হাসিনা-সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম ভোট ২০২৬-এর এপ্রিলে, ঘোষণা ইউনূসের

হাসিনা-সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম ভোট ২০২৬-এর এপ্রিলে, ঘোষণা ইউনূসের

ঢাকা : বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চা চলছিল। এনিয়ে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিস্তর জলঘোলাও হয় সম্প্রতি। ভোট করানোর জন্য সে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি চাপও বাড়াচ্ছিল । অবশেষে বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচনের কথা ঘোষণা করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে আয়োজিত হবে নির্বাচন। গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটাই প্রথম নির্বাচন হতে চলেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। এদিন সংবাদ সংস্থা এএফপি নিউজ ইউনূসকে উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করে। তিনি বলেছেন, “আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই ২০২৬-এর এপ্রিলের প্রথম অর্ধে যে কোনো দিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

গত বছর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউনূস। কিন্তু নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্ষমতায় আসার পরও স্থিতাবস্থা ফেরেনি বাংলাদেশে। বরং সাম্প্রদায়িক হিংসা, লুঠপাট চরমে ওঠে। সম্প্রতি ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে পড়ে নাকি কুর্সি ছাড়তে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। তা নিয়ে কিছুদিন টানাপোড়েন পর্ব মিটিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদেই বহাল রয়েছেন নোবেলজয়ী। কিন্তু, তাঁর সিংহাসনে যে এখন কাঁটা বিছানো, তা বিলক্ষণ বুঝেছেন তিনি। কারণ, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে দিনকয়েক আগে কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। চাপ বাড়াতে থাকে খালেদা জিয়ার বিএনপি-ও। দিনকয়েক আগেই দেশের বাইরে থেকেই ইউনূসের রক্তচাপ বাড়ান খালেদা-পুত্র। আবারও দেন হুঁশিয়ারি। বুঝিয়ে দেন, ইউনূসে আর আস্থা নেই তাঁদের। তারেক রহমানের কথাতেই স্পষ্ট সেই ইঙ্গিত মেলে, ‘সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে কারো কারো ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।’

বাংলাদেশে ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ শীর্ষক সভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতা দেন তারেক। স্লোগান তোলেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ… সবার আগে বাংলাদেশ।’ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার সময় বেঁধে দিয়ে তারেক বলেন, ক্ষমতায় না থাকলেও খালেদা জিয়ার বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নের কথাই সব সময় চিন্তা করে। বিএনপি নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করবে। তখনই তিনি সকলকে বলেন , এই স্লোগান শুনতে ও তার সঙ্গে ধ্বনি দিতে। ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, বাংলাদেশ সবকিছুর আগে’ । তার স্লোগানে গলা মেলায় সকলে।

(Feed Source: abplive.com)