আমেরিকার অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমানে হামলা ইরানের, অবতরণের কথা স্বীকার

আমেরিকার অত্যাধুনিক F-35 যুদ্ধবিমানে হামলা ইরানের, অবতরণের কথা স্বীকার
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ যুদ্ধের ২১তম দিন। সংঘাত মেটার কোনও লক্ষণই নেই।উল্টে আরও ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। ইজরায়েল-আমেরিকার ঘাঁটিতে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালিয়ে যাচ্ছে ইরাক। ইজরায়েলের হাইফায় তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করা হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে আমেরিকার F-35 যুদ্ধবিমানে হামলা চালিয়েছে তাঁরা। F-35 যুদ্ধবিমানের জরুরি অবতরণের কথা স্বীকার করেছে আমেরিকা। আমেরিকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলির মধ্যে F-35 অন্যতম।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত অব্যহত। নিজেদের গ্যাস ফিল্ডে হামলার বদলা নিয়েছে ইরান। প্রতিশোধ নিতে ইতিমধ্যেই কাতারে বিশ্বের বৃহত্তম LNG সরবরাহ কেন্দ্র রাস লাফান এবং রিয়াধের তৈল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, ইজরায়েলে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। পাল্টা ইরানের নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। লেবাননেও আক্রমণ জারি রেখেছে ইজরায়েল। পশ্চিম এশিয়াজুড়ে সংঘর্ষে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলিতে একের পর এক হামলার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। বর্তমানে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতে। এদিন সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে বিবৃতি দিলেন বিদেশমন্ত্রী। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নয় বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, এই নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। এই ইস্যুতে এদিন সংসদের ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ দেখাল কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোধী দল। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের রেশ ইতিমধ্য়েই ভারতে এসে পড়েছে..এক ধাক্কায় ভারতে ঘরোয়া রান্নার গ্য়াস ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। হু হু করে পড়ছে শেয়ার বাজার। ডলারের তুলনায় টাকা বেনজিরভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে।

মোদি সরকার দাবি করছে, এখনও অবধি কোনও সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তেল কিংবা গ্য়াসের কোনও অভাব নেই। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, বাস্তব সম্পূর্ণ অন্য় কথা বলছে।তাদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করে, দেশকে সঙ্কটে ঠেলে দিচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়েই এদিন সংসদের বাইরে সোচ্চার হয় বিরোধীরা। বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল সহ বিরোধী দলগুলি।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার রাজ্যসভা ও লোকসভায় বিবৃতি দেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য চলাকালীন লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস সহ বিরোধীরা। বিদেশমন্ত্রী  এস জয়শঙ্কর বলেন, ভারত শান্তির পক্ষে এবং আলোচনা ও কূটনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। আমরা উত্তেজনা হ্রাস, সংযম এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষে। সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে আগে। এই লক্ষ্যে আমরা সেখানকার সরকারের সঙ্গে সাথে কাজ চালিয়ে যাব। জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য-সহ আমাদের জাতীয় স্বার্থ সবসময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

(Feed Source: abplive.com)