
মুম্বই: ম্য়াচ জিতিয়ে সঞ্জু স্যামসন মাঠ ছাড়ছেন..আর সূর্যকুমার যাদব আরও একবার টুপি খুলে তাঁকে অভিবাদন জানাচ্ছেন। এই ছবির কি রিপিট টেলিকাস্ট দেখা যাবে? বা হতেই পারে, চরিত্রগুলো বদলে গেল, নায়ক বদলে গেল…কিন্তু জার্সির রংটা যেন নীলই থাকে। এই আশা নিয়েই আজ গোটা ভারতবাসী চোখ রাখবে ওয়াংখেড়ের ২২ গজে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের সামনে আজ ইংল্যান্ড। প্রথম সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার রাতে কিউয়িরা বাজিমাত করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে। আজ দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট হিসেবে কারা শেষ হাসি হাসবে? ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়েতে তারই উত্তর মিলবে আর কিছুক্ষণ পরেই।
চলতি টুর্নামেন্ট ভারতের জন্য দুর্দান্ত গিয়েছে এমনটা বলা যায় না। গ্রুপ লিগে যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডসের মত দ্বিতীয় সারির দলগুলোও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। তার তুলনায় বলতে গেলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই একপেশে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত। এরপর সুপার এইটে উঠেই প্রথম ধাক্কা আসে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হার, সেমির দৌড়েই কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিল গৌতম গম্ভীরের ছেলেদের। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না..হারকার জিতলে ওয়ালো কো বাজিগর কেহতে হে… ঠিক সেটাই হল। জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টানা দুটো ম্য়াচ জিতে শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল টিম ইন্ডিয়া। দলের ব্যাটিং অর্ডারে অভিষেকই একমাত্র মাথাব্যথা। কারণ গোটা টুর্নামেন্টে প্রাপ্তি বলতে একটি মাত্র অর্ধশতরান। স্পিন, পেস সবকিছুর সামনেই বেশ নড়বড়ে লাগছে। কুড়ির ফর্ম্য়াটে বিশ্বের ১ নম্বর ব্যাটার যেন ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মার ছায়া হয়েই থেকে গিয়েছেন পুরো বিশ্বকাপে। যদিও টিম ম্য়ানেজমেন্ট তাঁর ওপর আস্থা রেখেই চলেছে। ওয়াংখেড়েতে মাস্ট উইন ম্য়াচে ভারতীয় একাদশে রিঙ্কুকে নিয়ে এসে অভিষেককে বসানোর সিদ্ধান্ত নেবে কি টিম ম্য়ানেজমেন্ট? সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই আওয়াজ উঠছে, এছাড়া গত কয়েকদিন নেটে যেভাবে রিঙ্কু ব্যাট করেছেন, তাতে এই সম্ভাবনাও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাকি দল মোটামুটি সেট। বদলের কোনও ইঙ্গিত নেই।
ইংল্যান্ডেরও সমস্য়ার কারণ তাঁদের ওপেনিং জুটি জস বাটলার ও ফিল সল্টের ফর্ম। টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে দুজনেই বিধ্বংসী ব্যাটার। তবে দুজনেই ব্যর্থ নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে। সেক্ষেত্রে বুমরা ও অর্শদীপ নতুন বলে পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই যদি এই জুটিকে তুলে নিতে পারেন, তাহলে চাপ বাড়বে ইংল্যান্ডের ওপর। ম্য়াকালামের দলের ব্যাটিং মূলত লোয়ার-মিডল অর্ডারে। ক্যাপ্টেন ব্রুক ক্রিজে সেট হয়ে গেলে তাঁকে আটকানো মুশকিল। আর রয়েছেন স্যাম কারান ও উইল জ্যাকস। লম্বা লম্বা ছক্কা হাঁকাতে পারেন, বল হাতেও প্রতিপক্ষকে সমস্যায় ফেলতে ওস্তাদ এই দুই তরুণ। পেস বিভাগে আর্চারের অভিজ্ঞতাও ঈশান, তিলকদের জন্য় চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে মুখোমুখি মহারণেও মেন ইন ব্লুজরাই এগিয়ে। মোট ২৯ বারের সাক্ষাতে ১৭ বার জিতেছে টিম ইন্ডিয়া ও ১২ বার ইংল্যান্ড। আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ২০২২ ও ২০২৪ এর সেমিতেও আমনে সামনে হয়েছিল এই দুটো দল। প্রথমবার ইংল্যান্ড জয় পেলেও দ্বিতীয় সাক্ষাতে রোহিতের নেতৃত্বে শেষ হাসি হেসেছিল ভারত। তবে অতীত ঘেঁটে লাভ নেই। তাই নতুন লড়াইয়ে নেমে মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতেই বধ্যপরিকর থাকবে সূর্যকুমারের দল।
(Feed Source: abplive.com)
