Popular Actress on Casting Couch: ‘কেঁদে কেটে হাতে-পায়ে ধরি, তাও জোর করে আমাকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে…’, বিস্ফোরক অক্ষয়ের নায়িকা!

Popular Actress on Casting Couch: ‘কেঁদে কেটে হাতে-পায়ে ধরি, তাও জোর করে আমাকে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে…’, বিস্ফোরক অক্ষয়ের নায়িকা!

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অভিনেত্রী মোহিনীর (Mohini) নাম নব্বইয়ের দশকের দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের কাছে অজানা নয়। একসময় তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় তারকা, যিনি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তাঁর অভিনয় দক্ষতা এবং সৌন্দর্য দিয়ে। গ্রাম এবং শহরের উভয় ধরনের চরিত্রে সহজেই মানিয়ে নিতে পারতেন মোহিনী। তাঁর শেষ সিনেমা ১৪ বছর আগে মুক্তি পেলেও, দর্শকদের মনে তিনি এখনও এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন।

১৯৯৪ সালে আর কে সেলভামনি পরিচালিত ‘কানমনি’ নামের একটি রোম্যান্টিক ড্রামায় অভিনয় করেছিলেন মোহিনী। পরিচালক সেলভামনি এর আগে বিজয়কান্ত অভিনীত ‘ক্যাপ্টেন প্রভাকরণ’ (১৯৯১) পরিচালনা করে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। ‘কানমনি’ সিনেমায় মোহিনী প্রধান নারী চরিত্রে অভিনেতা প্রশান্তের বিপরীতে অভিনয় করেন। এই সিনেমায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও, কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কারণে এটি প্রবল সমালোচিত হয়। বিশেষ করে “উদাল থাঝুভা” গানের দৃশ্যগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক।

সম্প্রতি মোহিনী এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে, তাঁকে ওই অন্তরঙ্গ দৃশ্যগুলিতে অভিনয় করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, যদিও তিনি বারবার নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রথমে তিনি কেঁদে কেঁদে ওই দৃশ্যগুলোতে অভিনয় করতে রাজি হননি। তবে সিনেমার প্রযোজনা ব্যাহত হচ্ছে দেখে অবশেষে তিনি রাজি হন। মোহিনী বলেন, “পরিচালক আর কে সেলভামনি সুইমিং স্যুট পরার একটি দৃশ্যের পরিকল্পনা করেছিলেন। আমি এতে খুবই অস্বস্তিবোধ করছিলাম, তাই আমি কাঁদতে কাঁদতে দৃশ্যটি করতে অস্বীকার করি। এর ফলে শুটিং অর্ধেক দিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি বোঝানোর চেষ্টা করি যে আমি সাঁতারও জানি না! আর কীভাবে একজন নারী প্রশিক্ষক ছাড়া পুরুষ প্রশিক্ষকদের সামনে অর্ধ-পোশাকে শিখতে পারি? তখন নারী প্রশিক্ষক প্রায় ছিলই না। তাই আমি কাজটি করার কথা ভাবতেই পারছিলাম না। আমার মনে হয়েছিল ‘উদাল থাঝুভা’ গানের জন্য এই দৃশ্যটি করতে আমাকে ‘বাধ্য’ করা হয়েছে।”

তা সত্ত্বেও মোহিনী শেষ পর্যন্ত গানটিতে অভিনয় করেন। তিনি বলেন, “আমি অর্ধ-দিন কাজ করে যা যা চেয়েছিল তা দিয়েছিলাম। পরে যখন ওরা বলল যে একই দৃশ্যটি উটিতে শুট করতে হবে, আমি অস্বীকার করি। তখন ওরা যখন বলল শুটিং আর হবে না, আমি বলি, ‘এটা আপনাদের সমস্যা, আমার নয়। এর আগেও আপনারা আমাকে একইরকমভাবে জোর করে কাজটা করিয়েছিলেন।’ তাই ‘কানমনি’ই একমাত্র সিনেমা যেখানে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে সাহসী পোশাক পরতে হয়েছে। কখনও কখনও এমন কিছু ঘটে যা একজনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়, আর এই দৃশ্যটি ছিল তেমনই এক ঘটনা।” তিনি আরও বলেন যে, ‘কানমনি’ সিনেমায় তাঁর চরিত্রটি “খুব সুন্দর এবং চ্যালেঞ্জিং” ছিল, কিন্তু এটি সেইভাবে স্বীকৃতি পায়নি, যেভাবে তা পাওয়ার যোগ্য ছিল।

মোহিনী দুই দশকের কর্মজীবনে শিবাজী গণেশন, নন্দমুরি বালাকৃষ্ণ, চিরঞ্জীবী, মোহনলাল, মাম্মূটি, শিবারাজকুমার, বিজয়কান্ত, বিষ্ণুবর্ধন, বিক্রম, রবিচন্দ্রন, শরৎকুমার, মোহন বাবু এবং সুরেশ গোপীর মতো বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘চিন্না মারুমগল’, ‘আদিত্য ৩৬৯’, ‘হিটলার’, ‘নাডোডি’, ‘ইন্নাথে চিন্থা বিশায়ম’, ‘সৈনয়ম’, ‘ভেশাম’, ‘অরু মারাভাথুর কানভু’, ‘গাডিবিডি আলিয়া’, ‘থায়াগাম’, ‘লালী’, ‘নিশব্দা’, ‘পুধিয়া’, ‘শ্রীরামচন্দ্র’, ‘থাই মোঝি’, ‘ডিটেক্টিভ নারদ’, এবং ‘কালেক্টর’। তিনি অক্ষয় কুমারের বিপরীতে ‘ডান্সার’ (১৯৯১) নামের একটি হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।

(Feed Source: zeenews.com)