
সোমবার বিকাল (আমেরিকায়) নাগাদ ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে একটা মন্তব্যের পরই হুড়মুড়িয়ে কমতে থাকে তেলের দাম। এদিন বিকেলের সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা যায়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইতিমধ্যেই বড় লক্ষ্য অর্জন করেছে। যা পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ।” যদিও কোনও স্পষ্ট সময় তিনি বেঁধে দেননি।
সোমবার বাজার খোলার পর আমেরিকান ক্রুড অয়েলের দাম একলাফে বেড়ে যায় ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারের কাছাকাছি। তারপর ধীরে ধীরে কমতেও থাকে এই দাম। যদিও আমেরিকান সময় বিকাল ৪টের পর (ভারতীয় সময় রাত প্রায় ১টা ৩০) মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম আরও পড়ে ব্যারেল প্রতি নেমে আসে প্রায় ৮৬ ডলারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দামও পড়ে যায় ৮৯ ডলারের নীচে।
তবে শুধুমাত্র তেলের বাজারে এমন হয়েছে, এই কথা বললে খুবই ভুল বলা হবে। কারণ মেটা, অ্যালফাবেট (গুগলের প্যারেন্ট কোম্পানি), এনভিডিয়া বা টেসলার মতো সংস্থার শেয়ারের দামও শুরুতে পড়ে গেলেও বাজার বন্ধের সময় চড়চড়িয়ে বেড়ে গিয়েছে। ফলে, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রভাব যে সে দেশের শেয়ার বাজারে পড়েছে, এই কথা বলাই বাহুল্য।
যদিও এই বছরের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে বেড়েছে গাড়ির তেলের খরচও। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকার হামলার পর থেকে লের দাম বেড়েছে চড়চড়িয়ে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে, WTI তেলের দামও বেড়ে গিয়েছে প্রায় ৭৮ শতাংশ।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোটা বিশ্বের প্রায় ২৫ থেকে ২৫ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। এ ছাড়াও লিক্যুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসেরও প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয় এই পথ দিয়ে। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। আর সেই কারণেই ব্যাহত হয়েছে সরবরাহ। আর তারপরই এইভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
(Feed Source: abplive.com)
