পুনরায় গ্রিনল্যান্ড দাবি ট্রাম্পের, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সাসপেন্ড করল EU পার্লামেন্ট

পুনরায় গ্রিনল্যান্ড দাবি ট্রাম্পের, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সাসপেন্ড করল EU পার্লামেন্ট
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমেরিকার অবস্থানে চড়ছে পারদ। এবার দাভোসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট। আমেরিকার সঙ্গে EU বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বারবার হুঁশিয়ার দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত বলে খবর। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু দিন ধরেই সরব ট্রাম্প। তারপর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গী দেশগুলির চাপানউতোর চলছে। এমনকী ইংল্যান্ড-সহ ইউরোপের আটটি দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে এদিন দাভোসে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর একটি বিবৃতি জারি করেছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ার বার্ন্ড ল্যাং। তিনি বলেছেন, “EU-র সদস্য রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং শুল্ককে একটি জবরদস্তিমূলক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে” আমেরিকা এবং এর ফলে “EU-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যদ্বাণী ক্ষুন্ন হচ্ছে।”

দাভোসে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কী বললেন ট্রাম্প ?

এদিন দাভোসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা ছাড়া কোনও দেশ বা একাধিক দেশের গোষ্ঠী মিলেও গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। আমাদের বিশাল ক্ষমতা। মানুষ যা ভাবে তার থেকেও বেশি। আমার মনে হয়, দুই সপ্তাহ আগেই ভেনিজুয়েলায় সকলে সেটা বুঝে গেছেন।” তাঁর সংযোজন, “আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেখেছি, যখন মাত্র ছয় ঘণ্টা যুদ্ধের পর ডেনমার্ক জার্মানির কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং নিজেদের বা গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে পড়েছিল। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়েছিল। আমরা গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলকে ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা অনুভব করেছি। অনেক খরচ করে ধরে রাখার জন্য আমাদের নিজস্ব বাহিনী পাঠিয়েছি। ওদের একাজ করার সুযোগ ছিল না। ওরা চেষ্টা করেছিল। ডেনমার্ক সেটা জানে। আমরা আক্ষরিক অর্থেই ডেনমার্কের জন্য গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি স্থাপন করেছি। আমরা ডেনমার্কের জন্য লড়াই করেছি। আমরা অন্য কারো জন্য লড়াই করছিলাম না। আমরা ডেনমার্কের জন্য এটা বাঁচাতে লড়াই করছিলাম। বিশাল, সুন্দর বরফের একটা টুকরো। এটাকে স্থলভাগ বলা কঠিন। এটা বরফের একটা বিশাল টুকরো। কিন্তু আমরা গ্রিনল্যান্ডকে বাঁচিয়েছি এবং আমাদের গোলার্ধে শত্রুদের পা রাখা থেকে সফলভাবে বিরত রেখেছি…।”

এরপরই NATO-র কথা টেনে আনেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “একমাত্র আমেরিকাই বিশাল এই স্থলভাগকে, বিশাল এই বরফের টুকরোকে সুরক্ষা দিতে পারে, এর উন্নতি করতে পারে এবং এমনভাবে তৈরি করতে পারে যাতে এটি ইউরোপের জন্য ভাল হয়, ইউরোপের জন্য নিরাপদ হয় এবং আমাদের জন্য ভাল হয়। এই কারণেই আমি আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তাৎক্ষণিক আলোচনার দাবি জানাচ্ছি, ঠিক যেভাবে আমরা আমাদের ইতিহাস জুড়ে আরও অনেক অঞ্চল অধিগ্রহণ করেছি, যেভাবে অনেক ইউরোপিয় দেশ…এটা NATO-র পক্ষে হুমকির কারণ হবে না। এটি সমগ্র জোট, ন্যাটো জোটের নিরাপত্তাকে ব্যাপকভাবে উন্নত করবে। ন্যাটো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খুবই অন্যায্য আচরণ করেছে। আমরা অনেক কিছু দিই এবং বিনিময়ে আমরা খুব কমই পাই। আমি বহু বছর ধরে ন্যাটোর সমালোচক। আমি এখন পর্যন্ত অন্য যে কোনও প্রেসিডেন্টের চেয়ে ন্যাটোকে সাহায্য করার জন্য বেশি কিছু করেছি। আমার প্রথম মেয়াদে যদি আমি জড়িত না হতাম, তাহলে ন্যাটো থাকত না।”

(Feed Source: abplive.com)