জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘চুপচাপ গা ছুঁয়ে যাওয়া এক আবেগ’– ঠিক এই ভাষাতেই নিজের অনুভূতিকে ব্যক্ত করলেন রাণী মুখোপাধ্যায়। সিনেমায় ৩০ বছরের সফরের গুরুত্বপূর্ণ বছরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির অন্যতম বন্দে মাতরম পুরস্কার (পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের ‘অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স’) পেয়ে আপ্লুত অভিনেত্রী।
পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রানী বলেন, ‘আজ আমার হৃদয় এমন আবেগাপ্লুত, যা শব্দে ধরা কঠিন। অভিনয়ে ৩০ বছরের মাথায় রাজ্যপালের অ্যাওয়ার্ড অফ এক্সেলেন্স—বন্দে মাতরম পুরস্কার—পাওয়া সত্যিই আমাকে ভীষণ নত করেছে। এই সম্মান শুধু আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, এটা যেন আমার শিকড়ে ফিরে আসা—বাংলার তরফে এক উষ্ণ আলিঙ্গন। আশা করি, আপনাদের গর্বিত করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’
তিনি আরও জানান, হিন্দি সিনেমাতেই তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কাটলেও তাঁর শিকড় চিরকালই বাঙালি।
‘আমার মূল্যবোধে, শৃঙ্খলায়, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসায়—সবখানেই বাংলা রয়ে গেছে। জীবনকে দেখার যে দৃঢ়, উষ্ণ অথচ সংযত দৃষ্টিভঙ্গি, সেটাও এই মাটিরই দান।’
রানীর কথায় উঠে আসে তাঁর পরিবার ও বিশেষ করে তাঁর মায়ের কথা
‘আমি এমন এক পরিবারে বড় হয়েছি, যেখানে সংস্কৃতি ছিল দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। গান, সিনেমা, গল্প, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা—সবটাই চলত ঘরের ভেতর। আর সেই জগতের কেন্দ্রে ছিলেন আমার মা। আমার বাবা-মা, গর্বিত বাঙালি হিসেবে আমাকে শিখিয়েছেন—শক্তি মানেই চিৎকার নয়। মর্যাদা, আত্মসম্মান আর শান্ত ভঙ্গিতে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার শিক্ষা পেয়েছি তাঁদের থেকেই। আমার সাহস, আমার সিদ্ধান্ত—সবকিছুর উৎস ওঁদের জীবনযাপন। এই সম্মান যেমন আমার, তেমনই ওঁদেরও।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আজ সেখানে থাকতে না পারায় আমি সত্যিই দুঃখিত। তবু হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ—পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির একটি দিয়ে আমাকে সম্মানিত করার জন্য।’
বাংলার ঐতিহ্য প্রসঙ্গেও আবেগী রানী
‘চিন্তক, কবি, বিদ্রোহী ও শিল্পীর দেশ বাংলা। রবীন্দ্রনাথ থেকে সত্যজিৎ—এই মাটি আমাদের ভাবনা আর অনুভূতির ভাষা বদলে দিয়েছে। সেই বাংলার স্বীকৃতি পাওয়া আজীবনের সম্পদ।’
তিনি জানান, কৃতজ্ঞতা ও গর্বের সঙ্গেই এই সম্মান গ্রহণ করছেন তিনি—এবং ভারতীয় সিনেমার প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা আরও দৃঢ় হচ্ছে।
অন্যদিকে, রানীর কেরিয়ারের ৩০ বছর পূর্তির বছরেই মুক্তি পেতে চলেছে মরদানি 3। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অভিরাজ মিনাওয়ালা, প্রযোজনায় আদিত্য চোপড়া। সামাজিক বাস্তবতার কঠিন দিক তুলে ধরার ধারাবাহিকতায় ‘মরদানি’ ও ‘মরদানি 2’-এর পর, নতুন ছবিতেও সমাজের আর এক অন্ধকার অধ্যায়কে সামনে আনতে চলেছেন নির্মাতারা।
ভারতের একমাত্র সফল মহিলা-কেন্দ্রিক কপ ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে ‘মারদানি’ ইতিমধ্যেই নিজের জায়গা পাকা করেছে। ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘মরদানি ৩’। আর সেই সঙ্গেই, তিন দশকের গৌরবময় কেরিয়ার উদ্যাপনে গোটা ইন্ডাস্ট্রিই যেন রানী মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে উৎসবের মেজাজে।
(Feed Source: zeenews.com)
