কৃষক আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি, তিরস্কৃত কঙ্গনা রানাউত, সুপ্রিম কোর্ট বলল, ‘সামান্য বিষয় নয়’

কৃষক আন্দোলন নিয়ে কটূক্তি, তিরস্কৃত কঙ্গনা রানাউত, সুপ্রিম কোর্ট বলল, ‘সামান্য বিষয় নয়’

 

নয়াদিল্লি: এবার সুপ্রিম কোর্টে তিরস্কৃত বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। কৃষক আন্দোলনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় যে মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন কঙ্গনা, তা নিয়ে মানহানির মামলা হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে পৃথক আবেদন জানিয়েছিলেন কঙ্গনা। কিন্তু তাঁর সেই আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত।  বাধ্য় হয়ে আবেদন তুলে নিতে হল কঙ্গনাকে। (Supreme Court)

২০২১ সালে কৃষক আন্দোলন চলাকালীন মহিলা আন্দোলনকারীদের নিয়ে সোশ্য়াল মিডিয়ায় বেশ কিছু লেখা পোস্ট করেন কঙ্গনা। সেই নিয়ে কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন পঞ্জাবের ভাটিন্ডার বাসিন্দা, ৭৩ বছর বয়সি মহিন্দর কৌর। একটি পোস্টে মহিন্দরকে ‘শাহিনবাগের দাদি বিলকিস’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন কঙ্গনা, যিনি ২০১৯ সালে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (CAA) বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। (Kangana Ranaut)

শুধু আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করেই থামেননি কঙ্গনা। আন্দোলনে শামিল হওয়া মানুষজনকে কুরুচিকর আক্রমণ করতেও দেখা যায় তাঁকে। কঙ্গনার দাবি ছিল, আন্দোলনে যোগ দিতে মাথাপিছু ১০০ টাকা দিয়ে ভাড়া করে আনা হয় ওই সব মহিলাদের। মামলার শুনানি চলাকালীন কঙ্গনার আইনজীবী বলেন, “অন্যের লেখা কঙ্গনা রিপোস্ট করেছিলেন মাত্র। আসল পোস্ট যাঁর, তাঁকে না ডেকে, নায়িকাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।”

কিন্তু বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই যুক্তি মানেননি। তাঁরা বলেন, “সামান্য রিট্যুইট নয়। নিজের মন্তব্য় যোগ করেছেন। নুন মশলা যোগ করেছেন আপনি। এর অর্থ কী, তা নিয়ে শুনানি চলছে। তাই কী লেখা হয়েছে, তাতে আমাদের মমতা জিজ্ঞেস করবেন না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।” এর পরই কঙ্গনার আইনজীবী আদালতে থেকে আবেদনপত্র তুলে নেন। এর পর কোর্ট সেটিকে বাতিল করে দেয়। 

গত মাসে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টও কঙ্গনার আবেদন খারিজ করে দেয়। এই মামলায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাটিন্ডার ম্যাজিস্ট্রেট কঙ্গনাকে সমন করেছিলেন, যার বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিলেন কঙ্গনা। কিন্তু তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়।  পঞ্জাব ও হরিয়ানা কোর্ট সেই সময় জানায়, ওই লেখা পোস্টের নেপথ্যে খারাপ অভিসন্ধি ছিল না বলে প্রমাণ করতে পারেননি কঙ্গনা। জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই, আরও দায়িত্বশী হওয়া উচিত ছিল কঙ্গনার।

যে কৃষি বিল পরে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় কেন্দ্র, সেই বিলের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন মহিন্দর। তিনি জানান, কঙ্গনা তাঁকে অসম্মান করেছেন, শাহিনবাগের বিলকিস বানোর বলে উল্লেখ করেছেন। ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় কঙ্গনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন তিনি, মানহানি ও মানহানির শাস্তি।

(Feed Source: abplive.com)