
কলকাতা: ‘জাগো মা’ গান গাইতে গিয়ে বাধা পেয়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী (Lagnajita Chakraborty)। আর এবার, এই ঘটনায় সঙ্গীতশিল্পীকে সমর্থন করার জন্য নাকি শো বাতিল হয়েছে আরেক সঙ্গীতশিল্পীর! সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা একটি পোস্ট করে এমনটাই দাবি করেছেন সঙ্গীতশিল্পী পল্লব কীর্তনিয়া (Pallab Kirtania)। শিল্পী জানিয়েছেন, বর্ধমানের ভাতারে একটি বইমেলায় শিল্পী হিসেবে অনুষ্ঠান করার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তাঁর সেখানে গিয়ে গান পরিবেশন করার কথা ছিল। কিন্তু পল্লব কীর্তনিয়ার অভিযোগ, শাসকের প্রবল চাপে নাকি তাঁরা শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পল্লব কীর্তনিয়া লিখেছেন, ‘ ‘জাগো মা’ শীর্ষক একটি গান গাওয়ার পরে, ভগবানপুরে কোনও মঞ্চে লগ্নজিতাকে সেক্যুলার গান গাইতে বলে অপমান করায়, গ্রেফতার হয়েছেন এক ব্যক্তি। এ নিয়ে মিডিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে। এটা যে ঘোরতর অন্যায় তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হওয়াই উচিত। আমার কাছে দুটো টিভি চ্যানেল থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছিল আমি আমার প্রতিবাদ জানিয়েছি, এখানেও তীব্র নিন্দা করছি এবং একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে লগ্নজিতার পাশে দাঁড়াচ্ছি।
কিন্তু এই প্রসঙ্গে এখানে অন্য একটা ঘটনার কথা না উল্লেখ করে পারছি না। বর্ধমানের ভাতারে একটি বইমেলায় আমাকে শিল্পী হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন উদ্যোক্তারা। ২৫ ডিসেম্বর আমার সেখানে গান গাইবার কথা ছিল। কিন্তু শুনলাম শাসকের প্রবল চাপে শেষ মুহূর্তে আমার অনুষ্ঠান তাঁরা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনা গত দশ বছরে কত অসংখ্যবার যে হয়েছে আমার সঙ্গে তার ইয়ত্তা নেই। এই যে দেখুন, গানমেলা শুরু হচ্ছে। কত বছর সেখানে ডাক পাই না! শুধু সেখানে কেন, যে কোনও সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠানেই আমি কালো তালিকাভূক্ত। যে কোনও সংগঠন আমাকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলে প্রবল বাধাপ্রাপ্ত হবেন।
লগ্নজিতাকে যে ভাষায় অপমান করা হয়েছে, তার চেয়ে ঢের ঢের তিন অক্ষর চার অক্ষরের গালাগালি শুনেছি এমনকি এই খোদ কলকাতার রবীন্দ্রসদন মঞ্চে। শারীরিক নিগ্রহের হুমকি ছেড়েই দিলাম। এ নিয়ে আমি বলি না আর কিছুই কারণ আমি জানি শাসকের বিরুদ্ধে গাইলে, শাসক প্রত্যাঘাত করবেই। আর যখন মূল ইন্ডাস্ট্রির শিল্পীকূল থেকে আমি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, নেহাতই একা! তাই সইতে হবে একাই। তবে এটুকু বলা ভাল, আজ যারা মঞ্চে নিয়মিত অনুষ্ঠানে ডাক পাচ্ছেন তারা শাসকের সুনজরে আছেন বলেই পাচ্ছেন। শিল্পীর স্বাধীনতা আছে কতটুকু সেটা শাসকের সুনজরের বলয়ে থেকে বোঝা অসম্ভব। শাসকের এই সকল চুরি, দুর্নীতি, ফেরেব্বাজি, ধর্মবাজি নিয়ে একটা গান করলে তখন বোঝা যাবে শিল্পীর স্বাধীনতা কতটুকু এ রাজ্যে। লগ্নজিতার পাশে এসে সঙ্গত কারণে দাঁড়িয়েছেন যে শিল্পীরা তাঁদের আমার পাশে দাঁড়াতে বলার মত দেউলিয়া হয়ে যাইনি এখনও। তবে চুরির সাম্রাজ্য বিস্তার করা এই রাজ্যে সমাজের শিরদাঁড়া শিক্ষাব্যবস্থাকেও ধ্বংস করে দিল একটা নির্বাচিত সরকার! দুর্নীতি করে করে, পকেট ভরে ভরে আস্ত যে একটা প্রজন্মকে শেষ করে দিল, অন্তত তাঁদের জন্য দোহাই একটা গান করুন। নিজের বিবেকের পাশে দাঁড়ান, অন্তত একটিবার!’
