দন্ত চিকিৎসকরা আইনী জটিলতা এড়াতে ভিজিটিং কার্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড ও সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রার্ড দন্ত চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে নিজেরাই অবৈধভাবে দন্ত চিকিৎসা পরিচালনা করে আসছে। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাদের এই বেআইনি কাজের কারণে রোগীরা যেমন অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। তেমনি মুখে জটিল সংক্রামক রোগ (যেমন: হেপাটাইটিস, এইডস ইত্যাদি) সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ভুক্তভোগী রোগীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

ভুয়া দন্ত চিকিৎসগণ স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা পেতে বাধা প্রদান করছেন। প্রতিবাদ করলে তারা বৈধ রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারদের হুমকি-ধমকিসহ নানাভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু তারা নিজেদের চিকিৎসক দাবি করছে, তাই দন্ত চিকিৎসক সম্পর্কে রোগীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে।  খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলার হাট-বাজারে চেম্বার খুলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভিজিটিং কার্ড, বিলবোর্ড বা সাইন বোর্ডে তাদের নাম ব্যবহার করে অন্তত ৫০০ জন ভুয়া চিকিৎসক ‘ডেন্টিস্ট’ অথবা ইংরেজি দুই অক্ষরে সংক্ষেপে ‘ডিটি’ পদবী ব্যবহার করে ক্লিনিক্যাল ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব চেম্বারে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসার খরচ বাবদ ‘ট্রিটমেন্ট রেইট চার্ট’। যেমন দাঁতের স্কেলিং, ফিলিং, লাইট কিউর জিআই, অটো জিআই, টেম্পোরারি ফিলিং, কমপ্লেইট ডেন্টাল, রুট ক্যানেল, ক্যাপসহ অন্তত ২২ ধরনের সেবার নাম ও খরচের হার সম্বলিত তালিকা। রেজিস্ট্রেশনবিহীন ভুয়া দন্ত চিকিৎসকেরা রোগীদের আকৃষ্ট করতে তাদের সাইনবোর্ডে নামের পিছনে পদবী হিসাবে কেউ কেউ বিএসসি ডেন্টাল (সিইউ), ডিডিটি ঢাকা, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ স্টেইট হেলথ ডিপার্টমেন্ট, ডিএমটি, ঢাকা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম লিখে রেখেছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিপ্লোমা ও বিএসসি টেকনিশিয়ান হয়েছেন।

তবে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের দেয়া সেবা প্রাপ্তির পক্ষে কেউ কেউ যুক্তি উপস্থাপন করে বলেছেন, ঢাকা শহরের বিশেষজ্ঞ ডেন্টিসদের কাছে চিকিৎসা নিতে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। শহরের আনাচে-কানাচে বা গ্রামের হাট-বাজারের ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের কাছে চিকিৎসা নিলে অনেকটা কম খরচে সাধারণ দাঁতের রোগীরা সেবা নিতে পারেন। এখন তাদেরকে বন্ধ করে দিলে গরিব রোগীরা সেবা নিতে বিপাকে পড়বে।  এ প্রসঙ্গে রাজধানী ঢাকার একজন ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান বলেন, যখন এলাকায় ডেন্টিস্ট ছিলেন না, তখন তো শত শত রোগীকে সেবা দিয়েছি। এখন ঢাকায় ডেন্টিস্টদের সংখ্যা বাড়ছে, আগমন বাড়ছে। এখন আমাদের সেবার উপর নানা অভিযোগ আসছে।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ পরিমল চন্দ্র মল্লিক জানান, ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা যেভাবে তাদের নামের আগে ডেন্টিস্ট লিখেছেন তা সম্পূর্ণ অবৈধ। সার্জন ছাড়া রুট ক্যানেলের চিকিৎসা দেওয়ার এখতিয়ার নেই তাদের। ছোট ছোট কিছু কাজ তারা করতে পারেন। এসব টেকনিশিয়ানরা কোন কাজগুলো করতে পারবে এটা নিদিষ্ট করা আছে। রুট ক্যানেলের মতো বড় কাজগুলো ডেন্টাল সার্জন ছাড়া করা যাবে না।

(Feed Source: zeenews.com)