৬ লক্ষ চিনা পড়ুয়াকে আমেরিকায় স্বাগত জানালেন ট্রাম্প, হঠাৎই চিনকে নিয়ে সুর নরম, কারণ কী?

৬ লক্ষ চিনা পড়ুয়াকে আমেরিকায় স্বাগত জানালেন ট্রাম্প, হঠাৎই চিনকে নিয়ে সুর নরম, কারণ কী?

নয়াদিল্লি: আমেরিকার মসনদে ফিরেই ‘এলিয়েন’ তাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকার দরুণ, হাতে-পায়ে-কোমরে বেড়ি পরিয়ে, সেনার বিমানে তুলে ফেরতও পাঠিয়েছেন অভিবাসীদের। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পই এখন সুর বদল করলেন। চিনা পড়ুয়াদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছেন তিনি। কয়েকশো বা কয়েক হাজার নয়, কয়েক লক্ষ চিনা পড়ুয়াকে আমেরিকায় পড়াশোনা করার অনুমতি দিলেন তিনি। (US-China Relations)

আমেরিকা-ফার্স্ট নীতিকে সামনে রেখেই দ্বিতীয় বার মসনদে আসীন হয়েছেন ট্রাম্প। তাই দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই বিদেশি তাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। সেই মতো হাতে-পায়ে-কোমরে বেড়ি পরিয়ে বেআইনি অভিবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠান। ভারতেও আমেরিকার সেনার বিমান নামে। হাতে-পায়ে-কোমরে বেড়ি পরা অবস্থায় দেশে ফেরেন ভারতীয়রা। তাঁদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তাতেও অবস্থান পাল্টায়নি ট্রাম্প সরকার। বরং বিশেষ ‘এলিয়েন শত্রু আইন’ আনতে উদ্যোগী হয় তারা। এমনকি বিদেশি পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া নিয়ে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গেও সংঘাত বাধে তাদের। (Donald Trump)

কিন্তু বছরের অর্ধেক পেরোতে না পেরোতেই কার্যত উল্টো সুর ট্রাম্পের গলায়। সোমবার তিনি জানালেন, ৬ লক্ষ চিনা পড়ুয়াকে আমেরিকায় এসে পড়াশোনার অনুমতি দিচ্ছেন তিনি। সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, “চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে আমাদের। ওদের হাতে কিছু তুরুপের তাস রয়েছে। আমার হাতেও রয়েছে। কিন্তু আমি চাল দিতে চাই না, তাতে ওরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি চারপাশ থেকে নানা কথা শুনতে পাই। বলা হয়, আমরা নাকি চিনা ওদের পড়ুয়াদের ঢুকতে দিচ্ছি না। আমরা ওদের সেই অনুমতি দিতে চলেছি। খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ৬ লক্ষ পড়ুয়া…চিনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলব আমরা।”

পরিসংখ্যান বলছে, আমেরিকার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে এই মুহূর্তে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার চিনা পড়ুয়া পড়াশোনা করছেন। ট্রাম্প আরও ৬ লক্ষকে দেশে স্বাগত জানাচ্ছেন। অথচ মে মাসেই একেবারে উল্টো কথা বলতে শোনা গিয়েছিল আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওকে। সংবেদনশীল বিষয়ের উপর গবেষণা করছেন, শি চিনপিংয়ের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে যাঁদের, সেই সব চিনা নাগরিকদের ভিসা বাতিল করা হবে। কিন্তু ট্রাম্প এখন বলছেন, বরাবরই চিনা পড়ুয়াদের স্বাগত জানানোর পক্ষে ছিলেন তিনি।

তাহলে কি মনের পরিবর্তন হল ট্রাম্পের? এই যুক্তি মানছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে এই মুহূর্তে চিনের সঙ্গে বোঝাপড়া চলছে আমেরিকার। আমেরিকার শিল্প সংস্থাগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে চিনের চুম্বক প্রয়োজন। পরিস্থিতি বুঝেই চিনের প্রতি সুর নরম করছেন ট্রাম্প। কৌশলী অবস্থান থেকেই চিনা পড়ুয়াদের স্বাগত জানাচ্ছেন তিনি। তবে এতে ট্রাম্পের অনুরাগীরা তাঁর উপর রুষ্ট হতে পারেন বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

(Feed Source: abplive.com)