শুভপম সাহা: যুবভারতীতে শুক্রবারের সন্ধ্যায়, খেলা শুরুর আগে গুগলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং মুম্বই সিটি এফসি-র মুখোমুখি পরিসংখ্যান বলল, আইএসএলে ১২ বারের সাক্ষাতে ৭ বার মুম্বই জিতেছিল| একবার মোহনবাগান পেরেছিল মুম্বইকে হারাতে| চারবার ড্র| সবুজ-মেরুন খুব ভালো ভাবেই জানা ছিল যে, পিটার ক্র্যাটকির মুম্বই কঠিন দল| সের্জিয়ো লোবেরাদের ম্যাচ মোটেই সহজ হবে না| প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে, লোবেরো বলেছিলেন যে, ভালো দলের বিরুদ্ধে ৩ পয়েন্ট নিয়েই বিরতিতে যাবেন| তাঁর ইচ্ছাপূরণ হল না| গত ম্যাচে বেঙ্গালুরুর কাছে পয়েন্ট খুইয়ে, এদিন মুম্বইয়ের কাছে হেরেই গেল!
খেলার প্রথম কুড়ি মিনিটে বলার মতো কোনও রসদ ছিল না| তবে মাঠের আবহাওয়া ছিল বেশ মনোরম| প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় নিমেষে হারিয়ে গিয়েছিল শহরের গরম| তবে খেলাতেও উষ্ণতা ছড়ানোর মতো কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না| তবে ঠিক ২২ মিনিটে একটা ঝটকা| আচমকাই মুম্বইয়ের দ্রুত গোলমুখী আক্রমণ লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে থ্রু বল পেয়ে গোলের লক্ষ্যে ছুটেছিলেন, বিশাল কাইথকে ওয়ান-টু-ওয়ান পেয়েও চিপ করে বল জালে জড়াতে পারেননি তিনি| কাইথ এগিয়ে এসে বল রুখে দেন ঠিকই, তবে বল বক্সের মধ্যেই থেকে যায়। সেই সুযোগে আকাশ মিশ্রা ফাঁকা জালে বলটি ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে হেড করে বলটি ক্লিয়ার করে মেহতাব সিং মোহনবাগানকে বাঁচিয়ে দেন অবধারিত গোল খাওয়া থেকে|
মুম্বইয়ের গোল না পাওয়ার আক্ষেপ পাঁচ মিনিটেই পুষিয়ে দেন নুফল| মোহনবাগানের ডিফেন্স এফোঁড়-ওফোঁড় করে ঢুকে পড়েন জনি কাউকো| তাঁর চেনা লম্বা মাপা পাস, বাগানের চার ডিফেন্ডারকে নীরব দর্শক বানিয়ে নুফলের কাছে চলে যায়| কেরলের উইঙ্গার গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করলেন না| যদিও কাউকো চাইলেই শট নিতে পারতেন, তবে ফিনল্যান্ডের হয়ে ইউরো কাপ খেলা তারকা, গোল না করে করিয়ে বোঝালেন, কেন তিনি মাঝমাঠের মহাতারকা| ৪৪ থেকে ৪৬ মিনিটের মধ্যে মুম্বই গোল করার একাধিক সুযোগ পেয়ে গেছিল| তবে গোল আর পোস্টের মাঝে কাইথ ব্যবধান গড়ে দিয়েছিলেন|
প্রথমার্ধে ম্যাচ বেশ একপেশেই ছিল| ম্যাকলারেন সেভাবে ছাপ রাখতে পারেননি| অন্যদিকে মুম্বই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল| তা কাজেও লাগিয়েছিল দারুণ ভাবে। দিয়াজ-অর্টিজ যুগলবন্দি নজর কেড়েছেন নীল জার্সিতে| লিস্টন, থাপা ও কামিংস তুলনামূলক ভালো খেলেছেন| দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের মধ্যে কামব্যাকের সেই আগুনটাও পাওয়া গেল না| আট মিনিট অতিরিক্ত পেয়েও মোহনবাগান ব্যবধান কমাতে পারল না| ৯৮ মিনিটে মোহনবাগান সরাসরি ফ্রি-কিক পেয়েছিল| দিমি বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে, আশার সব আলো নিভিয়ে দেন| এদিন রবিনহো ও আলবের্তো চোট সারিয়ে মাঠে ফিরেও কোনও ছাপ ফেলতে পারলেন না| আর মোহনবাগানের রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন নয়, থাকবে প্রশ্নমালা| অধিনায়ক শুভাশিস বসু যে ফুটবল খেললেন, তা চোখে দেখা যায় না| ম্যাচে একাই পার্থক্য় গড়ে দিলেন মোহনবাগানের প্রাক্তনী জনি কাউকো। তবে মাত্র একটা গোল শোধ করতে না পারা নিঃসন্দেহে উদ্বেগে রাখবে মোহন সমর্থকদের।
মোহনবাগানকে টপকে, ৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে মুম্বই চলে গেল লিগ শীর্ষে| মুম্বই সেই কঠিন গাঁট হয়েই থেকে গেল মোহনবাগানের কাছে| ১৪টি ক্লাবকে নিয়ে ৯১ ম্যাচের সিঙ্গল-লেগ রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটে এবার হচ্ছে আইএসএল| ৯১ ম্যাচের শেষে, যে দলের সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট থাকবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে| আপাতত ইন্টারন্যাশনাল ব্রেক| আগামী ৪ এপ্রিল মোহনবাগান ফের মাঠে নামবে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে|
(Feed Source: zeenews.com)
