
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রবিবার, নন্দন চত্বরে, ৩১-তম আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবের সঞ্চালক, অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাত্কারে জানান, ‘বাকিদের হয়ে কথা বলতে পারব না। তবে ঝগড়া, মারামারি যা হয়েছিল তা একমাত্র আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার দ্বারাই মিটবে। এটাই আমার ব্যক্তিগত মতামত।’
উল্লেখ্য ২০২৪-এর জুলাই মাসে পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায় না জানিয়ে বাংলাদেশে শ্যুটিং করেন এবং তা তিনি ডিরেক্টরস গিল্ডের কাছেও লুকিয়ে যান। এই কারণে তিন মাসের জন্য পরিচালক হিসাবে তাঁর কাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। যদিও পরে ঘটনার কথা স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু এরপরেও তাঁকে ব্যান করে ডিরেক্টরস গিল্ড।
প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফ, ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার হিসাবে তাঁকে টিমে রেখে দেন। সেখানেও আপত্তি প্রকাশ করেন ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (Federation of Cine Technician’s Workers of Eastern India) জানান ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস।
ফেডারেশনের এই বাধা নিয়ে ১৩ জন পরিচালক একজোট হয়ে এক দরখাস্ত জারি করেন কলকাতা হাই কোর্টে যার মধ্যে ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অনির্বান ভট্টাচার্য সহ আরও অনেকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে সেই বিষয়েই প্রশ্ন করায় মুখ খুললেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘যা মনোমালিন্য, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি, ঝগড়া, মারামারি হল না কেন, আমি বিশ্বাস করি এবং এখন গত কয়েক দিন ধরেই বার বার বলছি আমি আশাবাদী যে সেটা আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই মিটবে।’
তিনি আরও বলেন যে তিনি এই মুহূর্তে আর কোনো আইনি পদ্ধতি বা আইনি পথে চলতে অনিচ্ছুক এবং ভবিষতেও তিনি কোনো আইনি পন্থা গ্রহন করবেন না। টলিউডের মতো বৃহত্তর পরিবারে এই রকমের সংঘাত ঘটতেই পারে বলে মনে করেন অভিনেতা। ‘আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে’, জানান পরমব্রত।
তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি অবগত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতির অনুপস্থির ব্যাপারে। শনিবার রাতে সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে তাঁর কানে আসে এই খবর।
ইনফর্মেশন অ্যান্ড কালচারাল ডিপার্টমেন্ট (Information and Cultural Affairs Department of West Bengal) – এর তরফ থেকে ৩১-তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের সঞ্চালনার গুরুদায়িত্ব অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-কে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ‘সঞ্চালনায় আমি, যীশু সেনগুপ্ত অথবা জুন মালিয়া থাকে। এই বছরও তার কোনো ব্যাতিক্রম ঘটেনি। চলচ্চিত্র উত্সবের সঙ্গে আমার যোগায়োগ বহু পুরোনো। সিনেমা দেখা এবং সিনেমা দেখতে এসে কিছু ছোটো-খাটো দায়িত্বও পালন করতে চাই আমি স্বেছায়।’
এখন প্রশ্ন উঠছে পরমব্রতর এই যোগদানই কি হতে পারে ফেডারেশনের সভাপতির অনুপস্থির মূল কারণ? পরমব্রত-র এই উক্তির প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত ফেডারেশন অথবা ফেডারশনের সভাপতির তরফ থেকে আসেনি।
(Feed Source: zeenews.com)
