ডাবল সেঞ্চুরি করে নায়ক সুদীপ, সুমন্তর ৮১, রঞ্জি ট্রফিতে চাপ কাটিয়ে সেমিফাইনালের পথে বাংলা

ডাবল সেঞ্চুরি করে নায়ক সুদীপ, সুমন্তর ৮১, রঞ্জি ট্রফিতে চাপ কাটিয়ে সেমিফাইনালের পথে বাংলা
কল্যাণী: রঞ্জি ট্রফিতে (Ranji Trophy) ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছিলেন। চলতি টুর্নামেন্টে একটা সময় ৫ ইনিংসে মাত্র ১২ রান করেছিলেন। তবে তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।

সুদীপ কুমার ঘরামির ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল হরিয়ানার বিরুদ্ধে ম্যাচে। লাহলিতে তিনি ৬১ রান করেছিলেন দ্বিতীয় ইনিংসে। আর কেরিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মোক্ষম সময়ে। অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে প্রবল চাপের মুখে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি নৈহাটির ক্রিকেটারের। সঙ্গত করলেন সুমন্ত গুপ্ত। দুই ক্রিকেটার মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১৬৫ রান যোগ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। ওই পার্টনারশিপেই ১৫৩/৫ থেকে ৩১৮/৬ স্কোরে পৌঁছে যায় বাংলা। সব মিলিয়ে তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৪১৮/৬। অন্ধ্র প্রদেশের চেয়ে ১২৩ রানে এগিয়ে গিয়েছে বাংলা। ম্যাচের এখনও দুদিন বাকি। সব কিছু ঠিকঠাক চললে এখান থেকে বাংলার সেমিফাইনালে উঠতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

সুদীপ কুমার ঘরামি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কেরিয়ারের প্রথমবার ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত রয়েছেন। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে তৃতীয় দিনের শেষে অন্ধ্র প্রদেশের চেয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলা এগিয়ে ১২৩ রানে। হাতে এখনও চার উইকেট। অন্ধ্র প্রদেশ প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ২৯৫। বাংলা তৃতীয় দিনের শেষে ১৪৬ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪১৮ রান তুলেছে।

ব্যাট করতে নেমে বাংলার শুরুটা ভাল হয়নি। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সুদীপ কুমার ঘরামি ও সুমন্ত গুপ্ত ৩৩৮ বলে ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচে ফেরান বাংলাকে। রবিবার মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সামান্য পরেই অন্ধ্রের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে মূল্যবান লিড আদায় করে নেয় বাংলা। এরপর সুমন্ত ৮১ রান করে ফিরলেও অবিচ্ছেদ্য সপ্তম উইকেট জুটিতে ঘরামি ও শাকির হাবিব গাঁধী ২৪৭ বলে ১০০ রান যোগ করেছেন।

সুদীপ ৪৫১ বলে ২১৬ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর ইনিংস সাজানো ২৭টি বাউন্ডারি দিয়ে। সুমন্ত ১৬৭ বলে ৮১ করেছেন। তিনি মেরেছেন ৯টি চার ও একটি ছয়। শাকির হাবিব গাঁধী ১১৩ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত। রবিবার দিনভর ছিল বাংলার দাপট। সারাদিনে অন্ধ্র প্রদেশের বোলাররা মোটে একটি উইকেটই নিতে পেরেছেন।

ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা হলেও কল্যাণীতে অলৌকিক কিছু না হলে বাংলার সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া কার্যত সময়ের অপেক্ষা।

(Feed Source: abplive.com)