জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং তেহরিক-ই-ইনসাফের (PTI) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান (Imran Khan) বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে (Adiala Jail) বন্দী রয়েছেন। জেল থেকেই তিনি সেদেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তীব্র আক্রমণ করার পর, এবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ক্ষমতাসীন জোট সরকার পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। তিনি ইমরান খানকে ‘যুদ্ধোন্মাদনায় আচ্ছন্ন এক চরমপন্থী’ বলে আখ্যা দেন। তারার বলেন, ইমরান খান ও তাঁর দল দেশকে দেউলিয়া করার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। পাকিস্তানকে দেউলিয়া করতে আইএমএফে (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।
সেনাপ্রধানকে ইমরানের আক্রমণ এবং সেনার পালটা জবাব
ইমরান খান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে তীব্র নিশানা করে অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘জেলে কেমন নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, ”আমাকে সম্পূর্ণ একা রাখা হয়েছে। একটা এমন সেলে রয়েছি, যেখানে চার সপ্তাহ ধরে কোনও মানুষের মুখ দেখিনি। বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।’
বিপর্যয়ের কারণ: ‘মুনিরের নীতিগুলি পাকিস্তানের বিপর্যয়ের কারণ। যে কারণে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।”
পশ্চিমী তোষণ: ‘পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে ওঁর মাথাব্যথা নেই। উনি যা করছেন তা পশ্চিমি বিশ্বকে তুষ্ট করতে। ইচ্ছাকৃত ভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছেন।’
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জবাব:
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী (আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের—আইএসপিআর মহাপরিচালক) ইমরানের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি ইমরান খানকে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক’ বলে তোপ দাগেন।
শরিফ চৌধুরী বলেন, ‘আত্মপ্রেমী ইমরানের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এত বেশি যে, উনি বিশ্বাস করেন আমি যদি ক্ষমতায় না থাকি তাহলে আর কোনও কিছুই থাকতে দেব না।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, যাঁরা কারাবন্দি নেতাকে দেখতে যাচ্ছেন (যেমন তাঁর বোন উজমা খান), তাঁরা আসলে সেনার বিরুদ্ধেই ‘বিষ ছড়াচ্ছেন’।
ইমরান খান বর্তমানে যে জেলে সম্পূর্ণ একা ও নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সেই কথাও উল্লেখ করেছেন।
তথ্যমন্ত্রীর তরফে কারাগারে সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা
সেনার মুখপাত্রের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার কারাবন্দী ইমরান খানের সঙ্গে সব ধরনের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা জানান।
তারারের অভিযোগ: আতাউল্লাহ তারার ইমরান খানকে ‘যুদ্ধোন্মাদনায় আচ্ছন্ন এক চরমপন্থী’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, কারা বিধি অনুযায়ী যেকোনো সাক্ষাতের সময় কারা সুপার উপস্থিত থাকেন এবং কর্মকর্তারা লক্ষ করেছেন যে, সাক্ষাৎ করতে আসা ব্যক্তিরা রাজনৈতিক আলোচনা করছেন ও ইমরানের নির্দেশনা নিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি: তথ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, কারাগারের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্ষমতাসীন দলের অভিযোগ: ক্ষমতাসীন জোট সরকার ইমরানের বিরুদ্ধে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধ্বংসের চেষ্টা এবং রাষ্ট্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তারার দাবি করেন, ‘ইমরান খান ও তাঁর দল দেশকে দেউলিয়া করার দিকে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। পাকিস্তানকে দেউলিয়া করতে আইএমএফে (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ৯ মে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল।’
পিটিআইয়ের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই
আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট জানিয়েছেন, পিটিআইয়ের সঙ্গে এখনো সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘যারা বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাসবাদ বা চরমপন্থী চিন্তাধারা ছড়ায়, তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’ তবে তিনি যোগ করেন, পিটিআই ক্ষমা চাইলে ও অনুশোচনা করলে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেন যে, ইমরান খানের বোন উজমা খানের সাম্প্রতিক ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার সাবেক ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।’
(Feed Source: zeenews.com)
