
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ভারতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছে মার্চ মাসে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে। তারপর থেকে তিনি টিম ইন্ডিয়ার বাইরে। কখনও ভুগিয়েছে চোট আঘাত, কখনও ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থেকেছে। মাঝে শুধু দলীপ ট্রফি খেলেছিলেন। তবে সেরা ছন্দে ছিলেন না।
তবে যে মহম্মদ শামিকে (Mohammed Shami) এক সময় ভারতের অন্যতম সেরা পেস অস্ত্র মনে করা হতো, ২০২৩ ওয়ান ডে বিশ্বকাপে যিনি ছিলেন দেশের সেরা পারফর্মার, তাঁকে নিয়ে ভারতের সিনিয়র নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকরের মন্তব্য চমকে দিয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ভারতের টেস্ট দল ঘোষণার সময়ই আগরকর বলেছিলেন, শামির ফিটনেস নিয়ে কোনও আপডেট নেই তাঁদের কাছে। যা নিয়ে রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচের আগে বোমা ফাটিয়েছিলেন শামিও। বলেছিলেন, ‘নির্বাচকদের আপডেট দেওয়া আমার কাজ নয়। আপডেট জানতে চাইতে হয়।’
নির্বাচকদের উপেক্ষার জবাব দিতে যেন বাইশ গজকেই বেছে নিয়েছেন শামি। ডানহাতি ফাস্টবোলার এবারের রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলছেন। ইডেনে প্রথম ম্যাচে উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট। বাংলাকে জিতিয়েছিলেন দুরন্ত বোলিং করে। ম্যাচের সেরাও হন। গুজরাতের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচেও ছন্দে দেখাচ্ছে শামিকে। রবিবার তিনটি স্পেলে বোলিং করলেন। প্রথম স্পেলের পরিসংখ্যান ৫-৩-১০-১। দ্বিতীয় স্পেলে ৩ ওভার বল করে মাত্র ১০ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট। তৃতীয় স্পেলে কোনও উইকেট না পেলেও ৬ ওভারে ৩টি মেডেন নিলেন। দিলেন মাত্র ১৪ রান। সব মিলিয়ে রবিবার তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ১৪-৬-৩৪-২। বাঁহাতি ব্যাটারকে রাউন্ড দ্য উইকেট বল করে অতিষ্ঠ করে তুললেন। তাঁর কয়েকটা বল লাফিয়ে উঠে কিপ করতে হল অভিষেক পোড়েলকে। কয়েকটা বল ব্যাটের কানা ঘেঁষে চলে গেল। শামির সঙ্গে করমর্দন করার জন্য ইডেনের ডি ব্লক থেকে এক সমর্থক মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। সিএবি সচিব বাবলু কোলে পরে যা নিয়ে বললেন, ‘ওই সমর্থকের খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
শামির আগুনে বোলিং দেখে প্রভাবিত রুদ্রপ্রতাপ সিংহও। জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক বাংলা বনাম গুজরাত ম্যাচ দেখতে ইডেনে হাজির হয়েছেন। শামির স্পেল দেখলেন মন দিয়ে। খাতায় নোটও নিলেন।
কম আলো আর বৃষ্টির জন্য দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট আগেই বন্ধ হয়ে গেল। তারপরই প্রাক্তন পেসার আর পি সিংহকে দেখা গেল ক্লাব হাউসের ড্রেসিংরুমের বাইরে বসে শামির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করলেন। এতদিন ধরে বলাবলি হচ্ছিল, কেন শামির মতো দেশের ক্রিকেটের অন্যতম সফল যোদ্ধার সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা করছেন না নির্বাচকেরা! অশ্বিনের মতো কিংবদন্তিও বলেছিলেন, শামির সঙ্গে কথা বলে কেন সরাসরি বলা হচ্ছে না যে, তোমার কাছে আমরা এটা চাইছি। তাহলেই তো মেটে ভুল বোঝাবুঝি।
সেই প্রতীক্ষিত আলোচনা কি ইডেনেই সেরে ফেললেন শামি ও আরপি? মাঠ থেকে বেরনোর সময় শামিকেই সেই প্রশ্ন করা হল। গাড়িতে উঠতে উঠতে ফাস্টবোলার বললেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমাদের আলাপ রয়েছে। সেই সূত্রেই কথা হচ্ছিল।’ তবে জাতীয় নির্বাচক ও শামির প্রায় আঘ ঘণ্টার বৈঠক হচ্ছে, আর সেখানে ক্রিকেট নিয়ে, জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না, এমন কথা বিশ্বাস করা দায়।
নভেম্বরেই দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ ভারতের। ইডেনে ১৪ নভেম্বর থেকে প্রথম টেস্ট ম্যাচ। কে বলতে পারে যে, সেই ম্যাচে যশপ্রীত বুমরার সঙ্গে নতুন বলে আগুন ছোটাতে দেখা যাবে না শামিকে?
(Feed Source: abplive.com)
