বিশ্বকাপ জয় আলাদা প্রাপ্তি, জীবনের অন্য কোনও না পাওয়ার সঙ্গে মেলানো যায় না, বলছেন গুরু অমল

বিশ্বকাপ জয় আলাদা প্রাপ্তি, জীবনের অন্য কোনও না পাওয়ার সঙ্গে মেলানো যায় না, বলছেন গুরু অমল

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: পিছনে বাজছে চক দে, চক দে ইন্ডিয়া… আর জাতীয় পতাকার প্রেক্ষাপটে ক্যামেরায় ফুটে উঠছে তাঁর মুখ। অভিব্যক্তিতে ভরা। আনন্দ, স্বস্তি, উচ্ছ্বাস, যন্ত্রণামুক্তি, এরকম সব আবেগ মিলে মিশে গেলে মনে হয় চেহারা এরকমই দেখায়।

হকি কোচ মীররঞ্জন নেগির জীবনকে সিনেমার ফুটিয়ে তোলা শাহরুখ ‘কবীর’ খান নয়, রবিবার রাতে নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে আলো ঝলমলে, উজ্জ্বল মুখটি অমল মুজুমদারের (Amol Muzumdar)। ঘরোয়া ক্রিকেটের কিংবদন্তি। তিন ফর্ম্যাটে ১৪,৬২৭ রান। ৩৩ সেঞ্চুরি। যার বেশিরভাগটাই এসেছে মুম্বইয়ের হয়ে খেলে। বিশ্বাস করাই কঠিন যে, এত ঈর্ষণীয় রেকর্ড থাকা অমল কোনওদিন ভারতের হয়ে খেলেননি! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থেকেছে তাঁর স্বপ্ন।

কোচ হিসাবে সেই অমল মুজুমদারই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে দিলেন প্রথম আইসিসি ট্রফি। তাঁর প্রশিক্ষণেই ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে ওয়ান ডে ক্রিকেটে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল। যে সাফল্যে আপাত নির্লিপ্ত অমলেরও আবেগ ফুটে বেরচ্ছে।

হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জেতার পরের দিন মেয়েদের কোচ অমল মুজুমদার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। ট্রফি নিয়ে তাঁর পা ধরে প্রণাম করেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। অমল কল্পনাও করতে পারেননি তাঁকে নিয়েও এত উন্মাদনা হবে। বললেন, ‘সবটাই ওদের প্রাপ্তি। আমি পাশে থেকেছি মাত্র। মাঠে নেমে যুদ্ধ করেছে মেয়েরা। এবার বাঁধনহারা উৎসব হবে। আর কোনও বারণ নেই। এই মুহূর্তে আর কোনও শৃঙ্খলা নেই। এই মুহূর্তটা সকলে উপভোগ করুক।’

মুম্বইয়ের হয়ে খেলেছেন দীর্ঘদিন। সুযোগ পাননি ভারতীয় দলে। কোচ হিসাবপে বিশ্বকাপ জিতে কি সব আক্ষেপ মিটল? অমলের উত্তর, ‘মুম্বইয়ের হয়ে আটটি রঞ্জি ট্রফি জিতেছি। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হয়তো পাইনি। কিন্তু এই প্রাপ্তি কোনও অংশে কম নয়। বিশ্বকাপ জেতার প্রাপ্তি আলাদা। এটার সঙ্গে জীবনের অন্য কোনও অপূর্ণতাকে মেলানো যায় না।’

অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি। তবু হাসছেন গুরু অমল। তৃপ্তির হাসি। প্রাপ্তির হাসি। ক্রিকেটার হিসাবে যা পাননি, গুরু হিসাবে সেটাই শোভা পাচ্ছে হাতে। বিশ্বকাপ। পিছনে যেন নীরবে বাজছে বিখ্যাত সেই গান, ‘মওলা মেরে লে লে মেরি জান…’।

(Feed Source: abplive.com)